আজকাল ওয়েবডেস্ক: নজরে দিল্লি। বাংলার মুখ্যমন্ত্রী বঞ্চনা, লাঞ্ছনার কথা জোর গলায় বলেছেন দেশের রাজধানীর রাজপথে দাঁড়িয়ে। সুর চড়িয়েছেন একাধিক বিষয়ে। সোমবার সন্ধে গড়াতে, পারদ চড়ল যেন আরও কিছুটা। সূত্রের খবর, মধ্যরাতের বিমানে কলকাতা থেকে দিল্লি উড়ে যাচ্ছে রাজ্য পুলিশ।
সূত্রের খবর, একজন ডিএসপি এবং ইনস্পেক্টরের নেতৃত্বে ২২জন পুলিশের টিম যাচ্ছে দিল্লিতে। দলে থাকছে র্যাফ-এর সেকন্ড ব্যাটেলিয়ন, মহিলা পুলিশ। রাত একটা ৪০মিনিটের বিমানে দিল্লি উড়ে যাওয়ার কথা তাঁদের। সূত্রের খবর, দুটি বিমানে উড়ে যাচ্ছেন তাঁরা দিল্লিতে। সূত্রের খবর, বঙ্গভবন এবং মুখ্যমন্ত্রীর নিরাপত্তার কারণেই দিল্লিতে যাচ্ছেন তাঁরা।
এই প্রসঙ্গে উল্লেখ্য, বাংলার মুখ্যমন্ত্রী, তৃণমূল কংগ্রেস সুপ্রিমো মমতা ব্যানার্জি বিকেল চারটা নাগাদ পৌঁছে যান নির্বাচন সদনে। সঙ্গে দলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক ব্যানার্জি, সাংসদ কল্যাণ ব্যানার্জি এবং এসআইআর-এ ক্ষতিগ্রস্ত সদস্যদের কয়েকজন।
প্রায় ঘণ্টাখানেকের বৈঠকের পর, নির্বাচন সদনের বাইরে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হন মমতা ব্যানার্জি। সুর চড়িয়ে বললেন, 'এমন নির্বাচন কমিশন কখনও দেখিনি।' এদিন বৈঠক শেষে মমতা বলেন, 'আমি চারবারের মন্ত্রী, সাতবারের সাংসদ ছিলাম, আমি কখনও এরকম নির্বাচন কমিশন দেখিনি। উদ্ধত, মিথ্যেবাদী।' আমি বলেছিলাম, আমি চেয়ারের সম্মান করি। কারণ কোনও চেয়ার স্থায়ী নয় কারও জন্য।' সীমা প্রসঙ্গ মমতার গলায়। বলেন, 'সীমা খান্না কে? নির্বাচন কমিশনের কেউ নন। বিজেপির আইটি সেলের।'
এসআইআর, লকিজ্যাল ডিসক্রিপেন্সি নিয়ে আগেও সুর চড়িয়েছেন মমতা। এদিন দিল্লিতে দাঁড়িয়ে বোঝালেন স্পষ্ট করে, অন্যান্য রাজ্যের থেকে এই রাজ্যে পদবীর ব্যবহারে ভিন্নতা। নিজের উদাহরণ দিয়ে বোঝালেন, ইংরেজিতে মমতা ব্যানার্জি লেখা হলেও, বাংলায় তা হয় মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। চ্যাটার্জি, চট্টোপাধ্যায়। এভাবেই বহু নাম বাদ দেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ তাঁর। অভিযোগ এআই দিয়ে একনাগাড়ে নাম বাদ দেওয়া হয়েছে। মেয়েদের বিয়ের পর, ঠিকানা বদলের কারণে, পদবী বদলের কারণেও বহু নাম বাদ পড়েছে বলে অভিযোগ তাঁর। নির্বাচনের তিনমাস আগে কেন এসআইআর? সেই প্রশ্নও এদিন ফের করেন মমতা ব্যানার্জি।
নির্বাচন কমিশনের সঙ্গে বৈঠকে, কমিশন নিজেদের ক্যামেরাম্যানদের প্রবেশাধিকার দিলেও, বাইরের কোনও ক্যামেরাম্যানদের প্রবেশাধিকার দেওয়া হয়নি। এদিন তা নিয়েও সুর চড়ান মমতা। নির্বাচন কমিশনের সঙ্গে বৈঠকে, অপমান করা হয়েছে, বয়কট করে বৈঠক থেকে বেরিয়ে গিয়েছেন, এদিন সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে স্পষ্ট করে তাও বলেন মমতা।
