আজকাল ওয়েবডেস্ক: এসআইআর প্রক্রিয়ায় আদিবাসীদের হয়রানির অভিযোগে টানা নয় দিন আমরণ অনশনে বসেছিলেন তৃণমূল কংগ্রেসের আদিবাসী সেলের চেয়ারম্যান, বর্ধমান জেলার প্রাক্তন সভাধিপতি দেবু টুডু ও তাঁর অনুগামী তারক টুডু। তাঁরা সাফ জানিয়েছিলেন, কাগজ তাঁরা দেখাবেন না। ক্রমশ অসুস্থ হয়ে পড়ায় দু’জনেরই শারীরিক অবস্থা নিয়ে উদ্বেগ ছিল দলে। বর্ধমান মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের চিকিৎসকরা বলেছিলেন, ভর্তি হতে। তা না মানায় দেখার ছিল কীভাবে এই আন্দোলনের ‘এক্সিট রুট’ খুঁজে পাওয়া যায়। কৌতুহলের পারদ চড়তে থাকে। শেষে দলের তরফে সোমবার সমাবেশের ডাক দেওয়া হয়। ছিল কড়া পুলিশি ব্যবস্থা। মঞ্চ থেকে জেলা সভাপতি রবীন্দ্রনাথ চট্টোপাধ্যায় দেবুকে অনুরোধ করেন, জেলাশাসকের তরফ কমিশনকে তাঁদের দাবি জ্ঞাত করা হয়েছে। তাই শারীরিক কারণে তিনি যেন অনশন ভঙ্গ করেন। ‘অভিভাবকের’ কথা শুনে অনশন তুলে নেন দেবু ও তারক।

এরপরও কিন্তু গল্প শেষ হয়নি। এদিন সকাল থেকেই চরম প্রস্তুতি ছিল শাসকদলের তরফে। গত কয়েকদিন ধরে কার্যত ফাঁকা মঞ্চে দু’জনেই শীতের মধ্যে পড়ে ছিলেন। কেবলমাত্র মন্ত্রী স্বপন দেবনাথ বা জেলা সভাপতি রবীন্দ্রনাথ চট্টোপাধ্যায় এলে ভিড় বাড়ছিল। এদিন তো মঞ্চে তিলধারণের জায়গা ছিল না নেতাদের ভিড়ে। 

অনশন উঠে যাবার পরেও কিন্তু চূড়ান্ত হুঁশিয়ারি দিলেন মন্ত্রী বীরবাহা আর দেবু টুডু। এদিন বক্তব্যে বীরবাহা বলেন, “অকারণে ভূমিপুত্র, মূল নিবাসী মানুষদের হয়রানি করা হচ্ছে। আদিবাসী মানুষদের ক্রুদ্ধ করবেন না।” 

অন্যদিকে, দেবু টুডুও ছিলেন আক্রমণাত্মক। তিনি বলেন, “আমরা জ্ঞানেশ কুমারকে ধরতে যাব না। যদি একটাও নাম বাদ যায়, ওঁর খুড়তুতো ভাইদের আমরা বাস উঠিয়ে দেব। থাকতে দেব না।”

এই বক্তব্যের তীব্র প্রতিবাদ জানিয়েছেন বিজেপি নেতা মৃত্যুঞ্জয় চন্দ্র। তিনি বলেন, “এটাই ওদের সংস্কৃতি। মানুষের মনে ভয় ধরাতে চাইছে। প্রথম থেকেই এসআইআর প্রক্রিয়াকে বানচাল করতে চায় তৃণমূল।”