আজকাল ওয়েবডেস্ক: 'আমি ভাবতাম, পার্টিটা আসলে বড়লোকদের'। আজকাল ডট ইন-এর সাক্ষাৎকারে বলেছিলেন, মনেপ্রাণে চেয়েছিলেন রাজনীতি থেকে দূরে থাকতে। রাজনীতিতে জড়িয়ে পড়লে কী হবে সংসারের? সংসার চালাতে পরিচারিকার কাজ করতেন। গুশকরার সেই কলিতা মাঝি, ২৬-এর ভোট জিতে বিধায়ক হয়েছিলেন, হলেন রাজ্যের মন্ত্রীও। সোমবার শুভেন্দু-ক্যাবিনেটে নাম উঠল কলিতা মাঝির। আর তাঁর লড়াইয়ের গল্প হল উদাহরণ।
আসতে না চেয়েও, একদিন রাজনীতিতে এসেছিলেন কলিতা, মানুষের পাশে দাঁড়াবেন বলে। তারপরেই ২০২১-এর ভোটে তাঁকে প্রার্থী করেছিল বিজেপি। যদিও সেবার ভোটে জিততে পারেননি তিনি। সেবার ১১ হাজার ৮১৫ ভোটে হেরেছিলেন। তিনি যেমন মাঝের পাঁচ বছরে নিজের উপর ভরসা হারাননি, তেমনই দলও ভরসা হারায়নি তাঁর উপর। ২০২৬ সালে, ফের প্রার্থী করা হয় কলিতাকেই। তৃণমূল প্রার্থীকে ১২ হাজার ৫৩৫ ভোটে হারিয়ে তিনি জিতেছিলেন আউশগ্রামে। সেই কলিতা এবার শুভেন্দু ক্যাবিনেটে।
আজকাল ডট ইন-এর সাক্ষাৎকারে কলিতা মাঝি বলেছিলেন তাঁর বেড়ে ওঠার কথা, তাঁর রাজনীতিতে আসার কথা। বাড়ি মঙ্গলকোট থানার গ্রাম। দরিদ্র পরিবার। দরিদ্র শ্বশুরবাড়িও। দিন আনে দিন খায় সংসারেও, শান্তির কমতি ছিল না। বলেছিলেন, দেখুন 'টাকা-পয়সা হয়তো নেই আমাদের সেরকম ঘরবাড়িও নেই কিন্তু যেটুকু আসতো খুব আনন্দতে থাকতাম আমরা খুব হাসি খুশি থাকতাম। তারপরে রাজনীতির একটা প্রস্তাব এল।' তারপর রাজনীতিতে ধীরে ধীরে আস্থা, ভরসার জায়গা তৈরি করলেন কলিতা। জেতার পর, উচ্ছ্বাসে ভেসে ঢুকলেন গ্রামে।
বিধায়ক হয়ে, কী করবেন সাধারণ মানুষের জন্য? মন্ত্রী হওয়ার আগেই কলিতা জানিয়েছিলেন লক্ষ্য। বলেছিলেন, 'আমার জঙ্গলমহল, গত ১০-১৫ বছরে, আগের সরকার উন্নয়ন করেনি এমনটা নয়, করেছে, কিন্তু শুধু তাদের লোকেদেরই। নিজেরা পকেট ভরেছে, গাড়ি-বাড়ি করেছে। সাধারণ মানুষের কথা ভাবেনি। তাদের শুধু ব্যবহার করা হয়েছে। আমি হেঁতে ঘুরে দেখেছি, জল নেই, রাস্তা নেই, বাড়ি নেই, সবচেয়ে বড় কথা, আমাদের একটা ঠিকঠাক স্বাস্থ্যকেন্দ্র নেই। জঙ্গলে যদি আগুন লাগে, সেই আগুন নেভাতেও আমাদের অন্য বিধানসভার সাহায্য চাইতে হয়। কর্ম নেই মানুষের। অভাব চতুর্দিকে। সেসব দেখতে হবে আমাকে।'















