রিয়া পাত্র
তৃণমূল কংগ্রেস, তিন দফা ভোট জিতে, এবার গো-হারান হেরেছে। শুধু হেরেছে নয়, হারের পর থেকে একেবারে ছন্নছাড়া অবস্থা তৃণমূলের। একদিকে তৃণমূলের সংখ্যাগরিষ্ঠ বিধায়করা বিরোধী দলনেতা হিসেবে মানেনি দলনেত্রীর নির্দেশ। পৃথক ব্লক তৈরি করে, সেই গোষ্ঠী থেকে বিরোধী দলনেতা বেছে নিয়েছে। অন্যদিকে সংসদে আরও বড় 'ধামাকা'। সংখ্যাগরিষ্ঠ সাংসদরা কেবল পৃথক ব্লক তৈরি করেই ক্ষান্ত থাকেননি, তাঁরা সরাসরি মিশে গিয়েছেন এনসিপিআই নামের একটি দলের সঙ্গে। এবং জানিয়ে দিয়েছেন তাঁরা সমর্থন করবেন এনডিএ'কে।
তৃণমূলের এই ছন্নছাড়া অবস্থা দেখে কী বলছেন আইএসএফ-এর একমাত্র বিধায়ক নওশাদ সিদ্দিকি? তাঁর সাফ বক্তব্য, 'তৃণমূলের নেতারা যে পর্যায়ের দুর্নীতি করেছেন, সেই পাপের ফল ভোগ করতে হচ্ছে।' নওশাদের বক্তব্য, 'দল ভাঙানোর খেলা বাংলায় তো মমতা ব্যানার্জি শুরু করেছিলেন। এরা বিরোধী দলের একজন পঞ্চায়েত প্রধানকেও ছাড়ত না। এই দল ভাঙানোর সংস্কৃতি আমদানি করেছিলেন মমতা। আজ তাঁর দল, তিনি তার ফল ভুগছেন।'
কিন্তু নওশাদ কীভাবে দেখেছনে গোটা বিষয়টিকে? তাঁর সাফ বক্তব্য, 'আমি দল বদলের চরম বিরোধী। যাঁরা দুর্নীতি করেছেন, দুর্নীতি থেকে বাঁচার জন্য বকলমে বিজেপি সহযোগিতা করছেন বাংলার মানুষ তাঁদের ছাড়বে না। মুর্শিদাবাদের তিন সাংসদ, সংখ্যাগরিষ্ঠ ভোট পেল মুলসিল সম্প্রদায়ের, তাঁদের ভোট নিয়ে আজ বিজেপিকে সহযোগিতা করছে, যে বিজেপি উঠতে-বসতে সংখ্যালঘু সম্প্রদায়কে কোণঠাসা করার চেষ্টা করছে। আমি দায়িত্ব নিয়ে বলছি, যাঁরা বকলমে বিজেপিকে সহযোগিতা করছেন, আগামী নির্বাচনে এঁদের অস্তিত্ব থাকবে না। হয় সরাসরি বিজেপির টিকিটে দাঁড়াতে হবে, অন্যথায় জামানত বাজেয়াপ্ত হবে।'
কিন্তু বিধানসভার বর্তমান পরিস্থিতি যা, যেভাবে ভেঙে গিয়েছে তৃণমূল, তা কতটা ভাবাচ্ছে নওশাদকে? বলছেন, 'বিধানসভায় সরকারপক্ষ নিজেদের মনের মতো বিরোধী সেট করতে চায়। বিধানসভায় দেখবেন ভূমিকা পালন করতে হবে সেই মুস্তাফিজুর, নওশাদদেরই। ১৮ তারিখ থেকে বিধানসভা শুরু হবে, তখন স্পষ্ট হবে ছবি। তবে এখন থেকেই বোঝা যাচ্ছে, যারা নিজেদের প্রধান বিরোধী দল বলে উল্লেখ করছে, তাতে স্পষ্ট বিজেপিকেই সেই সহায়তা করা হচ্ছে।'















