আজকাল ওয়েবডেস্ক :  সারা বছর যে সমস্ত দুঁদে পুলিশ অফিসাররা এলাকার সমস্ত মানুষকে নিরাপত্তা প্রদান করে এবার সেই সমস্ত ভাই-দাদাদেরকেই সমস্ত বিপদে আপদে রক্ষা করা দায়িত্ব নিল বোনেরা। রবিবার এমনই এক অবাক করা ভাইফোঁটার সাক্ষী থাকল মুর্শিদাবাদের কান্দি মহকুমার খড়গ্রাম থানা। আজ থানার সমস্ত পুরুষ অফিসারদের কপালে ভাইফোঁটা দিয়ে তাঁদের মঙ্গল কামনা করে এমনই শপথ নিলেন ওই থানাতে কর্মরত বিভিন্ন পদাধিকারী বোনেরা। 

 

ভারতীয় পুরান অনুসারে - একবার মৃত্যুর দেবতার যম কার্তিক মাসের শুক্লপক্ষের দ্বিতীয়া তিথিতে বোন যমুনার নিমন্ত্রণ স্বীকার করে তাঁর বাড়ি যান। সেদিন যমরাজ বোন যমুনার পুজো গ্রহণ করে তাঁর বাড়িতে খাওয়া দাওয়া করেন। এরপর যমুনা আশীর্বাদ চাইলে যম বলেন- এই তিথিতে যে ভাই নিজের বোনের বাড়িতে গিয়ে তার পুজো স্বীকার করবে ও তার হাতে তৈরি করা রান্না করা খাওয়ার খাবে তার ভাগ্যে অকাল মৃত্যুর ভয় থাকবে না। কথিত রয়েছে তারপর থেকেই এই তিথিটি যম দ্বিতীয়া বা ভ্রাতৃ দ্বিতীয়া হিসেবে পরিচিত হয়। 

 

রবিবার সকালে খড়গ্রাম থানার কালীপুজো মণ্ডপ প্রাঙ্গনে থানার ভারপ্রাপ্ত আধিকারিক সুরজিৎ হালদারের উদ্যোগে থানার সঙ্গে যুক্ত সমস্ত অফিসার, ভিলেজ পুলিশ ,সিভিক পুলিশ, কনস্টেবল এবং সমস্ত ধরনের পদাধিকারীদের জন্য অনুষ্ঠিত হল এই গণ ভাইফোঁটা। 

 

থানার এক আধিকারিক বলেন, কর্মরত পুলিশ কর্মীদেরই অনেকেরই বাড়িতে দিদি বা বোন রয়েছে। কিন্তু কাজের প্রয়োজনে অনেকেই আজকের বিশেষ দিনটিতে ছুটি পান না। তাই থানাতেই জাতি, ধর্ম ,বর্ণ নির্বিশেষে সকলের সাথে ভাইফোঁটার আনন্দ উপভোগ করার জন্য আজকের এই বিশেষ অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়েছে। 

 

খড়গ্রাম থানার পুলিশ পরিবারের সদস্য সমস্ত দাদা-ভাইদেরকে আজকের বিশেষ দিনে ফোঁটা দিলেন থানাতেই কর্মরত বিভিন্ন স্তরের মহিলা কর্মচারীরা। কেবলমাত্র পুলিশকর্মীদের এই গন ভাইফোঁটাতে প্রায় ৪০ জন ভাই - দাদাকে ফোঁটা দিয়েছেন ১০ জন দিদি এবং বোনেরা। 

 

আজকের এই বিশেষ দিনটির জন্য সকাল থেকেই থানার দিদি-বোনেদের বিশেষ প্রস্তুতি ছিল। থানাতেই স্বল্প সময়ের মধ্যে দিদি-বোনেরা তাদের ভাইদের জন্য রেঁধেছেন ছোলার ডাল আর লুচি।  দোকান থেকে দাদা-ভাইদের জন্য এসেছিল বিভিন্ন রকমের মিষ্টি। এরপর দাদা-ভাইদের পাতে সেসব খাওয়ার সাজিয়ে দিয়ে ,কপালে মঙ্গল তিলক কেটে দিদি আর বোনেরা শপথ নিলেন সমস্ত বিপদে তাদের রক্ষা করবেন। আর দাদা-ভাইয়েরা, দিদি এবং বোনেদের হাতে উপহার হিসেবে সুদৃশ্য শাড়ি তুলে দিয়ে বললেন-' আসছে বছর, আবার হবে'।