আবু হায়াত বিশ্বাস: বিধানসভা নির্বাচনের আগে শাসক শিবিরে ভাঙন শুরু হয়েছে। একের পর এক নেতা-নেত্রী দল ছাড়ছেন। শুরু হয়েছিল হুমায়ূন কবীরকে দিয়ে। যিনি নতুন দল গড়ে সংখ্যালঘু ভোটে থাবা বসাতে চাইছেন। দাবি করছেন, ক্রমশ মোহভঙ্গ হচ্ছে সংখ্যালঘুদের। শনিবার কিছুটা ‘অপ্রত্যাশিতভাবে’ চমক দিয়েছেন রাজ্যসভার তৃণমূল সাংসদ মৌসম বেনজির নুর। তৃণমূল ছেড়ে পুরনো দল কংগ্রেসে ফিরেছেন মৌসম বেনজির নুর। তাঁর দল বদলে মালদা ও গোটা বাংলায় কংগ্রেসকে আরও শক্তিশালী করবে, দাবি কংগ্রেস নেতাদের। প্রদেশ সভাপতি শুভঙ্কর সরকারের দাবি, এ তো সবে ট্রেলার। পিকচার অভি বাকি! তিনি আরও বলছেন, আগামী দু’মাসে শাসক দলের আরও অনেক ‘হেভিওয়েট’ হাত শিবিরে যোগ দেবেন।
শনিবার দিল্লিতে কংগ্রেস দপ্তরে গিয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে কংগ্রেসে যোগ দিয়েছেন মৌসম। উপস্থিত ছিলেন পশ্চিমবঙ্গ কংগ্রেসের সভাপতি শুভঙ্কর সরকার, ইন-চার্জ গোলাম আহমেদ মীর ও রাজ্যসভার সাংসদ জয়রাম রমেশ। মৌসমের মতো নেত্রী দলে যোগ দেওয়ায় রাজ্যে কংগ্রেস শক্তিশালী হবে বলে দাবি করেন কংগ্রেস নেতারা। এদিন দলে যোগ দেওয়ার পর মৌসম দাবি করেন,‘আমি বরকত গনিখান চৌধুরি সাহেবের পরিবারের সদস্য। তাঁর ঐতিহ্য বহন করছি। পারিবারিক ভাবেই আমরা কথা বলে সিদ্ধান্ত নিয়েছিলাম যে, কংগ্রেসে ফিরব।’
সাত বছর আগে দল ছেড়েছিলেন মৌসম। এখন ভোটের আগে কংগ্রেসে ফিরে আসায় মালদায় কংগ্রেস শিবিরে খুশির হাওয়া। দলের কর্মী সমর্থকেরাও বলছেন, ভোটের আগে মালদায় কংগ্রেসের জন্য বড় স্বস্তির খবর। বিধানসভা ভোটে ভাল ফল হবে বলেই তারা মনে করছেন।
মৌসম জানান,তৃণমূল থেকে ইস্তফা দিয়েছেন তিনি। আগামী সোমবার রাজ্যসভার সাংসদ পদ থেকেও ইস্তফা দেবেন। মৌসম স্পষ্ট করে জানান, তাঁর চোখে প্রধান বিরোধী বিজেপি। আর কংগ্রেসের জোট ভবিষ্যৎ কী হবে? এ প্রসঙ্গে মৌসমকে প্রশ্ন করা হলেও কংগ্রেস নেতা জয়রাম রমেশ বলেন,‘আমাদের উদ্দেশ্য কংগ্রেসকে মজবুত করা। কংগ্রেস মজবুত হলে তবে জোট মজবুত হবে। কংগ্রেস দুর্বল হলে জোটও দুর্বল হবে।’
বাংলার বিধানসভা নির্বাচনে জোট কাদের সঙ্গে হবে, সেই প্রশ্নের কোনও সুষ্পষ্ট জবাব দেননি কংগ্রেস নেতারা। প্রদেশ সভাপতি শুভঙ্কর সরকার জানিয়েছেন, আগামী দু’মাসে অনেক নেতাই কংগ্রেসে যোগ দেবেন। সবে ট্রেলার, পিকচার অভি বাকি হ্যায়। উল্লেখ্য, ২০১৯ সালে তৃণমূলে যোগ দিয়েছিলেন মৌসম। সাত বছর পর ফের পুরনো দল কংগ্রেসে যোগ দিলেন তিনি।
