আজকাল ওয়েবডেস্ক: ২০১৩। বঙ্গে তখন মমতা জমানা। কামদুনির গণধর্ষণ-খুন মামলায় উত্তাল হয়েছিল রাজ্য। বুধবার সেই কামদুনির নির্যাতিতার পরিবার হাজির হয়েছিল বর্তমান মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর দরবারে। অন্যদিকে শুভেন্দুর জমানায় খুলেছে মমতা জমানায় ঘটে যাওয়া আরজি কর কাণ্ডের ফাইলও। সেসবের মাঝেই, বুধবারেই, মমতার গলায় কামদুনি-আরজিকর কাণ্ড।
বুধবার যখন কামদুনির নির্যাতিতার পরিবার হাজির হয়েছিল শুভেন্দু অধিকারীর জনতার দরবারে, ঠিক সেদিনই মমতা ব্যানার্জি লাইভে এসে বলেন, 'যাঁরা বলছেন কামদুনিতে আমি যাইনি, যাঁরা বলছেন আমি আরজিকরের ঘটনায় যাইনি, তাঁরা ভুল বলছেন। হতে পারে তাঁদের কাছে তথ্য নেই, আমি নিজে ছুটে গিয়েছিলাম। ঘটনা ঘটার সময় আমি ছিলাম ঝাড়গ্রামে। আমি নিজে ওখান থেকে আসতে আসতে বাবা-মায়ের সঙ্গে ফোনে কথা বলেছিলাম। কামদুনিতেও তাঁদের পরিবারের কাছে আমি ছুটে গিয়েছিলাম। এটা বলবেন না আমি যাইনি।'
আরজিকর ঘটনা প্রসঙ্গে মমতা আরও বলেন, 'তাঁদের জন্য আমি রাস্তায় নেমেছিলাম, অনশন মঞ্চেও গিয়েছিলাম, তিন-চারবার মিটিং ডেকে, তাঁদের সঙ্গে কথাও বলেছিলাম। ভুলে যাবেন না তথ্য কিন্তু সত্য কথা বলে।'
এই প্রসঙ্গে উল্লেখ্য, কামদুনির নির্যাতিতার পরিবারের অভিযোগ, দীর্ঘ আইনি প্রক্রিয়ার চড়াই-উতরাই পার করলেও মামলার একাধিক গুরুত্বপূর্ণ ও রহস্যময় দিক আজও অমিমাংসিতই রয়ে গিয়েছে। ঘটনার গতিপ্রকৃতি তুলে ধরে তাঁরা জানান, এই মামলায় নিম্ন আদালত প্রথমে ৬ জন অভিযুক্তকে দোষী সাব্যস্ত করেছিল। তাদের মধ্যে ৩ জনের মৃত্যুদণ্ড এবং ৩ জনের যাবজ্জীবন কারাদণ্ডের নির্দেশ দেওয়া হয়।
২০২৩ সালে কলকাতা হাইকোর্ট নিম্ন আদালতের সেই রায় বদলে দেয়। মূল অভিযুক্ত আনসার আলির ফাঁসির সাজা কমিয়ে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেওয়া হয় এবং বাকি তিন আসামিকে পুরোপুরি বেকসুর খালাস করে দেওয়া হয়।
নির্যাতিতার পরিবারের অভিযোগ, 'বছরের পর বছর পেরিয়ে গেলেও আমরা আসল বিচার পেলাম না। সত্যিটা আড়াল করতেই কি মামলাটি ধামাচাপা দেওয়া হচ্ছে? আমরা চাই এই ঘটনার নতুন করে তদন্ত হোক এবং দোষীরা শাস্তি পাক।' পরিবারের ক্ষোভের মাঝেই, প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জির কথায় উঠে এল, কামদুনি প্রসঙ্গ।
















