ইন্দ্রজিৎ সাহু: পশ্চিম মেদিনীপুরের দাসপুর থানার অন্তর্গত চাঁইপাট বেলডাঙা গ্রামে এক হৃদয়বিদারক ও অস্বাভাবিক পরিস্থিতির সাক্ষী হলেন এলাকাবাসী। একদিকে বিয়ের প্রস্তুতির আনন্দ, অন্যদিকে পরিবারের জ্যেষ্ঠ সদস্যের আকস্মিক মৃত্যু। দুই বিপরীত আবেগে স্তব্ধ হয়ে রয়েছে গোটা গ্রাম। সোমবার দুপুরে হঠাৎই শারীরিক অসুস্থতার কারণে মৃত্যু হয় রিতা আলু নামে ওই গ্রামের এক বাসিন্দার। অথচ পরদিনই ছিল তাঁর পরিবারের সদস্য সৌরেন আলুর বিয়ে। আগেই সম্পন্ন হয়েছিল বিয়ের যাবতীয় আয়োজন। মৃত্যুর ঘটনায় পরিবার গভীর শোকে ভেঙে পড়লেও শেষ পর্যন্ত ধর্মীয় রীতি ও সামাজিক বাধ্যবাধকতার কথা মাথায় রেখে অনুষ্ঠান বাতিল না করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। তবে সমস্যার সৃষ্টি হয় মৃতদেহ সৎকার ঘিরে। জানা গিয়েছে, রিতা দেবীর ছয় মেয়েই বিবাহসূত্রে বাড়ির বাইরে থাকেন। 

তাঁদের শেষবার দেখার সুযোগ দিতে এবং উপস্থিতিতেই শেষকৃত্য সম্পন্ন করার সিদ্ধান্ত নেওয়ায় দেহ সংরক্ষণের প্রয়োজন পড়ে। পরিবারের উদ্যোগে গ্রামের একটি ক্লাব ঘরে ফ্রিজার বক্সে রাখা হয় মৃতদেহ। তারপর শোকবিহ্বল অবস্থাতেই মঙ্গলবার বিয়ের পিঁড়িতে বসেন সৌরেন। নতুন বউ নিয়ে ঘরে ফেরার সময় গ্রামজুড়ে তৈরি হয় এক চাপা উত্তেজনার আবহ। পরিবারের দাবি, আনন্দের জন্য নয়, পরিস্থিতির চাপে বাধ্য হয়েই তাঁরা এমন কঠিন সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। মেয়েরা এসে পৌঁছলেই সৎকার সম্পন্ন করা হবে বলেও জানিয়েছেন তাঁরা।

এদিকে ক্লাব ঘরে মৃতদেহ রাখাকে কেন্দ্র করে ক্ষোভ প্রকাশ করেছে সংশ্লিষ্ট ক্লাব কর্তৃপক্ষ। তাঁদের বক্তব্য, ক্লাবঘর এ ধরনের কাজে ব্যবহার করা নিয়মসিদ্ধ নয়। বিষয়টি নিয়ে পুলিশের কাছে যাওয়া হয়েছে বলেও জানা গিয়েছে।

ঘটনা নিয়ে পাড়া-প্রতিবেশীদের মধ্যেও মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে। কেউ পরিবারের সিদ্ধান্তকে মানবিক দৃষ্টিতে দেখছেন, আবার কেউ নিয়মনীতি ভাঙার অভিযোগ তুলছেন। মৃতার মেয়েরা না আসা পর্যন্ত এই থমথমে পরিস্থিতি কাটার কোনও লক্ষণ নেই বলেই মনে করছেন এলাকাবাসী। বিয়ের আনন্দের মাঝেই শোকের এই অদ্ভুত সহাবস্থান এখন দাসপুরের চাঁইপাট বেলডাঙা গ্রামকে নিয়ে এসেছে সংবাদ শিরোনামে।