আজকাল ওয়েবডেস্ক: ভোটমুখী বাংলায় পারদ চড়ছে, কেন্দ্র বনাম রাজ্য ইস্যুতে। এই প্রথম নয় এই দু'পক্ষের মতবিরোধের। তবে একাব্রে ভোটের প্রাক্কালে, এবার দু'প্রান্তে, দু'পক্ষ দাঁড়িয়ে, দেশের রাষ্ট্রপতিকে কেন্দ্র করে। এক পক্ষের নিশানা, এক পক্ষের জবাব, এসব নিয়ে সরগরম রাজনীতির অলিন্দ। তার মাঝেই একদিকে যেমন সূত্রের খবর, গতকাল রাষ্ট্রপতি দ্রৌপদী মুর্মুর সফরে কী কী ঘটেছে, স্থানবদল কেন করা হয়েছে, প্রশাসন কী কী পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে, রাজ্যের কাছে তার রিপোর্ট জানতে চাওয়া হয়েছে, অন্যদিকে কেন্দ্রের বিবোধিতায় এদিন ফের গর্জে উঠেছেন বাংলার মুখ্যমন্ত্রী। তাঁর অভিযোগ, বিজেপি প্রতিটি গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠান, সাংবিধানিক পদকে ব্যবহার করছে 'অস্ত্র' হিসেবে।
যদিও বাংলার শাসক দলের এই অভিযোগ নতুন নয়। এর আগেও বারবার অভিযোগ করা হয়েছে, কেন্দ্র, ইডি-সিবিআইয়ের মতো সংস্থাগুলিকে নিজেদের কৌশলে, প্রয়োজনে কাজে লাগাচ্ছে। এবার আরও একধাপ এগিয়ে তৃণমূল কংগ্রেস সুপ্রিমো, বাংলার মুখ্যমন্ত্রী অভিযোগ করলেন, 'আজ আমরা যা দেখছি তা নজিরবিহীন, অত্যন্ত দুর্ভাগ্যজনক এবং এই প্রজাতন্ত্রের গণতান্ত্রিক ভিত্তির উপর সরাসরি আক্রমণ। তাদের "এক জাতি, এক নেতা, এক দল" উন্মাদনায়, বিজেপি তাদের নিজস্ব জন-বিরোধী উচ্চাকাঙ্ক্ষা পূরণের জন্য প্রতিটি গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠান এবং প্রতিটি সাংবিধানিক পদকে পরিকল্পিতভাবে অস্ত্র হিসেবে ব্যবহার করেছে।'
মমতার নিশানায় জাতীয় কমিশন, কেন্দ্রীয় সংস্থাও। লিখেছেন, 'বছরের পর বছর ধরে, তারা কেন্দ্রীয় সংস্থা, জাতীয় কমিশন, গোদি মিডিয়া এবং বিচার বিভাগের একটি অনুগত অংশকে বাংলার বিরুদ্ধে ব্যবহার করেছে। তারা ভ্যানিশ কমিশনের অপব্যবহার করে বৈধ ভোটারদের ভোটার তালিকা থেকে মুছে ফেলছে। তারা এটাই চায়। তারা বাবাসাহেব আম্বেদকরের সংবিধানকে তাদের দলীয় ইশতেহার দিয়ে প্রতিস্থাপন করতে চায়। আমি এর পক্ষে দাঁড়াইনি। আমি এর পক্ষে দাঁড়াব না। ধর্মতলায় আমাদের ধর্না হল প্রতিটি বাংলা-বিরোধী এজেন্ডার প্রতি আমাদের জবাব , যা এই রাজ্যের জনগণকে অপমান, ভয় দেখানো এবং নির্যাতন করার চেষ্টা করে। বিজেপির একমাত্র অগ্রাধিকার ক্ষমতা। আমার অগ্রাধিকার জনগণ।'
একেবারে শেষে মমতা লিখেছেন, 'ঔপনিবেশিক শাসনের শৃঙ্খল ভেঙে বাংলা জেগে উঠেছে। বিজেপির অনিবার্য পতনের পথ প্রশস্ত করতে বাংলা আবার জেগে উঠবে।'
প্রসঙ্গত, শুক্রবার বিকেলে উত্তরবঙ্গে আসার কথা ছিল রাষ্ট্রপতি মুর্মুর। কিছু কারণে তাঁর সফরসূচির পরিবর্তন হয়। শনিবারসকাল সাড়ে ১১টা নাগাদ বাগডোগরা বিমানবন্দরে পৌঁছন তিনি। শিলিগুড়িতে আদিবাসী সম্প্রদায়ের একটি অনুষ্ঠানে যোগ দেওয়ার কথা ছিল তাঁর। আগের অনুষ্ঠান সূচি অনুযায়ী, ফাঁসিদেওয়ার বিধাননগরে আন্তর্জাতিক সাঁওতাল কনফারেন্সে যোগ দেওয়ার কথা ছিল রাষ্ট্রপতির। কিন্তু নিরাপত্তার কারণে গোঁসাইপুর থেকে ভার্চুয়াল মাধ্যমে সাঁওতাল কনফারেন্সে যোগ দেন তিনি। এই স্থান পরিবর্তন নিয়েই অসন্তুষ্ট হন রাষ্ট্রপতি মুর্মু। তিনি বক্তৃতার মাঝেই বলেন, 'মমতা আমার ছোট বোনের মতো। আমিও তো বাংলারই মেয়ে। হয়তো রাগ করেছে আমার ওপর।' একাধিক বিষয়ে তিনি মন্তব্য করেন। শনিবার সন্ধেতেই ধর্মতলার ধর্নামঞ্চ থেকে পালটা জবাব দেন খোদ মমতাও।
