আজকাল ওয়েবডেস্ক: রাজ্যপাট গিয়েছে আগেই। বেরিয়ে আসছে একের পর চমকানো, ধমকানোর ঘটনা। অভিযুক্ত এই বিধায়ক গ্রেপ্তার হয়েছেন আগেই। এবার তাঁর গায়ের জোরে দখল করা নিজেদের জমি উদ্ধারে মাঠে নামলেন স্থানীয়রা। 

ঘটনার কেন্দ্রবিন্দু পূর্ব বর্ধমানের কাঞ্চননগর।  এই এলাকার বাসিন্দা প্রাক্তন বিধায়ক  খোকন দাস। এলাকার মানুষের অভিযোগ,  সামান্য কয়লার গুল বিক্রেতা খোকন রাজনীতির সিঁড়ি বেয়ে যত উপরে উঠেছেন, ততই বেড়েছে তাঁর প্রতাপ। স্থানীয়রা জানিয়েছেন, তৃণমূল কংগ্রেস ক্ষমতায় থাকাকালীন তাঁর দাপটে এলাকায় বাঘে গরুতে একসঙ্গে জল খেত। বাসিন্দাদের দাবি, নিজের আওতায় থাকা 'কাঞ্চন' উৎসবের মাঠ বা কঙ্কালেশ্বরী মন্দিরের উন্নয়নের নামে খোকন একের পর এক জমি হাতিয়ে নিয়েছেন। দাবি, কারও গিয়েছে কয়েক কাঠা আবার কেউ হারিয়েছেন নিজের আট বিঘার বেশি জমি। প্রায় তিরিশ জনেরও বেশি মানুষের জায়গায় খোকনের সাম্রাজ্য বেড়ে উঠেছে। 

বাসিন্দাদের অভিযোগ,  খোকন আঙুল দিয়ে যেদিকে দেখাতেন, সেই জমি তাঁর হয়ে যেত। এভাবে জমি হাতিয়ে পার্ক হয়েছে,মেলার মাঠ বাড়ানো হয়েছে। অন্যের জায়গায় রাস্তা হয়েছে। পাঁচিল তুলে দেওয়া হয়েছে। বড় বড় পুকুর,জলা রাতারাতি বুজিয়ে ফেলা হয়েছে। 

বাসিন্দাদের দাবি, সবার জমির কাগজ রয়েছে। তাঁদের আরও দাবি, এই জমি সংক্রান্ত বিষয় নিয়ে খোকনের কাছে গেলে কাউকে অল্প টাকা দিয়েছেন,  কাউকে দেবেন বলে কথা দিয়েছেন। আবার কাউকে কিছুই দেন নি। 

অভিযোগ, এই নিয়ে যখন তাঁরা বলতে গিয়েছেন তখন কখনও ভয় দেখানো হয়েছে আবার কখনও হুমকি দেওয়া হয়েছে। প্রাণের ভয়ে তাঁরা চুপ থেকেছেন। মামলা করে,অভিযোগ জানিয়েও কিছু লাভ হয়নি।

শুক্রবার সকালে রীতিমতো আমিন এনে নিজেদের জায়গা মাপজোক শুরু করেন খোকনের হাতে জমি হারানো বঞ্চিতরা। তাঁরা মাঠের এক কোণে পিলার পুঁতে দেন। 

এইসময় বিজেপির কিছু কর্মী এসে বাধা দেন। তাঁরা পিলার উপড়ে দেন। কাজে বাধা দেন। বিজেপির দাবি, এভাবে হবে না। তাঁদের জেলা সভাপতি অভিজিৎ তা বা বিধায়ক মৌমিতা বিশ্বাস মিশ্রর কাছে যেতে হবে দাবিদারদের। কাগজ থাকলে প্রশাসনের কাছে জমা দিতে হবে। 

কিছুক্ষণ পরে খবর পেয়ে আলমগঞ্জ ফাঁড়ির পুলিশ কেন্দ্রীয় বাহিনী নিয়ে ঘটনাস্থলে আসেন। জানা গিয়েছে, পুলিশ তাঁদের জানায়, এভাবে জায়গা ঘেরা যাবে না। নির্দিষ্টভাবে থানায় অভিযোগ জানাতে হবে। কাগজপত্র জমা দিতে হবে। বিক্ষুব্ধরা জানান, তাঁরা প্রশাসনের দ্বারস্থ হবেন।