আজকাল ওয়েবডেস্ক: সোশ্যাল মিডিয়ায় রবিবার ছড়িয়ে পরেছে একটি ভিডিও। যদিও আজকাল ডট ইন ওই ভিডিওর সততাযাচাই করেনি, তবে তৃণমূল কংগ্রেস, দলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক বিজেপি নেতার মন্তব্যের তীব্র সমালোচনা করেছিলেন। সোমবার নাম না করেই যেন পালটা জবাব দিলেন রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রীও। এদিন লক্ষ্মীর ভাণ্ডার প্রসঙ্গে বলতে গিয়েই মুখ্যমন্ত্রী বলেন, 'দিল্লির কোনও এক নেতাদের নেতা, তিনি নাকি বলেছেন, লক্ষ্মীদের বাড়ি থেকে বেরোতে দে।। না ভোটের দিন। তাঁদের নাকি বন্দি করে রাখবে।' তারপরেই জবাব দেন মমতা। বলেন, 'আমি বললাম, লক্ষ্মীদেরতো চেনো না। এরা যেমন পাঁচালিও পড়ে, আবার রান্নাও করে। শিল্পও গড়ে, ছেলেদের সঙ্গে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে সৃষ্টিও করে। মহিলারা তো কারও মা, বোন, মাসি, ঠাকুমা। ভুলে গিয়েছে? আজকে শাসানি দিচ্ছে? এটা অপরাধ নয়? মেয়েদের বেরোতে দেবে না?'
এপ্রসঙ্গে উল্লেখ্য, অভিষেক ব্যানার্জির শেয়ার করা ভিডিওতে সুর চড়িয়ে যে ব্যক্তিকে বক্তব্য রাখতে দেখা গিয়েছে, তিনি কালীপদ সেনগুপ্ত। দাসপুরের নেতা, বিজেপি রাজ্য কমিটির সদস্য। ছড়িয়ে পড়া ভিডিওতে কী বলতে শোনা গিয়েছে তাঁকে? শোনা গিয়েছে-
'এখনও লক্ষ্মীর ভাণ্ডার পাওয়া মায়েরা আছেন, যাঁরা জোড়া ফুলে ভোট দিতে যাবেন, আমি সেই সমস্ত পরিবারের স্বামীদের বলছি, ওই মায়েদের ঘরে বন্দি রেখে দেবেন। ভোটটা দিতে হবে পদ্মফুলে, জোড়া ফুলে নয়।' এই প্রসঙ্গে উল্লেখ্য, গত ভোটে তৃণমূলের 'লক্ষ্মীর ভাণ্ডার' প্রকল্প গেমচেঞ্জারের কাজ করেছিল, ভোটের ময়দানে।
অল ইন্ডিয়া তৃণমূল কংগ্রেস ওই ভিডিও শেয়ার করে লিখেছে, 'দাসপুরে বিজেপির রাজ্য কমিটির সদস্য কালীপদ সেনগুপ্তের তালিবানি ফতোয়া- লক্ষ্মীর ভাণ্ডার পাওয়া মহিলাদের নাকি ঘরে বন্দি করে রাখতে হবে! এটাই বিজেপির আসল নারী-বিদ্বেষী রূপ। যারা মুখে ‘নারী শক্তি’র কথা বলে, তারাই আজ মা-বোনেদের স্বাধীনতা ও গণতান্ত্রিক অধিকার হরণ করতে চায়। মাননীয়া মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ক্ষমতায়নকে ভয় পেয়ে বিজেপি এখন নারীদের ঘরবন্দি করার জঘন্য নিদান দিচ্ছে। মা-বোনেদের অপমান করার স্পর্ধা এরা পায় কোথা থেকে? বিজেপির এই মধ্যযুগীয় বর্বরতার যোগ্য জবাব আগামী নির্বাচনে বাংলার মা-বোনেরাই দেবেন!'
