আজকাল ওয়েবডেস্ক: পশ্চিমবঙ্গে ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধনী (এসআইআর) ঘিরে হেনস্থার প্রতিবাদে ধর্নায় বসেছেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জি। সোমবার চতুর্থ দিন। এদিন তিনি আরও ছাঁচাছোলা, আরও তীক্ষ্ণ। নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারকে নিশানা করে তিনি বলেন, সাহস থাকা ভাল দুঃসাহস থাকা ভাল নয়। 

সোমবার মমতা বলেন, “বেচারা ভ্যানিশ কুমার।তাঁর জন্য আমার খারাপ লাগে। আমি কোনও চেয়ারকে অপমান করছি না। ভ্যানিশ কথাটা ব্যবহার করছি কারণ, কালো লোকেদের ওয়াশিং মেশিনে ঢুকিয়ে হোয়াইট করে দেওয়া হয়। তাই ভ্যানিশ কথাটা ব্যবহার করছি। স্ট্রং ভ্যানিশিং পাউডার। আজকেও আমি শুনলাম, অফিসারদের মিটিং করে হুমকি দেওয়া হয়েছে। শুধু এখন অ্যাকশন নেবেন তা নয়, যদি ওঁনার কথা না শোনেন। মে মাসের পরেও নাকি অ্যাকশন নেবেন। আমি বলি, সাহস থাকা ভাল কিন্তু দুঃসাহস থাকা ভাল নয়।”

এখানেই থামেননি মমতা। তিনি কমিশনকে নিশানা করে আরও বলেন, “অফিসারদের যাঁরা ভয় দেখাচ্ছেন, তাঁরা মুর্খের স্বর্গে বাস করছেন। বাংলার মানুষ মাথানত করবে না। মে মাসের পর দু’মাস আপনি একটু জবরদস্তি করবেন। অফিসাররা সামলে নেবেন। আপনি নিজে কোথায় থাকবেন তার ঠিক নেই। যেন সুপার গড, স্পাইডারম্যান হয়ে গেছে। যা ইচ্ছে তাই করতে পারে। আপনাদের মতো লোক থাকলে গণতন্ত্রের সর্বনাশ হয়।’’

পশ্চিমবঙ্গের প্রাক্তন রাজ্যপাল সি ভি আনন্দ বোসের পদত্যাগ প্রসঙ্গও উঠে আসে মমতার বক্তব্যে। তিনি বলেন, “রাজ্যপালকে হঠাৎ করে সরিয়ে দিল। এর মধ্যে অনেক কাহানি (গল্প) আছে। ডাল মে কুছ কালা হ্যাঁয়। আমি এটা উদ্ধার করবই। লোকভবন এখন বিজেপি ভবন হবে। ওখান থেকে টাকা আমদানি রপ্তানি হবে। তাই ভোটের এক মাস আগে সব চেঞ্জ করে দিতে হল।”

প্রসঙ্গত, রবিবার শহরে পৌঁছেছে কমিশনের ফুল বেঞ্চ। মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের সঙ্গে রয়েছেন নির্বাচন কমিশনরা সুখবীর সিং সান্ধু এবং বিবেক জোশী। কলকাতায় পা দিয়েই দফায় দফায় বিক্ষোভের মুখে পড়তে হয়েছে জ্ঞানেশ কুমারকে। সোমবার সর্বদলীয় বৈঠক ডেকেছিল কমিশন। সেই বৈঠক শেষে তাঁর বিরুদ্ধে এবং কমিশনের বিরুদ্ধে মহিলাদের বিরুদ্ধে অভব্য আচরণের অভিযোগ তুলেছেন তৃণমূলের চন্দ্রিমা ভট্টাচার্য। তিনি ছাড়াও সর্বদলীয় বৈঠকে তৃণমূলের হয়ে উপস্থিত ছিলেন ফিরহাদ হাকিম এবং রাজীব কুমার।