আজকাল ওয়েবডেস্ক: ক্ষমতার চরিত্র হল তা চিরদিন থাকে না। আর ক্ষমতা না থাকলে, ক্ষমতার বন্ধুরাও থাকে না। ভোটে ভরাডুবির পর তা বোধহয় বারবার বুঝতে পারছেন তৃণমূল নেত্রী মমতা ব্যানার্জি। ভোটে হারের পর ধর্মতলার ওয়াই চ্যানেলে ধর্নাতেও দলনেত্রী ছিলেন। কিন্তু হাত গোনা কিছু নেতা বাদ দিলে ছিলেন না অধিকাংশ নেতারাই। মুখ্যমন্ত্রীর কুরশি হারিয়েছেন একমাসও হয়নি। তার মধ্যেই এই ছবি। ক্ষমতা যেতেই একা মমতা। দলের বিদ্রোহী বিধায়করা হাত মিলিয়েছেন তাঁরই দলের উলুবেড়িয়া পূর্বের বিধায়ক ঋতব্রতর সঙ্গে। সেই ঋতব্রতকে বিরোধী দলনেতা হিসেবে স্বীকৃতিও দিয়েছেন বিধানসভার স্পিকার। এই পরিস্থিতিতে প্রশ্নের মুখে পড়তে হল মেদিনীপুরের সাংসদ জুন মালিয়াকে। আজকাল ডট ইন-এর তরফে যোগাযোগ করা হয়েছিল জুনের সঙ্গে। আর তাতেই নিজের অবস্থান স্পষ্ট করলেন 'এখনও পর্যন্ত' মমতার সঙ্গে থাকা সাংসদ। 

কী বললেন জুন? নতুন সরকারের পদক্ষেপের প্রশংসা করে জুন বলেন, ''আমার শুধু এইটুকুই বক্তব্য, বাংলায় যে নতুন সরকার তৈরি হয়েছে,  নতুন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দুবাবুকে আমার শুভেচ্ছা। খুব ভাল মতোই তিনি এগোচ্ছেন। আমরা দেখলাম যে বিরোধী বিধায়কদের নিয়ে উনি প্রশাসনিক বৈঠক করেছেন। একজন সাংসদ হিসেবে আমি এই পদক্ষেপে খুশি।'' জুনের সংযোজন, ''আমি মানুষের কাজ করতে চেয়েছি। আগামী দিনেও যাতে আমি সুস্থভাবে কাজ করতে পারি, সেটাই আমার আশা। মানুষ আমাকে নির্বাচিত করেছে। সুতরাং আমি তো এখন রিজাইন দিয়ে চলে যেতে পারি না কোথাও। যদি আমার ইচ্ছেও করে রিজাইন দিতে আমি পারব না। কারণ মানুষ আমাকে নির্বাচিত করে এনেছে।''

মেদিনীপুরের সাংসদ আরও বলেন, ''আমি যার জন্য আমি পলিটিক্সে এসেছি, সেটা হল মানুষ। আমি অন্য কোনও এজেন্ডা নিয়ে পলিটিক্স করতে আসিনি। আর বারবার তো আমাদেরকে দল থেকেও বুঝিয়ে দেওয়া হয়েছিল যে আমরা কোনও পলিটিক্যাল জায়গা থেকে আসিনি। আমরা একটা অন্য জগত থেকে এসেছি। সুতরাং অন্য জগত থেকে এসে যতটুকু আমি মানুষের উপকার করতে পেরেছি এই বিগত পাঁচ ছ বছর ধরে, করেছি। আগামী দিনেও করতে চাই। সেইটুকু জায়গা যেন আমাকে করে দেওয়া হয়।''

কিন্তু আপনি কি মমতা ব্যানার্জির সঙ্গে আছেন নাকি বিরোধী গোষ্ঠীতে? জুনের কৌশলী উত্তর, ''তৃণমূলে সবাই দিদিকে ভালবাসে। আমিও স্পষ্ট করে জানিয়ে দিতে চাই যে, দিদির প্রতি আমাদের ভালবাসা সবসময় অক্ষুন্ন থাকবে। দিদি বিরাট মাপের নেত্রী।''