রিয়া পাত্র


রাজ্যের বাইরে বারে বারে চরম হেনস্থার মুখে পড়ছেন বাংলাভাষীরা।  গত কয়েকদিনে বাংলার মুখ্যমন্ত্রী ঘটনা প্রসঙ্গে সরব হয়েছেন বারে বারে। তিনি সাফ জানিয়েছেন, কেবল বাংলা ভাষার নয়, তিনি কোনও ভাষার অপমানই মেনে নেবেন না। ভাষা আন্দোলন শুরুর ডাকা দিয়েছেন তৃণমূল কংগ্রেস সুপ্রিমো। অন্যদিকে বিজেপি নেতা সুকান্ত মজুমদার আবার বলছেন,  তিনি চান ইউসূফ পাঠান, কীর্তি আজাদ লোকসভায় দাঁড়িয়ে, সাকেত গোখলে রাজ্যসভায় দাঁড়িয়ে রবীন্দ্রনাথের কবিতা আবৃত্তি করুন। এতদূর পর্যন্ত ঠিক ছিল। কিন্তু আবৃত্তির কথা বলতে গিয়ে, একটু বিপত্তি ঘটিয়েছেন সুকান্ত। তৃণাঙ্কুরের শেয়ার করা ওই ভিডিওতে সুকান্তকে বলতে শোনা যায়, ‘আমি তো চাই  ইউসূফ পাঠান লোকসভার ফ্লোরে দাঁড়িয়ে রবীন্দ্রনাথের আবৃত্তি করুন সেখানে। যারা তোমার নিভায়েছে বালু…।

এই পরিস্থিতিতে নজর যায় মমতার দলের সাংসদ কীর্তি আজাদের দিকে। সুকান্ত তাঁকে বলছেন বাংলায় কবিতা আবৃত্তি করতে। কারণ একটাই কীর্তি আজাদ অবাঙালি। প্রশ্ন, কীর্তি অবাঙালি হলেও তিনি যখন বাংলায় ভোট লড়তে এলেন এবং জয়ী হয়ে সাংসদ হলেন, তখন কি তিনি বাংলায় কোনও অপ্রীতিকর পরিস্থিতিতে পড়লেন? আজকাল ডট ইন কীর্তিকে ফোনে ধরেছিল এই উত্তর জানতেই। 

আরও পড়ুন: তৃণমূলকে চ্যালেঞ্জ করতে গিয়ে বাংলা কবিতাতেই তোতলালেন সুকান্ত! ভিডিও পোস্ট তৃণমূল নেতার, হাসছেন

উত্তরে কী বললেন, ১৯৮৩ সালের বিশ্বকাপজয়ী দলের সদস্য বর্তমানের বর্ধমান-দুর্গাপুর কেন্দ্রের সাংসদ? 

বলছেন, ‘দেখুন আমি তো কেবল রাজনীতিবিদ নই। তারও আগে আমি একজন খেলোয়াড়। আমি নিজের ইচ্ছায় রাজনীতিতে এসেছি। আমাকে তো মানতেই হবে একজন ভাই হিসেবে, ছেলে হিসেবে যে ভালবাসা পাওয়ার কথা, আমি তার সবটাই পেয়েছি বাংলা থেকে। সেটা শুধু আজ নয়, প্রথম থেকেই। সত্যি বলতে, অতিথি দেব ভব, এই কথাগুলির প্রতিফলন বাংলাতেই দেখা যায়। আমার আজ পর্যন্ত এটা কখনওই মনে ই হয়নি আমি হিন্দি কথা বলি বলে আমাকে আলাদাভাবে দেখা হচ্ছে। আমি তো দেশ ঘুরেছি। বাংলার মতো সকলকে এমন মিলেমিশে দেখিনি।‘

বিজেপিকেও একহাত নিয়েছেন কীর্তি। বলছেন, ‘বিজেপি বাংলায় বিদ্বেষ  ছড়ানোর চেষ্টা করছে। সফল হচ্ছে না, বাংলায় বিশেষ করে, তাই আরও বেশি করছে। বিজেপি, মোদি বাঙালিদের  এত তুচ্ছ জ্ঞান করে। তারাই ভুল তথ্যও ছড়ায় বাংলাভাষীদের নিয়ে। বাংলায় ওদের কাজ সফল হয় না বলেই দেশের সামনে বাংলার মর্যাদা ক্ষুণ্ণ করার চেষ্টা করে। ‘ 

