আজকাল ওয়েবডেস্ক: শক্তিপুর থানার ভারপ্রাপ্ত আধিকারিকের উদ্দেশ্যে 'কুকথা' বলা এবং প্ররোচনামূলক ভাষণ দেওয়ার অভিযোগে রবিবার প্রায় সাড়ে পাঁচ ঘণ্টা জেরার মুখে পড়লেন নওদার 'আম জনতা উন্নয়ন পার্টি'র বিধায়ক হুমায়ুন কবীর। গত ৮ মে একটি জনসভা থেকে শক্তিপুর থানার ভারপ্রাপ্ত আধিকারিকের বিরুদ্ধে একাধিক 'কুকথা' বলেন হুমায়ুন।
এরপরই পুলিশের তরফ থেকে হুমায়ুন কবীরের বিরুদ্ধে শক্তিপুর থানায় ভারতীয় ন্যায় সংহিতার ১৯২, ১৯৬(২১),১৯৭,(১)(সি), ২৯৬ (বি), ১৩২, ৩৫৬ (২ ),৩৫২ ৩৫৩ (২ ) এবং ৩৫১ (২) ধারায় একটি স্বতঃপ্রণোদিত মামলা রুজু করা হয়।
এছাড়াও রেজিনগর থানা এলাকায় পৃথক একটি জনসভায় 'কুকথা' বলার অভিযোগে তাঁর বিরুদ্ধে রেজিনগর থানার পুলিশ সুয়ো মোটো মামলা রুজু করেছে। দু'টি মামলাতেই হুমায়ুনকে নোটিশ দেওয়া হলেও নওদার বিধায়ক রেজিনগর থানার দু'টি নোটিশের তালিম করে দু'বারই তদন্তকারী আধিকারিকের মুখোমুখি হয়েছেন। যদিও ৩ জুলাই হুমায়ুন কবীর শক্তিপুর থানার প্রথম নোটিশের পরিপ্রেক্ষিতে থানায় হাজিরা দেননি।
তিনি জানিয়েছিলেন, জুম্মার নামাজ পড়বেন বলে তিনি ব্যস্ত থাকায় শুক্রবার (৩ জুলাই) শক্তিপুর থানায় হাজিরা দিতে পারবেন না। ফের পুলিশের তরফ থেকে হুমায়ুন কবীরকে নোটিশ দিয়ে ১৯ জুলাই শক্তিপুর থানায় হাজিরা দিতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল।
হুমায়ুন কবীরের বিরুদ্ধে পুলিশের তরফ থেকে দাঙ্গায় উস্কানি দেওয়া, দু'টি ভিন্ন সম্প্রদায়ের মধ্যে শত্রুতা তৈরি করা, জাতীয় সংহতি নষ্টের চেষ্টা, সরকারি কর্মচারীকে আঘাত এবং কর্তব্যে বাধা দানের চেষ্টা, মানহানি ,উত্তেজনামূলক ভাষণ, অপরাধমূলক ভীতি প্রদর্শনের অভিযোগ আনা হয়েছে।
সেই মামলায় রবিবার সকাল ১১:৩৫ নাগাদ শক্তিপুর থানায় হাজিরা দেন নওদার বিধায়ক হুমায়ুন কবীর। সূত্রের খবর, হুমায়ুন কবীরের জন্য সাত পাতার 'কড়া' প্রশ্নপত্র তৈরি রেখেছিলেন তদন্তকারীরা। বিকেল ৪:৩৫ নাগাদ থানা থেকে বার হয়ে যান হুমায়ুন।
হুমায়ুন কবীর থানায় হাজির হতেই একের পর এক প্রশ্ন বাণে তাঁকে বিদ্ধ করতে থাকেন তদন্তকারীরা। হুমায়ুন কবীর একাধিক প্রশ্নের জবাব দেননি অথবা প্রশ্নের উত্তর এড়িয়ে যাওয়ার চেষ্টা করেছেন। কখনও আবার বিধায়ক স্বীকার করে নিয়েছেন শক্তিপুর থানার ভারপ্রাপ্ত আধিকারিকের ওপর তাঁর 'পুরনো কিছু রাগ' রয়েছে।
পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে জেরা চলাকালীন হুমায়ুন কবীরকে যথেষ্ট হতাশ এবং অসহায় লেগেছে। আজ হুমায়ুন যখন থানায় পৌঁছান সেই সময় তাঁর সঙ্গে এলাকার খুব কম মানুষ উপস্থিত ছিলেন। পুলিশ সূত্রের খবর আজ যাঁদের হুমায়ুনের সঙ্গে দেখা গিয়েছে তাঁরা বেশিরভাগ অন্য বিধানসভা এলাকার বাসিন্দা।
জেরা চলাকালীন পুলিশের কাছে হুমায়ুন কবীর একবার চা দেওয়ার অনুরোধ করলেও পুলিশের তরফ থেকে তাঁর সেই অনুরোধ রক্ষা করা হয়নি। দীর্ঘ সাড়ে পাঁচ ঘন্টা জেরা চলাকালীন হুমায়ুন কবীর চারটে বিস্কুট এবং এক গ্লাস জল পেয়েছেন পুলিশের কাছ থেকে।
পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, হুমায়ুন কবীর বিভিন্ন প্রশ্নের যে সমস্ত উত্তর দিয়েছেন তা তদন্তকারীদেরকে সন্তুষ্ট করতে পারেনি। আগামী কয়েকদিনের মধ্যেই হুমায়ুন কবীরকে ফের একবার জিজ্ঞাসাবাদের মুখোমুখি হতে পারে।
বিকেল সাড়ে চারটে নাগাদ শক্তিপুর থানা থেকে বার হওয়ার সময় হুমায়ুন কবীরকে শারীরিকভাবে বিধ্বস্ত দেখতে লাগছিল। সাংবাদিকরা তাঁকে একাধিক প্রশ্ন করলেও সেই সময় তিনি কোনও প্রশ্নের উত্তর দেননি। থানা থেকে বেরিয়ে নিজের গাড়িতে চেপে দ্রুত তিনি বেরিয়ে যান।
















