বিউ সরকার: বর্তমানে প্রাথমিক এবং উচ্চ প্রাথমিকের কর্মরত সমস্ত শিক্ষক-শিক্ষিকাদের শিক্ষক যোগ্যতা পরীক্ষা বা টেট পাশ বাধ্যতামূলক। সম্প্রতি কড়া নির্দেশ জারি করেছে সুপ্রিম কোর্ট। এ বার সেই নির্দেশ নিয়েই বিকাশ ভবনের দ্বারস্থ সংগ্রামী শিক্ষক যৌথ মঞ্চ। সোমবার তাঁরা বিকাশ ভবনে এ নিয়ে ডেপুটেশন জমা দেন। পাশাপাশি, ডেপুটেশন জমা দেওয়ার পর ধর্মতলায় জমায়েতেরও পরিকল্পনা রয়েছে তাঁদের।

 

সংগ্রামী শিক্ষক যৌথ মঞ্চের দাবি, ২০১১ সালের আগে থেকে যে শিক্ষকেরা চাকরি করছেন, বর্তমানে তাঁদের বয়স ৫৫ বছরের বেশি। অর্থাৎ তাঁদের আর পাঁচ বছর চাকরি রয়েছে। এই সমস্ত চাকরিরত শিক্ষকদের ক্ষেত্রে টেট-এর এই বাধ্যতাবাধকতা নিয়মে ছাড় দেওয়া হোক। এ ক্ষেত্রে সরকারি হস্তক্ষেপের দাবি জানান তাঁরা।

 

এ প্রসঙ্গে সংগ্রামী যৌথ মঞ্চের আহ্বায়ক ভাস্কর ঘোষ জানিয়েছেন, সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশ শিরোধার্য। সুপ্রিম কোর্টের অবজ্ঞা না করেই তাঁরা মুখ্যমন্ত্রীর হস্তক্ষেপ চান। তাঁদের দাবি, যে হেতু ওই সমস্ত শিক্ষকদের ২০১১ সালের আগে ন্যাশনাল কাউন্সিল ফর টিচার এডুকেশন বা এনসিটিই-র নিয়ম মেনে শিক্ষক নিয়োগ করা হয়েছিল। তাই তাঁদের ক্ষেত্রে টেট বাধ্যতামূলক করা সঠিক নয়। এটা একরকম অপচেষ্টা চলছে বলে দাবি তাঁদের।

 

প্রসঙ্গত, ২০২৫ সালে স্কুলে প্রাথমিক ও উচ্চ প্রাথমিক স্তরে কর্মরত শিক্ষকদের জন্য ‘টিচার্স এলিজিবিলিট টেস্ট’ (টেট) পাশ বাধ্যতামূলক বলে ঘোষণা করেছিল শীর্ষ আদালত। এর পর সেই রায়ের পুনর্বিবেচনার মামলার শুনানি হয় সুপ্রিম কোর্টে। এ বার সর্বোচ্চ আদালতও সেই নির্দেশ বহল রাখে। এই নির্দেশের আগে কর্মরত শিক্ষকদের ক্ষেত্রে টেট পাশের নির্ধারিত সময় ছিল ২০২৭ সালে ৩১ অগস্ট। এর পর টেট পাশের সময় আরও এক বছর বাড়ানো হল। আদালত নির্দেশ দিয়েছিল, ২০২৮ সালের ৩১ অগস্টের মধ্যে কর্মরত শিক্ষকদের টেট পাশ করতে হবে।