আজকাল ওয়েবডেস্ক: দীপাবলীর আগেই মুর্শিদাবাদের রঘুনাথগঞ্জ শহরের ১৮ এবং ২০ নম্বর ওয়ার্ড সংলগ্ন এলাকায় রাস্তা চওড়া করার উদ্যোগ নিল তৃণমূল কংগ্রেস পরিচালিত জঙ্গিপুর পুরসভা। এই কাজের জন্য মঙ্গলবার সকাল থেকেই রাস্তার ধারে বেআইনিভাবে গড়ে ওঠা একাধিক দোকান, বাড়ির পাঁচিল ভেঙে অন্যত্র সরে যাওয়া এবং রাস্তা দখলমুক্ত করার কাজ শুরু হয়েছে। 

 

জঙ্গিপুর পুরসভার সূত্রে জানা গেছে, ১৮ এবং ২০ নম্বর ওয়ার্ডে মূল রাস্তা ব্যবহার করে রোজ প্রতিদিন বহু মানুষ মালডোবা, কানপুর, দফরপুর, জিয়াগঞ্জ, আজিমগঞ্জ সহ বিভিন্ন এলাকায় যাতায়াত করেন। এর ফলে ওই এলাকায় নিত্যদিন যানজট লেগে থাকে। জঙ্গিপুর পুরসভার তৃণমূল কাউন্সিলর অনুপমা নন্দ বলেন, 'জঙ্গিপুর মহাশ্মশান এবং দফরপুর যাওয়ার রাস্তার একটি বড় অংশ দীর্ঘদিন ধরে বহু মানুষ অবৈধভাবে দখল করে নিয়েছেন। রাস্তাটি সংকীর্ণ হয়ে যাওয়ার ফলে নিত্যদিন ওই রাস্তায় যানজট লেগে থাকে। জঙ্গিপুরের বাসিন্দারা ছাড়াও পার্শ্ববর্তী রাজ্য ঝাড়খণ্ড এবং বীরভূম জেলার কোনও লোক মারা গেলে তাংদের পরিবারের অনেকেই জঙ্গিপুর মহাশ্মশানে দেহ দাহ করার জন্য নিয়ে আসেন। দেহ নিয়ে আসা বড় গাড়িগুলো ওই রাস্তা দিয়ে ঢুকলে, রাস্তার যানজট আরও বৃদ্ধি পায়। রাস্তা চওড়া করার কাজ শুরু হওয়াতে জঙ্গিপুরবাসীর অনেক সুবিধা হবে।' 

 

জঙ্গিপুর পুরসভা সূত্রে জানা গেছে -দিন সাতেক আগে পুরপ্রধান মফিজুল ইসলাম নিজে ওই এলাকায় গিয়ে জবর দখলকারীদের সাথে কথা বলে তাঁদের রাস্তা দখলমুক্ত করার জন্য অনুরোধ করেছিলেন। তিনি জানিয়েছিলেন- জবরদখলকারীরা যদি নিজেরাই তাঁদের নির্মাণ ভেঙে না নেন তাহলে পুরসভা অবৈধ নির্মাণ ভাঙার জন্য পদক্ষেপ করবে। 

 

তবে পুরসভা কিছু করার আগেই মঙ্গলবার সকাল থেকে স্থানীয় বাসিন্দা এবং ব্যবসায়ীরা নিজেদের অবৈধ নির্মাণ ভেঙে সরিয়ে নেওয়া শুরু করেছেন। আজ সকালে পুরসভার চেয়ারম্যান নিজে কাজের অগ্রগতি দেখতে এলাকায় যান। জঙ্গিপুর পুরসভার পুরপ্রধান মফিজুল ইসলাম বলেন, 'দীর্ঘ বহু বছর ধরে বেশ কিছু লোক পুরসভার রাস্তার একটি বড় অংশ দখল করে নিজেদের ব্যবসা-বাণিজ্য চালাচ্ছিলেন। এর ফলে এলাকায় যানজটের সমস্যা তৈরি হচ্ছিল এবং সাধারণ মানুষ যাতায়াত করতে সমস্যায় পড়ছিলেন।' 

 

তিনি বলেন, 'এই এলাকার লোকেরা অত্যন্ত ভাল। পুরসভা একবার বলে দেওয়ার পর তাঁরা নিজেরাই পুরসভার যে জমি এবং রাস্তার যে অংশ দখল করে রেখেছিলেন সেখান থেকে অবৈধ নির্মাণ সরিয়ে ফেলা শুরু করেছেন। পুরসভাকে জোর করে কোনও অবৈধ নির্মাণ ভাঙতে হয়নি। মানুষের যাতায়াতের সুবিধার জন্য রাস্তা চওড়া করতে যতটুকু অংশ লাগবে পুরসভা ততটুকু অংশ ব্যবহার করে রাস্তা চওড়া করবে।'