বাংলাভাষীদের উপর আক্রমণ নিয়ে একুশের মঞ্চ থেকে বারবার সরব হন তিনি। বক্তব্যের মাঝেই কোচবিহারের উত্তমকে মঞ্চে সকলের সামনে দেখান, যাঁর কাছে এনআরসি নোটিস এসেছে, তাও ভিনরাজ্য অসম থেকে। মমতা তাঁকে সামনে এনে জবাব চান বিজেপির কাছে।  বাংলাভাষীদের উপর আক্রমণের বিরোধীতায় গর্জে ওঠেন মঞ্চ থেকে। বলেন, ‘বাংলা ভাষার উপর চলছে বিরাট সন্ত্রাস। বাংলা ভাষায় কথা বলা নাকি যাবে না। কে মাছ খাবে, কে মাংস খাবে,  কে ডিম খাবে, সব ওরা ঠিক করে দিচ্ছেন। এত সহজ নয়। বাংলা এসব মানবে না। সব মানুষের অধিকার এখানে সংরক্ষিত হবে। ‘ 

কর্মীদের নির্দেশ দিয়ে তিনি বলেন, প্রতি শনি ও রবিবার সব ভাষাভাষী লোকদের নিয়ে সভা করতে।‌ তিনি বলেন, ‘২৭ জুলাই নানুর দিবসের দিন থেকে প্রতি শনি-রবিবার বাংলা ভাষার উপর যে অপমান, সন্ত্রাস তার বিরুদ্ধে সব ভাষাভাষী লোকেদের নিয়ে মিটিং-মিছিল করুন। যদি কোনও পরিযায়ী শ্রমিকদের পরিবার খবর দেয়, বিপদে আছেন, তাঁদের পাশে দাঁড়ান, আমাদের জানান। পরিযায়ী শ্রমিকদের বলব ফিরে আসুন। বাংলায় কাজের অভাব নেই।‘ আরও বলেন, ‘২৭ জুলাই থেকে ভাষা আন্দোলন শুরু করুন। ভাষার অপমান করলে ইঞ্চিতে ইঞ্চিতে বুঝে নেব। ভাষার উপর সন্ত্রাস মানছি না মানব না। আগামী নির্বাচন পর্যন্ত, টানা এই আন্দোলন চলবে। আপনাদের বলব আপনারা আরও বেশি করে বাংলায় কথা বলুন।‘

 

এর আগেও, ১৬ জুলাই বৃষ্টি মাথায় নিয়ে পথে নামে তৃণমূল কংগ্রেস। পথে নামেন মমতা-অভিষেক। মিছিল শেষ ডেরিনা ক্রসিংয়ে বক্তব্য রাখেন দলের সুপ্রিমো মমতা ব্যানার্জি।  বক্তব্য জুড়ে শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত যেমন বিঁধলেন কেন্দ্র সরকারকে। তেমনই মনে করান, দেশ জুড়ে অকারণ  বাঙালিদের উপর এই অত্যাচার মেনে নেবেন না তিনি।  বক্তব্যে এদিন মমতা সাফ জানান, কোন পন্থায়, কীভাবে বাংলাকে হেনস্থা করার পরিকল্পনা করছে গেরুয়া শিবির। সেদিন মমতা বলেন, বিজেপি শাসিত রাজ্যগুলিকে লুকিয়ে লুকিয়ে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে, পরিষ্কার বলা হয়েছে, যাকেই সন্দেহ হবে, বাংলা ভাষায় কথা বলে, গ্রেপ্তার করবে, ডিটেনশন ক্যাম্পে সেখানে রেখে দেবে। কেউ আত্মীয়ের বাড়িতে বেড়াতে গেলেও রেহাই পাচ্ছেন না। পড়তে হচ্ছে হেনস্থার মুখে। এদিনও ফের দফায় নাম করে এবং না করে বিজেপিকে বিঁধেন মমতা।