আজকাল ওয়েবডেস্ক: নিজেরই বিধানসভা কেন্দ্রে বিজয়া সম্মেলনী অনুষ্ঠানে ডাক পেলেন না খোদ ভরতপুরের বিধায়ক হুমায়ুন কবীর। মঙ্গলবার ভরতপুর ১ এবং ২ ব্লকের ব্লক সভাপতিদের উদ্যোগে বিজয়া সম্মেলনী অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয় ভরতপুর বিধানসভার দুটি এলাকায়। সেখানে উপস্থিত ছিলেন বহরমপুরের সাংসদ ইউসুফ পাঠান, তৃণমূলের বহরমপুর-মুর্শিদাবাদ সাংগঠনিক জেলা সভাপতি অপূর্ব সরকার সহ তৃণমূলের একাধিক শীর্ষ নেতৃত্ব। কিন্তু অনুষ্ঠানে দেখা গেল না খোদ ভরতপুরের তৃণমূল বিধায়ককে। 

 

নিজেরই বিধানসভা কেন্দ্রে দলের বিজয়া সম্মিলনী অনুষ্ঠানে ডাক না পেয়ে একরাশ ক্ষোভ উগড়ে দিয়ে হুমায়ুন কবীর বুধবার বলেন, ''বিজয়া সম্মিলনী হচ্ছে একেবারে তৃণমূল স্তরের কর্মী সমর্থকদের সাথে বন্ধন দৃঢ় করার একটি প্রয়াস। নিয়ম অনুসারে বিধানসভা কেন্দ্রের বিধায়কদের সাথে ব্লক সভাপতিরা যৌথভাবে এই অনুষ্ঠানের আয়োজন করবে। কিন্তু সেই নিয়মকে এখন বুড়ো আঙ্গুল দেখিয়ে যে যার মত করে এই বিজয়া সম্মিলনীর আয়োজন করছে।" 

 

তিনি আরও বলেন, "এটা তো বিজয়া সম্মিলনী নয়, এটা বিরিয়ানি খাওয়ানোর সম্মিলনী। কারণ কোনও সাধারন মানুষ এদের ডাকে ভালবেসে এই সম্মিলনীতে আসবেন না, তা আয়োজকরা জানেন। তাই বিরিয়ানি খাওয়ানোর লোভ দেখিয়ে সম্মিলনীতে লোক আনানো হয়েছে। বিরিয়ানি তৈরির জন্য যে পোল্ট্রি ফার্ম থেকে মুরগি নেওয়া হয়েছে, তাদের কাছ থেকেও ২০শতাংশ ছাড়ে বলপূর্বক মুরগি কেনা হয়েছে।"

 

হুমায়ুন জানান, "আমি দলের সর্বোচ্চ নেতৃত্ব এবং সাংসদ ইউসুফ পাঠানকে অনুরোধ করেছিলাম আমাকে যাতে অসম্মান না করা হয় এবং ব্লক সভাপতির ডাকে সাংসদ যাতে ওই অনুষ্ঠানে যোগ না দেন। কিন্তু আমার অনুরোধ রাখা হয়নি।" তবে হুমায়ুন কবীর এই সম্মিলনীতে ডাক না পেয়ে আফসোস না করে বরঞ্চ হুংকার ছেড়েছেন। তিনি বলেন, "এক মাঘে শীত যায় না। এরপর আবার যখন শীত আসবে (পড়ুন আমার সময়), তখন আমিও দেখিয়ে দেব হুমায়ুন কবীর কী করতে পারে। এই অপমানের বদলা নেওয়ার জন্য আমি প্রস্তুত। কারণ আমি লুটেপুটে খাওয়ার জন্য এই দলটা করি না। মানুষের সমর্থন আমার সাথে রয়েছে। তাই মুর্শিদাবাদের রাজনীতিতে আমাকে আবার সর্বোচ্চ নেতৃত্বের দরকার পড়বেই।''

 

অন্যদিকে হুমায়নের দিকেই অভিযোগের আঙুল তুলে ভরতপুর -২ ব্লক তৃণমূল কংগ্রেস সভাপতি তথা মুর্শিদাবাদ জেলা পরিষদের কর্মাধ্যক্ষ মোস্তাফিজুর রহমান সুমন বলেন, "বিজয়া সম্মিলনীতে না ডাকার প্রথা হুমায়ুন কবীর নিজেই চালু করেছেন। গত ২০ তারিখ সালার স্টেশনের কাছে নিজের অনুগামীদেরকে নিয়ে একটি বিজয়া সম্মিলনী করেছেন হুমায়ুন কবীর। সেখানে পঞ্চায়েত সমিতির সভাপতি, সহ-সভাপতি ত্রি -স্তরীয় পঞ্চায়েতের একাধিক শীর্ষ নেতৃত্ব, এমনকী আমাকে পর্যন্ত ওই অনুষ্ঠানে ডাকা হয়নি। তাই আমাদের অনুষ্ঠানও ওনাকে আমন্ত্রণ জানানো হয়নি।"