রিয়া পাত্র: একে একে মমতার হাত ছাড়ছেন বহু বছরের পুরনো সঙ্গীরা। মদন-অনুব্রত-চন্দ্রিমা হয়ে এবার তপন দাশগুপ্তও? রবিবার  সকালে জোর শোরগোল তপন দাশগুপ্তর ইস্তফা নিয়ে। এদিন তিনি নিজেই দলীয় কার্যালয়ে সাংবাদিক বৈঠক করে সিদ্ধান্ত জানান। এবার কি তবে ঋতব্রত শিবির? জল্পনা তুঙ্গে। তারমাঝেই অসিত মজুমদার বলছেন কথা বলবেন তপনের  সঙ্গে। 

 

 এমনিতেই হুগলি, তৃণমূলের ভিত শক্ত করার জায়গা। সেই হুগলিতে, দলের নেতাদের মধ্যে রাজনৈতিক বিভাজনও চোখে পড়েছে স্পষ্ট হয়ে। হুগলির আকাশ কখন যে সবুজ থেকে গেরুয়া হয়ে গেল, তা বুঝতেই পারেননি মমতা। বুঝতে পেরেছিলেন কি, দলের হারের কয়েকমাসের মাথায়, প্রায় সব পুরনো নেতা-নেত্রীরাই সঙ্গ ত্যাগ করবেন? 

মমতা ব্যানার্জির প্রায় চার দশকের রাজনৈতিক সঙ্গী। সপ্তগ্রামের প্রাক্তন বিধায়ককে তাঁর জমানায় মমতা দু'বার মন্ত্রীও করেছিলেন তাঁকে। রবিবার সেই তপন দাশগুপ্ত সব পদ ত্যাগ করেছেন।  তপন দাশগুপ্ত এর আগে, মে মাসেই আজকাল ডট ইন-কে জানিয়েছিলেন,  'আমি আপাতত হুগলির জেলার মানুষের পাশে থেকে কাজ করছি, মানুষ হয়ে কোনও দল হয়ে নয়।'

রাজনীতিতে, এক দলে থাকলেই, পরস্পর বিরোধী বলেই পরিচিত অসিত মজুমদার। সম্প্রতি কারাবাসের পরেও সাফ জানিয়েছিলেন, দলের সঙ্গে বেইমানি করবেন না। তপন দাশগুপ্তর দলত্যাগের কথা শুনে কী বলছেন? আজকাল ডট ইন-কে অসিত মজুমদার জানান, 'তপন দাশগুপ্ত দীর্ঘদিনের রাজনীতিবিদ, সিনিয়র নেতা। আমি খবর পেয়েছি। আমি কথা বলব ওঁর সঙ্গে।'

দলত্যাগেই কি তাহলে বিরোধ মিটছে? নাকি মিটছে মমতার খাতিরে? অসিত বলছেন, 'ওঁ মমতা ব্যানার্জির সঙ্গেই একাধিকবার বিধায়ক হয়েছেন। আমিও মমতার ব্যানার্জির জন্যই বিধায়ক হয়েছি। মমতা ব্যান্ররজির প্রতি যদি ওঁর কোনও ক্ষোভ থাকে, আমাকে সেটা জানতে হবে। আমি এই জেলার সভাপতি। আমি নিজেই কথা বলব। আমার পক্ষে যদি তা মেটানো সম্ভব হয়, আমি চেষ্টা করব। দেখুন দলের কর্মীরা কেউ মমতার সঙ্গ ছাড়ছেন না। নেতৃত্বরা তাহলে কেন ছাড়ছেন? আমি কথা বলব তপন দাশগুপ্তর সঙ্গে।' 

উল্লেখ্য, ভোটের মুখে হুগলি কেন্দ্রে দেবাংশু ভট্টাচার্যের নাম প্রার্থী হিসাবে ঘোষণা হওয়ার পরেই উষ্মা প্রকাশ করেছিলেন অসিত। পরে অবশ্য বরফ গলে। দেবাংশু নিজে গিয়ে অসিতের সঙ্গে কথা বলেন। একসঙ্গে ভোটের ময়দানেও তাঁদের দেখা যায়। ভোটে তৃণমূলের হার হলেও, অসিত কিন্তু রয়ে গিয়েছেন ময়দানেই।