আজকাল ওয়েবডেস্ক: পরিবেশের কাছে নেওয়া অক্সিজেনের ঋণ 'শোধ' করার জন্য অভিনব উদ্যোগ নিলেন মুর্শিদাবাদের লালগোলা তৃণমূল বিধায়ক মহম্মদ আলি। বিধায়কের উদ্যোগে শুরু হয়েছে লালগোলার প্রতিটি পরিবারের কাছে বিভিন্ন প্রজাতির গাছ পৌঁছে দেওয়া। অক্টোবর মাসের মাঝামাঝি পর্যন্ত লালগোলার 'ঘরে ঘরে বৃক্ষরোপণ, লক্ষ গাছের লক্ষ্যপূরণ' কর্মসূচিকে সফল করার জন্য এক লক্ষ গাছ পৌঁছে দেওয়া হবে বিধায়কের তরফ থেকে।
মুর্শিদাবাদ জেলা তৃণমূল কংগ্রেসের প্রাক্তন সভাপতি তথা বর্তমানে লালগোলার বিধায়ক মহম্মদ আলি বলেন, 'ভারতবর্ষে বনাঞ্চলের অনুপাত মাত্র ২২ শতাংশ। অথচ এই অনুপাত হওয়ার উচিত ছিল কমপক্ষে ৩৩ শতাংশ। তৃণমূল সরকার এই রাজ্যে ক্ষমতায় আসার আগে পশ্চিমবঙ্গে বনাঞ্চল ছিল মাত্র ১৩ শতাংশ। এই রাজ্যের জনঘনত্ব অত্যন্ত বেশি হলেও রাজ্য সরকারের ঐকান্তিক উদ্যোগে এখন বনাঞ্চলের অনুপাত বেড়ে হয়েছে ১৭ শতাংশ।'
তিনি জানান, 'একজন মানুষের সারা জীবন সুস্থ হয়ে বেঁচে থাকার জন্য যতটা অক্সিজেন দরকার তা পূরণ করতে পারে সাতটি পূর্ণ বয়স্ক গাছ। তাই আমরা যদি সকলে নিজেদের জীবনে সাতটি গাছকে ঠিকমতো যত্ন নিয়ে বড় করতে পারি তাহলে একদিকে যেমন পরিবেশে অক্সিজেনের পরিমান বাড়বে, তেমনি আমরা পরিবেশের কাছে অক্সিজেনের ঋণ 'শোধ' করতে পারব।'
মহম্মদ আলি আরও বলেন, 'আমরা সকলেই জানি বনাঞ্চল বৃদ্ধি পেলে ভূমিক্ষয় নিয়ন্ত্রণ হয় বন্যার আশঙ্কা কমে। এর পাশাপাশি গ্রীষ্মের প্রখর রৌদ্রের দাবদহ অনেকটাই কমে। পরিবেশ দূষণমুক্ত রাখার জন্য গাছের ভূমিকা অপরিসীম। এছাড়াও বেশ কিছু গাছ ঘরে ঘরে সম্পদ তৈরি করে (মূল্যবান শাল ,সেগুন গাছের কাঠ)।'
এই সকল উদ্দেশ্যকে সামনে রেখে বিধায়কের উদ্যোগে লালগোলার ১২ টি গ্রাম পঞ্চায়েত এলাকায় শুরু হয়েছে গাছ বিতরণ কর্মসূচি। তৃণমূল কর্মীরা ১২ টি গ্রাম পঞ্চায়েতের প্রত্যেকটি পরিবারের কাছে পৌঁছে যাচ্ছেন এবং বাড়ির মালিকদের হাতে তুলে দিচ্ছেন কাঁঠাল, আমলকি, পেয়ারা, শিশু, সেগুন, শাল, লেবু প্রভৃতি গাছ।
মানিকচক অঞ্চল তৃণমূল কংগ্রেস সভাপতি মহম্মদ এসারুল বলেন, 'এই গ্রাম পঞ্চায়েত এলাকায় সাড়ে ৫ হাজার পরিবারের কাছে আমরা বিভিন্ন গাছ পৌঁছে দিচ্ছি। পরিবারগুলো নিজেদের জমিতে এই কাজ লাগাচ্ছেন। গাছগুলি যাতে নষ্ট না হয় এবং গরু-ছাগল খেয়ে না নেয় সে কারণে তারা গাছগুলোর প্রতি বিশেষ যত্ন নিচ্ছেন।'
মহম্মদ আলি বলেন, 'দেশে মাথা পিছু গাছের সংখ্যা প্রায় ২৮। কানাডাতে এই সংখ্যা ৮৯৫৩, প্রতিবেশী বাংলাদেশে এই সংখ্যা মাত্র ৬। নির্দিষ্টভাবে লালগোলা এবং পশ্চিমবঙ্গে এই সংখ্যা আমার জানা নেই। তবে আমার লক্ষ্য অক্টোবর মাসের মাঝামাঝি সময়ের মধ্যে লালগোলা ব্লকের ৯০ হাজার পরিবারের হাতে কমপক্ষে ১ টি করে গাছ তুলে দেওয়া এবং আরও ১০০০০ গাছ বিভিন্ন জায়গায় লাগানো। এর ফলে লালগোলাতে আগামী দিনে পরিবেশ দূষণের মাত্রা অনেকটাই কমে যাবে এবং আগামী প্রজন্ম পাবে একটি দূষণমুক্ত সুস্থ জীবন।'
















