আজকাল ওয়েবডেস্ক: কলকাতায় লিওনেল মেসির সফরকে কেন্দ্র করে আবারও এক বড়সড় বিতর্ক সামনে এল। বিধান নগর পুলিশ কমিশনারেটে একটি চিঠি পাঠিয়েছে এলএমটেন (LM10)-এর নিজস্ব ম্যানেজমেন্ট টিম, যা নিয়ে ইতিমধ্যেই রাজ্য রাজনীতি এবং ক্রীড়ামহলে শোরগোল পড়ে গিয়েছে। সংগৃহীত চিঠির অংশ থেকে জানা যাচ্ছে, রাজ্যের প্রাক্তন ক্রীড়ামন্ত্রী অরূপ বিশ্বাসের বিরুদ্ধে মাঠের ভেতর নিয়মভঙ্গ এবং অনভিপ্রেত আচরণের অত্যন্ত বিস্ফোরক অভিযোগ এনেছে মেসির দল।
চিঠিতে অত্যন্ত স্পষ্টভাবে জানানো হয়েছে, স্টেডিয়ামে মেসির উপস্থিতির সময় পূর্বনির্ধারিত প্রোটোকল বা নিয়ম ছিল যে মাঠের ভেতর কোনও ভিআইপি বা বিশিষ্ট অতিথি থাকতে পারবেন না এবং শুধুমাত্র ৩ জন ক্যামেরা অপারেটর সেখানে উপস্থিত থাকবেন। কিন্তু সেই নিয়ম ভেঙে তৎকালীন ক্রীড়ামন্ত্রী মাঠের ভেতর ঢুকে পড়েন এবং এমন কিছু কর্মকাণ্ডে জড়িয়ে পড়েন যা নির্ধারিত কর্মসূচির অংশ ছিল না। অভিযোগ, তিনি মেসির সঙ্গে বারবার অলিখিত ও অনভিপ্রেতভাবে শারীরিক যোগাযোগ (physical contact) তৈরি করার চেষ্টা করেন, যার মধ্যে ছবি তোলার জন্য মেসির কাঁধে এবং কোমরে হাত দেওয়ার মতো বিষয়ও ছিল।
শুধু তাই নয়, মাঠে নিরাপত্তার অভাব নিয়েও তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেছে মেসির টিম। চিঠিতে বলা হয়েছে, সংরক্ষিত এলাকায় বেশ কিছু অননুমোদিত ব্যক্তি এবং প্রায় ৪০ জন অস্বীকৃত (unaccredited) ফটোগ্রাফার ও ক্যামেরা অপারেটর ঢুকে পড়েছিলেন। এই বিপুল বিশৃঙ্খলা এবং বহু মানুষের অনধিকার প্রবেশের ফলে মাঠের নিরাপত্তা ব্যবস্থা সম্পূর্ণ ভেঙে পড়ে। এর ফলে মেসির নিরাপত্তা, স্বাচ্ছন্দ্য এবং ব্যক্তিগত স্বাধীনতা চরমভাবে বিঘ্নিত হয়, যার জেরে মাঠের পূর্বপরিকল্পিত অনুষ্ঠানগুলো বাতিল করতে বাধ্য হন তাঁরা। মূলত এই নিরাপত্তাহীনতার কারণেই মেসি সেদিন নির্ধারিত সময়ের অনেক আগেই মাঠ ছেড়ে চলে যান।
তবে এই পুরো ঘটনার জন্য অনুষ্ঠানের মূল উদ্যোক্তা শতদ্রু দত্তকে কোনওভাবেই দায়ী করা হয়নি। মেসির ম্যানেজমেন্ট টিম সাফ জানিয়েছে, ইভেন্ট প্রমোটার শতদ্রু দত্তর নিয়ন্ত্রণে এই পরিস্থিতি ছিল না এবং এর জন্য তিনি বিন্দুমাত্র দায়ী নন। বরং মূল পরিকল্পনার বাইরে থাকা কিছু মানুষের প্রোটোকল লঙ্ঘন এবং মাঠের নিরাপত্তা ব্যবস্থার ত্রুটির কারণেই সতর্কতামূলক পদক্ষেপ হিসেবে অনুষ্ঠানটি দ্রুত শেষ করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছিল। চিঠিতে আরও যোগ করা হয়েছে যে, এই সফরের অন্য কোনও স্টেডিয়ামের অনুষ্ঠানে তাঁদের এমন কোনও নিরাপত্তা জনিত সমস্যায় পড়তে হয়নি এবং বাকি সব জায়গার সফরই অত্যন্ত সফলভাবে সম্পন্ন হয়েছিল। প্রাক্তন ক্রীড়ামন্ত্রীর এমন আচরণ এবং মাঠের নিরাপত্তা নিয়ে মেসির টিমের এই কড়া চিঠি এখন কলকাতার বুকে ফুটবল বিতর্ককে এক অন্য মাত্রায় নিয়ে গেল।















