আজকাল ওয়েবডেস্ক: মুকুল রায়। বাংলার রাজনীতি তাঁকে চাণক্যের তকমা দিয়েছিল। শেষ কয়েক বছরে যদিও রাজনীতি, যাবতীয় চর্চা থেকে দূরে ছিলেন। সোমবার ভোর রাতে মুকুল রায়ের জীবনাবসান। বঙ্গ রাজনীতিতে বর্ণময় এক রাজনৈতিক চরিত্রের সমাপ্তি। রাজনৈতিক মহলে শোক। এই পরিস্থিতিতে, মুকুল রায়ের শেষযাত্রায় একপ্রকার আগাগোড়া অভিষেক ব্যানার্জি।
সোমবার বিধানসভায় শেষ শ্রদ্ধা জানানো হয় মুকুল রায়কে। শ্রদ্ধা জানান বিধানসভার স্পিকার বিমান ব্যানার্জি, মেয়র ফিরহাদ হাকিম, শোভনদেব চট্টোপাধ্যায়। শ্রদ্ধা জানান অভিষেক ব্যানার্জিও।ঠিক তারপরেই জানা যায়, মুকুল রায়ের শেষকৃত্যে উপস্থিত থাকতে, এদিন কাঁচরাপাড়ায় যাচ্ছেন অভিষেক ব্যানার্জি।
তৃণমূলের সংগঠন ও বাংলার রাজনীতিতে মুকুল রায়ের ভূমিকার কথা তুলে ধরা হয়েছে অভিষেকের সোশ্যাল মিডিয়া পোস্টে। এক্স-বার্তায় অভিষেক ব্যানার্জি সোমবার সকালেই লিখেছেন, 'মুকুল রায়ের মৃত্যুতে বাংলার রাজনৈতিক ইতিহাসের এক যুগের অবসান ঘটল। তিনি ছিলেন বিশাল অভিজ্ঞতাসম্পন্ন একজন প্রবীণ নেতা। তাঁর অবদান রাজ্যের জনসাধারণ ও রাজনৈতিক যাত্রার একটি গুরুত্বপূর্ণ পর্যায় গঠনে সহায়তা করেছিল। সর্বভারতীয় তৃণমূল কংগ্রেসের প্রতিষ্ঠাতা স্তম্ভ হিসেবে, তিনি গঠনমূলক বছরগুলিতে সংগঠনের সম্প্রসারণ ও সুসংহতকরণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছিলেন। জনজীবনের প্রতি তাঁর নিষ্ঠা শ্রদ্ধার সাথে স্মরণ করা হবে।' শেষে অভিষেক লিখেছেন, 'আমি তাঁর পরিবার, বন্ধুবান্ধব এবং ভক্তদের প্রতি আন্তরিক সমবেদনা জানাই। তাঁর আত্মার চির শান্তি কামনা করি।'
মুলুক রায়ের প্রয়াণে শোক প্রকাশ করেছেন দেশের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। এদিন তিনি সোশ্যাল মিডিয়ায় মুকুল রায়ের এবং তাঁর ছবি পোস্ট করেছেন। সঙ্গেই লিখেছেন, 'প্রাক্তন কেন্দ্রীয় মন্ত্রী শ্রী মুকুল রায় জি'র প্রয়াণে শোকাহত। তাঁর রাজনৈতিক অভিজ্ঞতা ও সমাজসেবামূলক প্রচেষ্টা স্মরণীয় হয়ে থাকবে। তাঁর পরিবার ও সমর্থকদের প্রতি সমবেদনা জানাই। ওঁ শান্তি।''
সর্বভারতীয় তৃণমূল কংগ্রেসের প্রতিষ্ঠাতা মুকুল রায়। শুরু থেকেই দলের মমতা ব্যানার্জির অতি আস্থাভাজন নেতা ছিলেন তিনি। মমতা'কে মুকুল সব সময়েই 'দিদি' বলে সম্বোধন করতেন। পরবর্তীতে সর্বভারতীয় তৃণমূল কংগ্রেসের 'সেকেন্ড ইন কমান্ড' হয়েছিলেন তিনি। সংগঠন ছিল কার্যত তাঁর হাতেই। সিঙ্গুর, নন্দীগ্রাম, নেতাই আন্দোলনই হোক বা সর্বভারতীয় কোনও কর্মসূচি, তৃণমূলের অন্যতম মুখ ছিলেন মুকুল রায়।
পরে অবশ্যে মতবিরোধের জেরে ২০১৭ সালে দল ছাড়েন মুকুল। যোগ দেন বিজেপিতে। কৃষ্ণনগর উত্তর বিধানসভা আসনে জিতে বিধায়ক হন তিনি। তবে, একুশের বিধানসভা ভোটের পরই পদ্ম ফুল ছেড়ে ফের তিনি জোড়া-ফুলে যোগ দেন। প্রশ্ন ওঠে তাঁর বিধায়ক পদ নিয়ে। রাজনৈতিক দড়ি টানাটানি শেষে আদালতে মামলা গড়ায়। তবে, সুপ্রিম কোর্ট কলকাতা হাইকোর্টের রায়ে অন্তর্বর্তী স্থগিতাদেশ দিয়েছে। ফলে এখনও বিধায়ক পদেই ছিলেন তিনি।