ভিডিওটি শেয়ার করেছেন অভিষেক ব্যানার্জিও। তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক পয়েন্ট ধরে লিখেছেন, বিজেপির বাংলা বিরোধিতার ধাপ। অভিষেক লিখেছেন-
' ধাপ ১: নির্বাচন কমিশনকে হাইজ্যাক করে SIR পরিচালনা করুন, বৈধ ভোটারদের গণহারে মুছে ফেলুন।
ধাপ ২: যখন তাতেও ফলাফল উলটো হয়, তখন জোরপূর্বক নাম মুছে ফেলার জন্য 'যৌক্তিক অসঙ্গতি' র কথা বলুন।
ধাপ ৩: যখন তাও ব্যর্থ হয়, তখন সামন্ততান্ত্রিক এবং পুরুষতান্ত্রিক বর্বরতায় স্বামীদের তাঁদের স্ত্রীদের ঘরে আটকে রাখার নিদান দেন, যাতে লক্ষ্মীর ভান্ডার দ্বারা ক্ষমতাপ্রাপ্ত মহিলারা ভোট দিতে বেরোতে না পারেন। বিজেপি ক্ষমতা দখলের দিন লক্ষ্মীর ভান্ডার বাতিল করার হুমকি দিয়েছে। উপহাস করেছে, বাংলার হিন্দুরা মাত্র ৫০০ টাকার জন্য "নিজেদের বিক্রি করে"। তারা নারীদের সরাসরি সাহায্যকে "ভিক্ষা" বলে চিহ্নিত করেছে। এবং এখন তারা প্রকাশ্যে নারীদের কষ্টার্জিত ভোটাধিকারকে হুমকি দিচ্ছে কারণ তাদের ভোট বিজেপির নির্বাচনী সম্ভাবনাকে নষ্ট করতে পারে। যাদের বন্দি করতে চাও, তারাই ২০২৬ সালে লক্ষ লক্ষ ভোটকেন্দ্রে মিছিল করে তোমাদের বাংলা-বিরোধী, নারী-বিরোধী, পিছয়ে যাওয়া রাজনীতির অবসান ঘটাবে।'
উল্লেখ্য, এআই নিয়েও সোমবার বার্তা দেন মুখ্যমন্ত্রী। বলেন, 'এখন আর্টিফিসিয়াল ইন্টিলিজেন্স বেরিয়েছে। অনেক সময় দেখবেন আমি নই , কিন্তু আমার ছবি দকেহিয়ে, গলা শুনিয়ে অনেক মিথ্যে প্রচার করতে পারে। অনেক ফেক ভিডিও আছে। কোনটা নিতে হবে, কোনটা নিতে হবে, নিজের বুদ্ধিমত্তা দিয়ে দেখে নেবেন।' ৫৪ লক্ষ নাম বাদ নিয়েও এদিন সরব হন মুখ্যমন্ত্রী। বলেন, '৫৪ লক্ষ নাম বাদ দিয়েছে, তাদের অধিকার ছিল সাত নম্বর, আট নম্বর ফর্ম পূরণ করার। একজন খুনি যদি আইনজীবী নাও পায়, তবু যে নিজেকে ডিফেন্ড করতে পারে, এখানে এআই ঠিক করছে। এআই দিয়ে বাদ দিয়েছে।'
তারপরেই তিনি বলেন, 'ভ্যানিশ করছে মানুষের নাম ভোটার তালিকা থেকে। মানুষের অধিকার ভ্যানিশ হলে আপনারাও ভ্যানিশ হবেন। সবাই নিজের নাম দয়া করে তুলবেন। এ লড়াই বাঁচার লড়াই। এ লড়াই বাঁচতে হবে।' সঙ্গেই তিনি বলেন, 'আমরাও আইনের সাহায্য নিচ্ছি। আগামিকাল আদালত খুলবে। আমরাও আইনে যাব। এত মানুষের মৃত্যু, হয়রানির বিরুদ্ধে। প্রয়োজন পড়লে আমি নিজেও অনুমতি চাইব, দরকার হলে আমিও সুপ্রিম কোর্টে গিয়ে মানুষের হয়ে কথা বলব। সাধারণ নাগরিক হিসেবে যাব। চোখে আঙুল দিয়ে দেখাবার চেষতা করব তৃণমূল স্তরে কী চলছে, কীভাবে মানুষকে হেনস্থা করার চেষ্টা চলছে।'
