মনিরুল হক, কোচবিহার: কোচবিহারের শীতলকুচিতে ফের রাজনৈতিক উত্তেজনার পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে বিজেপি নেতার গাড়িতে হামলা ও আগুন ধরিয়ে দেওয়ার ঘটনাকে কেন্দ্র করে। গোসাইরহাট গ্রাম পঞ্চায়েত এলাকার এই ঘটনায় আহত হয়েছেন বিজেপির প্রাক্তন মণ্ডল সভাপতি তথা জেলা কমিটির আমন্ত্রিত সদস্য পবিত্র বর্মন। ঘটনাকে ঘিরে এলাকাজুড়ে চাঞ্চল্য ছড়িয়ে পড়েছে এবং বিজেপির অন্দরে গোষ্ঠীদ্বন্দ্বের জল্পনাও তীব্র হয়েছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, রবিবার রাতে আঁকড়াহাট বাজার সংলগ্ন একটি বুথে বিজয় মিছিল ও খাওয়া-দাওয়ার অনুষ্ঠান শেষে বাড়ি ফিরছিলেন পবিত্র বর্মন। অভিযোগ, গোসাইরহাট গ্রাম পঞ্চায়েতের ৫ নম্বর ওয়ার্ড এলাকায় পৌঁছাতেই রাস্তায় গাছের গুঁড়ি ফেলে তাঁর পথ আটকানো হয়। এরপর আচমকাই একদল দুষ্কৃতী তাঁর গাড়ির উপর হামলা চালায় বলে অভিযোগ। গাড়িতে ব্যাপক ভাঙচুর চালানোর পাশাপাশি আগুন ধরিয়ে দেওয়া হয় বলেও অভিযোগ করেছেন তিনি।
পবিত্র বর্মনের অভিযোগ, হামলার সময় তিনি প্রাণ বাঁচাতে গাড়ি থেকে নেমে পাশের একটি বাড়িতে আশ্রয় নেন। এই ঘটনার পিছনে বিজেপিরই ৫ নম্বর মণ্ডলের বর্তমান সভাপতি পবিত্র অধিকারী-র হাত রয়েছে বলে সরাসরি অভিযোগ তুলেছেন তিনি। তাঁর দাবি, রাজনৈতিক প্রতিহিংসা থেকেই পরিকল্পিতভাবে এই হামলা চালানো হয়েছে। তিনি বলেন, “আমি সক্রিয় রাজনীতিতে থাকলে কিছু মানুষের সমস্যা হচ্ছে। তাই আমাকে সরাতেই এই হামলার ছক কষা হয়েছে।”
অন্যদিকে সমস্ত অভিযোগ অস্বীকার করেছেন পবিত্র অধিকারী। তাঁর বক্তব্য, পুরো ঘটনাই সাজানো এবং তাঁকে রাজনৈতিকভাবে ফাঁসানোর চেষ্টা চলছে। তিনি দাবি করেন, “এই ঘটনার সঙ্গে আমার কোনও সম্পর্ক নেই। আমাকে বদনাম করার জন্য পরিকল্পিতভাবে আমার নাম জড়ানো হচ্ছে।”
ঘটনার পর থেকেই রাজনৈতিক মহলে শুরু হয়েছে তুমুল চর্চা। বিজেপির অন্দরে গোষ্ঠীদ্বন্দ্বের অভিযোগও উঠতে শুরু করেছে। যদিও সেই সম্ভাবনা উড়িয়ে দিয়েছেন শীতলকুচি বিধানসভার কনভেনার কনক চন্দ্র বর্মণ। তিনি বলেন, “দলের মধ্যে কোনও গোষ্ঠীকোন্দল নেই। কী ঘটেছে তা প্রশাসন তদন্ত করে দেখছে।”
এদিকে শীতলকুচির বিধায়ক সাবিত্রী বর্মণ জানান, পুরো বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে দেখা হচ্ছে। ঘটনার বিস্তারিত রিপোর্ট সংগ্রহ করা হচ্ছে বলেও তিনি জানান।
ইতিমধ্যেই তদন্ত শুরু করেছে শীতলকুচি থানার পুলিশ। কারা এই হামলার সঙ্গে জড়িত, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে বলে পুলিশ সূত্রে খবর। এলাকায় যাতে নতুন করে উত্তেজনা না ছড়ায়, সেদিকেও নজর রাখা হচ্ছে প্রশাসনের তরফে।















