মনিরুল হক
বর্ষার দাপটে ইতিমধ্যেই উত্তরবঙ্গের পাহাড় ও সমতলের একাধিক এলাকায় উদ্বেগ বাড়ছে। আকাশভাঙা বৃষ্টি, পাহাড়ি ঝরনার ফুলেফেঁপে ওঠা জল আর নদীর আচমকা রুদ্ররূপ, সব মিলিয়ে প্রতি বছরই এই সময়টা আতঙ্কের হয়ে ওঠে বহু মানুষের কাছে।
সেই আবহেই মন্ত্রী হিসেবে উত্তরবঙ্গ উন্নয়ন দপ্তরের দায়িত্ব গ্রহণের পর প্রথমবার কোচবিহারের এনবিডিডি দপ্তরে এসে পরিস্থিতি পর্যালোচনা করলেন মন্ত্রী নিশীথ প্রামাণিক।
বৃহস্পতিবার বিকেলে কোচবিহার শহরের আমতলা মোড়ে অবস্থিত উত্তরবঙ্গ উন্নয়ন দপ্তরের কার্যালয়ে পৌঁছন মন্ত্রী। সেখানে জেলা প্রশাসনের শীর্ষ কর্তাদের সঙ্গে দীর্ঘ বৈঠক করেন তিনি।
বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন কোচবিহারের জেলা শাসকও। বর্ষাকালীন পরিস্থিতি, নদীগুলির জলস্তর, পাহাড়ি এলাকায় দুর্যোগ মোকাবিলার প্রস্তুতি এবং সম্ভাব্য হরপা বানের ঝুঁকি নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয় বলে প্রশাসনিক সূত্রের খবর।
বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে উত্তরবঙ্গের বর্তমান পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগের কথা জানান নিশীথ। তাঁর কথায়, উত্তরবঙ্গের দুটি পার্বত্য জেলা দার্জিলিং ও কালিম্পং প্রতি বছরই হরপা বানের আশঙ্কার মুখে থাকে।
পাহাড়ি অঞ্চলে অল্প সময়ে অতিবৃষ্টি হলে ছোট ছোট ঝরনা ও নদীগুলি মুহূর্তের মধ্যে ভয়ঙ্কর রূপ ধারণ করে। সেই কারণেই আগাম সতর্কতার উপর বিশেষ জোর দেওয়া হচ্ছে।
মন্ত্রী জানান, জাতীয় বিপর্যয় মোকাবিলা বাহিনী (এনডিআরএফ) এবং রাজ্য বিপর্যয় মোকাবিলা বাহিনীর (এসডিআরএফ) দলকে প্রস্তুত রাখা হয়েছে। আবহাওয়ার পূর্বাভাসের উপর নজর রাখা হচ্ছে প্রতি মুহূর্তে।
কোথাও ভারী বৃষ্টির সম্ভাবনা দেখা দিলেই স্থানীয় প্রশাসনের মাধ্যমে সাধারণ মানুষকে সতর্ক করা হচ্ছে। বিশেষ করে নদী ও পাহাড়ি ঝরনার সংলগ্ন এলাকায় বসবাসকারী মানুষদের বাড়তি সতর্ক থাকার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
শুধু পাহাড় নয়, উদ্বেগ রয়েছে সমতলের নদীগুলিকেও ঘিরে। ভুটান থেকে নেমে আসা তিস্তা, তোর্সা-সহ একাধিক নদী বর্ষাকালে হঠাৎ জলবৃদ্ধির কারণে বিপজ্জনক হয়ে ওঠে।
ভুটানের উজানে ভারী বৃষ্টিপাত হলে তার প্রভাব খুব দ্রুত উত্তরবঙ্গের নদীগুলিতে পড়ে। ফলে নদীর জলস্তর আচমকাই বিপদসীমা ছাড়িয়ে যেতে পারে। সেই পরিস্থিতির মোকাবিলায় নদীগুলির উপর কড়া নজরদারি চালানো হচ্ছে বলে জানান মন্ত্রী।
প্রশাসনের একাংশের মতে, উত্তরবঙ্গে বর্ষা মানেই অনিশ্চয়তা। পাহাড়ে ধস, হরপা বান, নদীভাঙন কিংবা বন্যার আশঙ্কা প্রতি বছরই বহু মানুষের জীবন ও জীবিকাকে প্রভাবিত করে।
তাই আগেভাগে প্রস্তুতি নেওয়াকেই এবার অগ্রাধিকার দিচ্ছে প্রশাসন। মন্ত্রী নিশীথ প্রামাণিকের এই সফর এবং প্রশাসনিক বৈঠককে সেই প্রস্তুতিরই অংশ হিসেবে দেখছে সংশ্লিষ্ট মহল।
কারণ উত্তরবঙ্গের মানুষ জানেন, পাহাড়ি নদীর স্রোত কখন যে শান্ত রূপ ছেড়ে হঠাৎ তাণ্ডবের চেহারা নেবে, তা আগে থেকে বোঝা সব সময় সম্ভব হয় না। তাই সতর্কতাই এখন সবচেয়ে বড় ভরসা।















