আজকাল ওয়েবডেস্ক: এসআইআর-এর মাধ্যমে গণতন্ত্রকে হত্যা করা হচ্ছে এই অভিযোগে এবং বাংলার বৈধ নাগরিকদের ভোটাধিকার কেড়ে নেওয়ার চক্রান্তের বিরোধিতায় শুক্রবার (৬ মার্চ) ধর্মতলার মেট্রো চ্যানেলে ধর্না শুরু করেছেন তৃণমূলনেত্রী মমতা ব্যানার্জি। মঞ্চে উপস্থিত থাকার কথা রয়েছে দলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক ব্যানার্জি।শহর কলকাতা এবং পার্শ্ববর্তী জেলা থেকে তৃণমূল নেতৃত্বদের ধর্নামঞ্চে আসার আহ্বান জানিয়েছিলেন অভিষেক। সেই আহ্বানে সাড়া দিয়ে প্রচুর সমর্থকরা উপস্থিত হয়েছেন ধর্নামঞ্চের সামনে। মুখ্যমন্ত্রী জানিয়েছেন, বিকেল ৪টে থেকে মিটিং চালু হবে।

মমতার সঙ্গে মঞ্চে উপস্থিত রয়েছে রাজ্যের বিধায়ক থেকে শুরু করে নেতামন্ত্রীরা। রয়েছেন দমকলমন্ত্রী সুজিত বসু, মেয়র ফিরহাদ হাকিম বিধায়ক দোলা সেন, সাংসদ জুন মালিয়া এবং অন্যান্য নেতৃত্ব। ধর্নামঞ্চে থাকবেন এসআইআর প্রক্রিয়ায় নাম বাদ যাওয়া ভোটার, থাকবেন এসআইআরে ‘মৃত’ বলে চিহ্নিত হওয়া জীবিত ভোটাররা। তৃণমূলপন্থী বিএলও সংগঠনও উপস্থিত থাকবে ধর্নায়। জেলাগুলি থেকে তৃণমূল বিধায়কেরা লোকজন নিয়ে উপস্থিত হয়েছেন মঞ্চে। 

নির্বাচন কমিশনকে বিজেপির দালাল বলে কটাক্ষ করলেন মুখ্যমন্ত্রী। ধর্নামঞ্চ থেকে তিনি বললেন, ‘‘লজ্জা রাখার জায়গা নেই। ভোটার তালিকায় মৃতেরা এখানে বসে রয়েছেন।’’ তিনি আরও বলেন, ‘‘দেখুন, এঁদের মৃত বলে ঘোষণা করা হয়েছে। কিন্তু এঁরা বসে থেকে প্রমাণ দিচ্ছেন, তাঁরা বেঁচে আছেন।’’

এসআইআর প্রক্রিয়া নিয়ে প্রশ্ন তুলে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, ‘‘আমরা ইঞ্চিতে ইঞ্চিতে খোঁজ রাখি। তাদের আমরা প্যারেড করাব। দেখুন, এঁরা মৃত এসআইআর প্রক্রিয়ায়। কিন্তু তাঁরা ভাল ভাবে বেঁচে। আমরা তাঁদের দীর্ঘায়ু কামনা করি।’’

খসড়া তালিকা থেকে বাদ গিয়েছে মিনাখাঁর রামকৃষ্ণ সারদা মিশনে প্রেসিডেন্ট মহারাজের নাম। এদিনের ধর্নামঞ্চে উপস্থিত হয়ে তিনি বলেন, ‘‘আমি রামকৃষ্ণ সারদা মিশন থেকে এসেছি। আজ ১৪ বছর হল মিনাখাঁ রামকৃষ্ণ সারদা মিশনের প্রেসিডেন্ট। তা সত্ত্বেও আমার নাম বাতিল করা হয়েছে। আমি বেলুড় মঠের দশম প্রেসিডেন্ট স্বামী বীরেশ্বরানন্দের মন্ত্রশিষ্য। আমি আজ দিদির কাছে এলাম। বললাম, এ রকম যদি হতে থাকে... সত্যের জয় হোক। এসআইআর যাতে উঠে যায়, ঠাকুর মহাশয়ের কাছে প্রার্থনা করছি।’’

প্রসঙ্গত, সিঙ্গুর আন্দোলনের সময়ে এই মেট্রো চ্যানেলেই ২৬ দিন অনশন করেছিলেন মমতা। ২০১৯ সালের ফেব্রুয়ারিতে রাজীব কুমারের বাড়িতে সিবিআই হানার প্রতিবাদে টানা কয়েক দিন ধর্না করেছিলেন এখানেই।