আজকাল ওয়েবডেস্ক: দক্ষিণ ২৪ পরগনার ক্যানিং এ সামান্য বচসাকে কেন্দ্র করে ঘটে গেল এক চাঞ্চল্যকর ও নৃশংস ঘটনা। অভিযোগ, রাজনৈতিক রেষারেষির জেরে এক বিজেপি কর্মীর উপর এমন বর্বর হামলা চালানো হয়েছে, যাতে গুরুতরভাবে জখম হন তিনি। শুধু মারধর নয়, আক্রান্তের অণ্ডকোষ ছিঁড়ে দেওয়ার মতো ভয়াবহ অভিযোগ উঠেছে স্থানীয় দুই তৃণমূল কর্মীর বিরুদ্ধে। ঘটনাকে ঘিরে এলাকাজুড়ে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়েছে। অভিযুক্তদের দ্রুত গ্রেফতার ও কঠোর শাস্তির দাবিতে সরব হয়েছে বিজেপি কর্মী-সমর্থকরা।
স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, গত শনিবার ক্যানিংয়ের দাড়িয়া পঞ্চায়েত এলাকায় এই নৃশংস ঘটনার সূত্রপাত। আক্রান্ত বিজেপি কর্মীর নাম ভোলারাম ব্রিভা। অভিযোগ, সেদিন বিকেলে নিজের বাড়িতে স্ত্রী নীলিমা দেবীর সঙ্গে পারিবারিক অশান্তিকে কেন্দ্র করে বচসায় জড়িয়ে পড়েন তিনি। স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে চলতে থাকা তর্কাতর্কি ধীরে ধীরে উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। সেই সময় প্রতিবেশী এবং স্থানীয় তৃণমূল কর্মী মদন হালদার ও তাঁর ছেলে কমল হালদার সেখানে উপস্থিত হন।
প্রথমে তাঁরা ঝগড়া থামানোর চেষ্টা করেন বলেই জানা যায়। কিন্তু পরিস্থিতি শান্ত করার বদলে মুহূর্তের মধ্যেই তা আরও ভয়াবহ রূপ নেয়। অভিযোগ, কথা কাটাকাটির এক পর্যায়ে উত্তেজনা চরমে পৌঁছায় এবং রাগের বশে মদন ও কমল ভোলারামের উপর চড়াও হন। শুরু হয় বেধড়ক মারধর। আক্রান্তের পরিবারের অভিযোগ, শুধু লাঠি ও ঘুষি দিয়ে মারধরই নয়, ভোলারামের গোপন অঙ্গে নির্মমভাবে আঘাত করা হয়। এমনকি তাঁর অণ্ডকোষ ছিঁড়ে দেওয়া হয়েছে বলেও অভিযোগ উঠেছে, যা এলাকায় শোরগোল ফেলে দিয়েছে।
স্বামীর উপর এই নৃশংস হামলা দেখে আতঙ্কে চিৎকার করে ওঠেন স্ত্রী নীলিমা দেবী। তাঁর চিৎকারে আশপাশের মানুষ ছুটে এলে রক্তাক্ত অবস্থায় মাটিতে লুটিয়ে পড়ে থাকতে দেখা যায় ভোলারামকে। স্থানীয় বাসিন্দারাই দ্রুত তাঁকে উদ্ধার করে প্রথমে স্থানীয় স্বাস্থ্যকেন্দ্রে নিয়ে যান। পরে অবস্থার অবনতি হওয়ায় তড়িঘড়ি ক্যানিং মহকুমা হাসপাতালে স্থানান্তরিত করা হয়। হাসপাতাল সূত্রে খবর, আক্রান্তের শারীরিক অবস্থা আশঙ্কাজনক এবং চিকিৎসকদের নিবিড় পর্যবেক্ষণে তিনি চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
ঘটনার পর থেকেই এলাকায় রাজনৈতিক উত্তেজনা তীব্র আকার ধারণ করেছে। স্থানীয় বিজেপি নেতৃত্বের অভিযোগ, এটি শুধুমাত্র পারিবারিক বচসার জেরে হওয়া মারামারি নয়; রাজনৈতিক শত্রুতার কারণেই শাসকদলের আশ্রিত দুষ্কৃতীরা পরিকল্পিতভাবে এই হামলা চালিয়েছে। বিজেপি কর্মীদের দাবি, দীর্ঘদিন ধরেই এলাকায় রাজনৈতিক বিরোধ চলছিল এবং সেই ক্ষোভ থেকেই এই বর্বর আক্রমণ করা হয়েছে। তাঁদের বক্তব্য, রাজ্যে বিরোধী দলের কর্মীদের উপর লাগাতার হামলার এটাই আরও একটি উদাহরণ।
অন্যদিকে, অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগ সম্পূর্ণ অস্বীকার করেছে তৃণমূল শিবির। স্থানীয় তৃণমূল নেতৃত্বের দাবি, ঘটনাটিকে রাজনৈতিক রং দেওয়ার চেষ্টা করছে বিজেপি। তাঁদের মতে, এটি সম্পূর্ণ ব্যক্তিগত ও পারিবারিক বিবাদের জেরে ঘটে যাওয়া একটি অপ্রীতিকর ঘটনা, যার সঙ্গে রাজনীতির কোনও যোগ নেই। যদিও এই বিষয়ে দলের তরফে এখনও আনুষ্ঠানিকভাবে বিস্তারিত প্রতিক্রিয়া মেলেনি।
ইতিমধ্যেই আক্রান্তের পরিবার ক্যানিং পুলিশ স্টেশন-এ লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছে। পুলিশ গোটা ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে এবং অভিযুক্তদের খোঁজে তল্লাশি চালানো হচ্ছে বলে সূত্রের খবর। এলাকায় যাতে নতুন করে অশান্তি না ছড়ায়, সেজন্য পুলিশি নজরদারিও বাড়ানো হয়েছে। ক্যানিংয়ের এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে আবারও রাজ্যে রাজনৈতিক হিংসা নিয়ে প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে। সাধারণ মানুষের একাংশের প্রশ্ন, সামান্য বচসা কীভাবে এমন নৃশংস পরিণতি ডেকে আনতে পারে? এখন সকলের নজর পুলিশের পরবর্তী পদক্ষেপ এবং অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে কী ধরনের ব্যবস্থা নেওয়া হয় তার দিকে।















