আজকাল ওয়েবডেস্ক: রাজ্য রাজনীতিতে নজিরবিহীন মোড়। মমতা ব্যানার্জির ঘোষিত নাম ‘অতীত’ করে দিয়ে পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভায় নতুন বিরোধী দলনেতা হিসেবে ঋতব্রত ব্যানার্জি এবং চিফ হুইপ পদে বসেছেন আখরুজ্জামান। ৫৮ জন তৃণমূল বিধায়ক ঋতব্রত ও আখরুজ্জামানের সমর্থনে স্পিকারের কাছে লিখিত প্রস্তাব জমা দিয়েছিলেন। বিদ্রোহীদের দাবি, আরও ২ জন বিধায়ক এতে সই করবেন। এর আগে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের তরফে বিরোধী দলনেতা হিসেবে শোভনদেব চট্টোপাধ্যায় এবং চিফ হুইপ হিসেবে ফিরহাদ হাকিমের নাম জানানো হয়েছিল। কিন্তু সেই চিঠিতে বিধায়কদের সই জালের অভিযোগ ওঠার পর প্রেক্ষাপট সম্পূর্ণ বদলে যায়। বুধবার ৫৮ জন বিধায়ক আলাদা করে নতুন নামে সেই করায় তৃণমূলে এক বিরাট পরিবর্তন ঘটে গিয়েছে। এই পরিস্থিতিতে ঋতব্রতকে নিয়ে বিস্ফোরক ফেসবুক পোস্ট করলেন বেলেঘাটার তৃণমূল বিধায়ক কুণাল ঘোষ।
বিধানসভার সাম্প্রতিক পরিস্থিতি নিয়ে কুণাল ঘোষ লিখেছেন, ''যাঁরা দলের সিদ্ধান্তের বাইরে গিয়ে স্পিকারকে বিরোধী দলনেতা নিয়ে চিঠি দিলেন, সেই স্বচ্ছতার পূজারীদের জমা দেওয়া চিঠিটি কোথায়? কেন সামনে আসছে না? কেন তথাকথিত বিপ্লবী বিধায়করাও দেখাতে/দেখতে পাচ্ছেন না? সই তালিকা গোপন কেন? কীসের লুকোচুরি?'' কুণালের সংযোজন, ''তার জবাবে স্পিকার ঋতব্রতকে পদ বা ঘর যে দিলেন, সেই অনুমোদনের চিঠিটি কোথায়? সেটি এখনও কেউ দেখতে পাচ্ছে না কেন? যে বিধায়কদের দুটি চিঠিতেই সই আছে, তাঁরা কজন ও কে কে? তাঁরা কি এর আইনি পরিনাম জানেন?'' শেষে কুণাল লেখেন, ''যাঁরা মমতা ব্যানার্জিকে মানি বলে মুখোশপরা বিবৃতি দিচ্ছেন, তাঁরা শোভনদেব চট্টোপাধ্যায়কে মানলেন না কেন? ১০ বারের বিধায়ক, তৃণমূলের প্রথম বিধায়ক, এই বিধানসভার সিনিয়র মোস্ট বিধায়ক; তাঁর বদলে দলবদলু ঋতব্রতকে নেতা মানছেন কারা? কেন? আসল কারণ কী? মানুষের সামনে দাঁড়িয়ে বলতে পারবেন?''
দলীয় শৃঙ্খলাভঙ্গ এবং দলনেতার কর্তৃত্বকে অস্বীকার করার অভিযোগে সদ্য নির্বাচিত তৃণমূল বিধায়ক ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিরুদ্ধে তীব্র ক্ষোভ উগরে দিয়েছেন তৃণমূলের রাজ্য সাধারণ সম্পাদক কুণাল ঘোষ। এবার তিনি সরাসরি ঋতব্রতদের জমা দেওয়া চিঠি নিয়েই প্রশ্ন তুলে দিলেন।
কুণাল এর আগেও প্রশ্ন তুলেছেন, ভোটের মাত্র এক মাস কাটতে না কাটতেই এই ভোলবদল কেন? অভিষেক ব্যানার্জির ভূমিকা নিয়ে ঋতব্রতদের ক্ষোভের প্রসঙ্গে কুণাল ঘোষ মনে করিয়ে দেন, সিপিআইএম থেকে বহিষ্কৃত হওয়ার পর অভিষেক ব্যানার্জিই ঋতব্রতকে আশ্রয় দিয়েছিলেন, রাজ্যসভায় পাঠিয়েছেন এবং INTTUC-এর সভাপতি করেছিলেন। কুণাল প্রশ্ন তুলেছেন, 'যখন অভিষেকের হাত থেকে পতাকা নিয়েছিলেন, তখন লজ্জা বা কষ্ট হয়নি? আজকে তৃণমূলের মালিকানা নিতে যাচ্ছেন, অথচ আজও INTTUC থেকে ইস্তফা দেননি!' এই পরিস্থিতিতে কুণালের ফেসবুক পোস্ট ঘিরে নতুন করে জল্পনা তৈরি হয়েছে।















