ইন্দ্রজিৎ সাহু: মাধ্যমিক পরীক্ষা ঘিরে বড়সড় চাঞ্চল্য রেল শহর খড়গপুরে। নিয়মিত পড়াশোনা ছেড়ে দেওয়া এক পড়ুয়া ভুয়ো অ্যাডমিট কার্ড বানিয়ে পরীক্ষাকেন্দ্রে ঢোকার চেষ্টা করতেই ফাঁস হয়ে গেল পুরো ঘটনা। সঙ্গে সঙ্গে খবর যায় প্রশাসন ও পুলিশের কাছে। আর তাতেই থমকে যায় তার ‘মাধ্যমিক-এর স্বপ্ন’। ঘটনাস্থল খড়গপুর সাউথ সাইড বয়েজ হাইস্কুল। সূত্রের খবর, ওই পড়ুয়া নবম শ্রেণির পর আর স্কুলেই যায়নি। ফলে মাধ্যমিকের ফর্ম ফিলাপ বা অ্যাডমিট কার্ড পাওয়ার কোনও প্রশ্নই ওঠে না। কিন্তু পরীক্ষা দেওয়ার তীব্র আকাঙ্ক্ষায় সে নিজেই ফোটোশপের মাধ্যমে একটি নকল অ্যাডমিট বানিয়ে ফেলে এবং তা দেখিয়েই পরীক্ষাকেন্দ্রে ঢোকার চেষ্টা করে।

তবে পরীক্ষকদের চোখ এড়ায়নি কারচুপি। ঢোকার মুখেই অ্যাডমিট যাচাই করতে গিয়ে সন্দেহ হয়। খুঁটিয়ে দেখতেই স্পষ্ট হয় কার্ডটি পুরোপুরি ভুয়ো। সঙ্গে সঙ্গেই বিষয়টি জানানো হয় মাধ্যমিক পরীক্ষার জেলা কনভেনরকে। খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পৌঁছয় খড়গপুর টাউন থানার পুলিশ এবং ওই পড়ুয়াকে তাদের হাতে তুলে দেওয়া হয়। জেলা কনভেনর সুভাষ হাজরা জানান, “পরীক্ষকরা প্রথমেই বুঝে যান অ্যাডমিটটি আসল নয়। সেটা তার নিজের তৈরি। তাই সঙ্গে সঙ্গে পুলিশে খবর দেওয়া হয়েছে। এখনকার ছোট ছোট পড়ুয়ারা সোশ্যাল মিডিয়া দেখে অনেক কিছু শিখছে। অভিভাবকদের আরও বেশি সচেতন হওয়া দরকার।”

এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে এলাকাজুড়ে শোরগোল পড়ে গিয়েছে। অনেকেই প্রশ্ন তুলছেন, এত কম বয়সে কীভাবে এমন সাহস পেল ওই পড়ুয়া? আবার অভিভাবকদের একাংশের মত, পরীক্ষার চাপ, ভবিষ্যৎ নিয়ে ভয় এবং সঠিক দিশার অভাব থেকেই এমন সিদ্ধান্ত নিতে বাধ্য হচ্ছে পড়ুয়ারা।
শিক্ষাবিদদের বক্তব্য, শুধুমাত্র শাস্তি দিয়ে সমস্যার সমাধান হবে না। বরং এই ধরনের ঘটনার পিছনে থাকা মানসিক চাপ ও সামাজিক কারণগুলি বোঝা জরুরি। পড়ুয়াদের সঙ্গে নিয়মিত কথা বলা, পড়াশোনার প্রতি আগ্রহ বাড়ানো এবং পরীক্ষাকে জীবনের একমাত্র মাপকাঠি হিসেবে না দেখার মানসিকতা তৈরি করাই পারে ভবিষ্যতে এমন ঘটনার রাশ টানতে।

অন্যদিকে এদিন দুর্গাপুরে সাপের কামড় খাওয়ার পরেও হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় পরীক্ষা দিয়েছে এক পরীক্ষার্থী। স্কুল সূত্রে জানা গিয়েছে, ওই পরীক্ষার্থীকে একটি নির্বিষ সাপ কামড়েছিল।