রিয়া পাত্র: অভিষেক ব্যানার্জিকে নতুন করে সময় দিলেন লোকসভার অধ্যক্ষ ওম বিড়লা। বুধবারই বিকালেই তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদকের কাছে মেল পৌঁছয়। আগামী ১৯ জুন, বিকাল পাঁচটায় অভিষেক ব্যানার্জিকে তাঁর বক্তব্য জানানোর জন্য সময় দিয়েছেন অধ্যক্ষ। সূত্রের খবর, অধ্যক্ষের সঙ্গে দেখা করতে দিল্লি যাচ্ছেন অভিষেক।

রবিবার অভিষেক ব্যানার্জি চিঠি দিয়েছিলেন লোকসভার অধ্যক্ষকে। সেই চিঠি অধ্যক্ষের কাছে পৌঁছে দেন তৃণমূলের দুই সাংসদ সাগরিকা ঘোষ, কীর্তি আজাদ। ঠিক তার পরের দিন, নিয়োগ দুর্নীতি মামলায় অভিষেককে তলব করে ইডি। যখন অভিষেককে জিজ্ঞাসাবাদ করছে কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা, তখনই মেল আসে দিল্লি থেকে। স্বাভাবিকভাবেই অভিষেক ফোন ব্যবহার করতে পারেননি, বিষয়টি সমন্ধে জানাতেও পারেনি। 

এরপর কীর্তি আজাদ অধ্যক্ষের দপ্তরে দেখা করেন। জানান, যেহেতু অভিষেক কলকাতায় ইডিতে হাজিরা দিচ্ছেন, তাই তাঁর পক্ষে অধ্যক্ষের দপ্তরে এই অতি স্বল্প সময় নোটিশে পৌঁছন সম্ভব হচ্ছে না। পরবর্তী কোনও একটি তারিখে সময় দেওয়া হোক। তাতেই সাড়া দিয়েছেন অধ্যক্ষ। অভিষেক ব্যানার্জিকে নতুন করে সময় দিলেন লোকসভার অধ্যক্ষ ওম বিড়লা। 

লোকসভার দল ভাঙানোর খেলা রুখতে রবিবারেই কোমর বেঁধে নেমেছে সর্বভারতীয় তৃণমূল কংগ্রেস। এআইটিসি সংসদীয় দলের পক্ষ থেকে লোকসভার অধ্যক্ষের কাছে একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ চিঠি পাঠান দলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক তথা তৃণমূল সংসদীয় দলের নেতা অভিষেক ব্যানার্জি। সংবাদমাধ্যমে বেশ কিছুদিন ধরেই গুঞ্জন ছড়াচ্ছিল যে, লোকসভায় তৃণমূলের কয়েকজন সাংসদ নাকি নিজেদের মূল দল থেকে আলাদা করে একটি স্বতন্ত্র গোষ্ঠী বা উপদল হিসেবে স্বীকৃতি পাওয়ার চেষ্টা করছেন। এই খবর প্রকাশ্যে আসতেই বিন্দুমাত্র সময় নষ্ট না করে সরাসরি অধ্যক্ষের দরবারে কড়া আইনি বার্তা পাঠান ডায়মন্ড হারবারের সাংসদ।

তাঁর চিঠিতে অভিষেক ব্যানার্জি অত্যন্ত স্পষ্ট এবং দৃঢ় ভাষায় মনে করিয়ে দেন যে, তৃণমূল কংগ্রেস একটি অখণ্ড এবং অবিভাজ্য রাজনৈতিক দল। আইন অনুযায়ী, লোকসভার পরিষদীয় দল কখনই মূল রাজনৈতিক দলের বাইরে স্বাধীন কিছু নয়, বরং সেটি মূল দলেরই একটি অংশ মাত্র। তাই কয়েকজন সাংসদ নিজেদের ইচ্ছামতো দল থেকে বেরিয়ে এসে আলাদা কোনও  গোষ্ঠী তৈরি করতে পারেন না এবং সংসদের ভেতরে তেমন কোনও  স্বতন্ত্র স্বীকৃতিও দাবি করতে পারেন না। দল ও দলের হুইপের সিদ্ধান্তই এখানে চূড়ান্ত।

এইসবের পরপরই জানা যায়, লোকসভার 'বিদ্রোহী' তৃণমূল সাংসদরা পৃথক গোষ্ঠী তৈরি না করে, সরাসরি মিশে গিয়েছেন অন্য একটি দলের সঙ্গে।

তবে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে, লোকসভার অধ্যক্ষ সব পক্ষের সঙ্গে বসেই কথা বলতে চেয়েছেন, সেই কারণেই তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদককে অভিষেক ব্যানার্জিকে তলব করা হয়েছে বলে তথ্য। 

&t=45s