পুরীর জগন্নাথ মন্দিরের তৃতীয় সিঁড়িতে পা দিলেই সর্বনাশ! কোন অলৌকিক সত্যি লুকিয়ে আছে এর পিছনে?
নিজস্ব সংবাদদাতা
২৯ জুন ২০২৬ ১৫ : ১৫
শেয়ার করুন
1
10
পুরীর জগন্নাথ মন্দিরের প্রবেশপথের ২২টি সিঁড়ির মধ্যে তৃতীয় সিঁড়িটি নিয়ে ভক্তদের মধ্যে এক অদ্ভুত কৌতূহল ও ভক্তি কাজ করে।
2
10
মন্দির দর্শনে আসা পুণ্যার্থীদের অনেকেই সচেতনভাবে এই তৃতীয় সিঁড়িটি এড়িয়ে চলেন। এই বিশেষ সিঁড়িটির নাম ‘যমশিলা’।
3
10
পৌরাণিক কাহিনী অনুসারে, মৃত্যুর দেবতা যমরাজ একসময় জগন্নাথ দেবের কাছে এসে আক্ষেপ করেছিলেন যে, মন্দিরে দর্শনের পর ভক্তরা সরাসরি মোক্ষ লাভ করছেন, ফলে যমলোকে আর কেউ আসছেন না।
4
10
তখন জগন্নাথ দেব যমরাজকে নির্দেশ দেন মন্দিরের এই তৃতীয় সিঁড়িতে অবস্থান করতে। সেই থেকে এই সিঁড়ি ‘যমশিলা’ নামে পরিচিত।
5
10
ধর্মীয় বিশ্বাস অনুযায়ী, মন্দির থেকে বেরিয়ে আসার সময় কেউ যদি ভুলবশত এই সিঁড়িতে পা রাখেন, তবে তাঁর সকল পুণ্য কর্ম নষ্ট হয়ে যায় এবং তাঁকে যমরাজের মুখোমুখি হতে হয়।
6
10
তাই ভক্তরা অত্যন্ত সতর্কতার সঙ্গে এই সিঁড়িটি ডিঙিয়ে যাতায়াত করেন।
7
10
পুরীর জগন্নাথ ধামের মাহাত্ম্য অপরিসীম, আর এই রহস্যময় ঐতিহ্যের সঙ্গে জড়িয়ে রয়েছে লক্ষ লক্ষ ভক্তের বিশ্বাস।
8
10
জগন্নাথ দেবের স্নানযাত্রা বা দেবস্নান পূর্ণিমা জ্যৈষ্ঠ মাসের পূর্ণিমা তিথিতে পালন করা হয়। এই বিশেষ দিনে ভগবান জগন্নাথ, বলভদ্র এবং দেবী সুভদ্রার স্নান অনুষ্ঠান হয়। বিশ্বাস, এই শুভ দিনে দেবতাদের দর্শন করলে সমস্ত পাপ দূর হয়।
9
10
ভগবান জগন্নাথ হলেন এই উৎসবের প্রধান দেবতা। তাঁকে ভগবান শ্রীকৃষ্ণের রূপ হিসেবে মানা হয়। জগন্নাথের বড় ভাই বলভদ্র শক্তি ও কৃষির প্রতীক। জগন্নাথ ও বলভদ্রের বোন সুভদ্রা শান্তি, মমতা ও সুরক্ষার প্রতীক। তাঁকে পদ্ম সাজে সাজানো হয়।
10
10
ভগবান বিষ্ণুর চক্রের প্রতীক সুদর্শনও এই উৎসবে অংশ নেন। তাঁকে অশুভ শক্তি দূরকারী হিসেবে পূজা করা হয়। স্নানযাত্রা শুধু একটি ধর্মীয় অনুষ্ঠান নয়, এটি ভক্তি, সংস্কৃতি ও ঐতিহ্যের এক অপূর্ব মিলন।