আজকাল ওয়েবডেস্ক: দক্ষিণ ২৪ পরগনার বারুইপুরে নাবালিকাকে গণধর্ষণ ও খুনের ঘটনায় এক নাটকীয় এবং চাঞ্চল্যকর মোড় এল। পুলিশের গুলিতে মৃত্যু হল এই মামলার অন্যতম মূল অভিযুক্ত প্রভাস মণ্ডলের। পুলিশ সূত্রে খবর, মঙ্গলবার গভীর রাতে ঘটনার পুনর্নির্মাণের জন্য প্রভাসকে বারুইপুরের সূর্যপুর এলাকায় নিয়ে যাওয়া হয়েছিল। সেই সময় সে হেফাজত থেকে পালানোর চেষ্টা করলে পুলিশ গুলি চালায়। গুরুতর জখম অবস্থায় তাকে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হলে চিকিৎসকরা তাকে মৃত বলে ঘোষণা করেন। পুলিশের দাবি, পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে প্রথমে তাকে সতর্ক করা হয়েছিল, কিন্তু সে কথা না শোনায় বাধ্য হয়েই গুলি চালাতে হয়।

১২ বছরের এক নাবালিকাকে গণধর্ষণের পর নৃশংস খুনের এই ঘটনায় গত কয়েকদিন ধরেই রাজ্যজুড়ে তীব্র ক্ষোভ ও উত্তেজনা তৈরি হয়েছিল। রবিবার সকালে সূর্যপুরের একটি পুকুর থেকে ওই কিশোরীর দেহ উদ্ধারের পর থেকেই ফুঁসছিল গোটা এলাকা। সিসিটিভি ফুটেজ ও স্থানীয়দের বয়ানের ভিত্তিতে পুলিশ প্রথম গ্রেপ্তার করে প্রভাস মণ্ডলকে। কিন্তু পুলিশের দাবি, জেরায় সে কোনও সহযোগিতা করছিল না এবং ক্রমাগত বিভ্রান্তিকর তথ্য দিচ্ছিল। সেই কারণেই মঙ্গলবার মধ্যরাতে তাকে নিয়ে ঘটনাস্থলে যান তদন্তকারীরা। তবে পুলিশের এই এনকাউন্টারের তত্ত্ব নিয়ে ইতিমধ্যেই নানা মহলে প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে। গোটা ঘটনার একটি পূর্ণাঙ্গ রিপোর্ট তৈরি করা হচ্ছে এবং বিষয়টি নিয়ে একটি ম্যাজিস্ট্রেট পর্যায়ের তদন্তের সম্ভাবনাও তৈরি হয়েছে। অপ্রীতিকর পরিস্থিতি এড়াতে বারুইপুর ও সংলগ্ন এলাকায় বিশাল পুলিশ বাহিনী মোতায়েন করা হয়েছে।

এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে ইতিমেধ্যই শুরু হয়েছে তীব্র রাজনৈতিক তরজা। কৃষ্ণনগরের তৃণমূল সাংসদ মহুয়া মৈত্র এই এনকাউন্টার নিয়ে রাজ্য পুলিশকে কাঠগড়ায় তুলে সমাজমাধ্যমে ক্ষোভ উগরে দিয়েছেন। তিনি লেখেন, "বারুইপুর ধর্ষণ ও খুনের মামলার অভিযুক্ত প্রভাস মণ্ডল এনকাউন্টারে নিহত! পশ্চিমবঙ্গ পুলিশ, রাজ্যে কী চলছে? বাঙালিরা দয়া করে নতুন বাংলাকে স্বাগত জানান— উত্তরপ্রদেশ ২.০। বিজেপি সরকারে নেই, কিন্তু এটা জঙ্গলরাজ।" অভিযুক্তের মৃত্যুর পর এলাকার আইনশৃঙ্খলার দিকে কড়া নজর রাখা হচ্ছে, তবে ঘটনার সত্যতা এবং পুলিশের দাবির আসল রূপটি সরকারি তদন্ত রিপোর্টের পরেই স্পষ্ট হবে।