আজকাল ওয়েবডেস্ক: বিধানসভা, লোকসভার মতো কি এবার রাজ্যসভাও? ভেঙে টুকরো টুকরো হয়ে যাবে মমতা ব্যানার্জির তৃণমূলের সংসদীয় ক্ষমতা? দিন কয়েক আগেই থেকেই উলটো সুর শোনা গিয়েছিল রাজ্যসভার সাংসদ সুখেন্দুশেখরের গলায়। তিনি সাম্প্রতিক সময়েও সংবাদ মাধ্যমের সামনে ক্ষোভ যেমন প্রকাশ করেছেন, তেমনই সংসদে তৃণমূল সাংসদদের বিরাট সিদ্ধান্তের ইঙ্গিতও দিয়েছেন। অন্যদিকে একের পর এক পোস্টে, জল্পনা নিত্যদিন বাড়াচ্ছেন বাবুল সুপ্রিয়।
মমতা বাকি যাঁদের রাজ্যসভায় পাঠিয়েছিলেন? যাঁরা কয়েক মাস আগে পর্যন্ত তৃণমূলের সভা-মঞ্চের আশেপাশে, সুপ্রিমোর ছায়ায় দাঁড়ানোর সুযোগ খুঁজতেন, তাঁরা কই? মমতা ব্যানার্জি রাজ্যসভায় পাঠিয়েছেন- ডেরেক ও' ব্রায়েন, সাগরিকা ঘোষ, নাদিমুল হক, দোলা সেন, প্রকাশ চিক বরাইক, মমতা ঠাকুর, সুস্মিতা দেব, সামিরুল ইসিলাম, সুখেন্দু শেখর রায়, বাবুল সুপ্রিয়, কোয়েল মল্লিক, রাজীব কুমার, মানেকা গুরুস্বামীকে। এঁদের মধ্যে সুস্মিতা দেব, সাগরিকা ঘোষকে একটা সময় তৃণমূলের হয়ে সোচ্চার হতে দেখা গিয়েছে। এখনও সোশ্যাল মিডিয়ায় তাঁরা সোচ্চার, তবে সরাসরি তৃণমূল নিয়ে কতটা? দুর্দিনে মমতার পাশে থাকার বার্তা কতটা স্পষ্ট? বাবুল সুপ্রিয় ছাড়া, একেবারে নবাগত বাকি তিন সাংসদের কথা ধরা যাক। ভোটের আগে, মমতা ব্যানার্জির ধর্না মঞ্চে রাজীব কুমার থেকে, মানেকা গুরুস্বামীর উপস্থিতি ছিল চোখে পড়ার মতো। ভোটে হারের পর তাঁরা কই? ওয়াই চ্যানেলে চোখে পড়েনি ডেরেক এবং দোলার ছাড়া বাকিদের উপস্থিতি। প্রশন উঠছে, তাহলে কি রাজ্যসভার সাংসদরাও দূরত্ব বাড়াচ্ছেন, পরিকল্পনা করেই? জল্পনা বাড়াছে সুখেন্দু শেখরের ইঙ্গিতপূর্ণ মন্তব্যে।
বিধানসভা, লোকসভা, সব মিলিয়ে পরিস্থিতি ডামাডোল তৃণমূলের। এই পরিস্থিতিতে নজর রয়েছে লোকসভার ২৮ জনের দিকেও। যে ২৮ জন, ২০২৪ সালে তৃণমূল কংগ্রেসের টিকিটে, লোকসভার ভোট জিতে, গিয়েছেন সংসদে।
পরাজয়ের পর মমতা ব্যানার্জি যেদিন প্রথম নামলেন পথে, সেদিন রইলেন বড়জোর ৬ বিধায়ক, আর সংসদের দুই কক্ষ মিলিয়ে তার থেকেও কম সাংসদ। কাকলি ঘোষ দস্তিদার ক্ষোভের বহিঃপ্রকাশ আগেই ঘটিয়েছেন। তিনি দূরত্ব বাড়িয়েছেন কয়েক যোজন। এবার কি কাকলির পথে, বাকিরাও? কাকলি, মমতার দীর্ঘদিনের সঙ্গেঈ, ভোতে ভরাডুবির পরেই ক্ষভ-অভিমানের তালিকা খুলে বসেছেন। বাংলার রাজনীতিতে জোর জল্পনা, এবার নাকি সাংসদরাও পরিস্থিতি বুঝে সিদ্ধান্ত নেওয়ার কথা ভাবছেন। যদিও এই বিষয়ে কোনও নিশ্চয়তা নেই। তবে সর্বভারতীয় সংবাদ মাধ্যমের প্রতিবেদনেও উল্লিখিত, মমতার হাত ছাড়তে পারেন ২৮-এর মধ্যে ২০ সাংসদও। তার মাঝেই জল্পনা বাড়ছে, রাজ্যসভা নিয়েও।















