আজকাল ওয়েবডেস্ক: সরকারি সম্পত্তি কী তবে ব্যক্তিগত বাড়ির ‘গুদামঘরে’? পশ্চিম মেদিনীপুরের দাঁতন থানার পুন্দড়া গ্রামে ঘটে যাওয়া এক ঘটনাকে ঘিরে এখন এমনই প্রশ্ন ঘুরপাক খাচ্ছে জনমনে। এক তৃণমূল নেতার বাড়ি থেকে সরকারি টিউবওয়েল ও তার আনুষঙ্গিক সরঞ্জাম উদ্ধারের ঘটনায় রীতিমতো তোলপাড় রাজনৈতিক মহল। অভিযোগের তির দাঁতনের পুন্দড়া গ্রামের বাসিন্দা তথা এলাকার প্রভাবশালী তৃণমূল নেতা চিন্ময় পয়ড়ার দিকে। 

স্থানীয়দের দাবি, গ্রামের জন্য বরাদ্দ সরকারি টিউবওয়েল গোপনে সরিয়ে ফেলার চেষ্টা চলছিল। এমনকি সেগুলি বাড়ির পিছনের পুকুরে ফেলে দিয়ে প্রমাণ লোপাটের পরিকল্পনাও করা হয়েছিল বলে অভিযোগ। সন্দেহজনক গতিবিধি নজরে আসতেই ক্ষোভে ফেটে পড়েন গ্রামবাসীরা। মুহূর্তের মধ্যে ছড়িয়ে পড়ে উত্তেজনা। গ্রামবাসীরা অভিযুক্ত নেতার বাড়ি ঘিরে বিক্ষোভ দেখাতে শুরু করেন। পরিস্থিতি বেগতিক বুঝে খবর দেওয়া হয় দাঁতন থানায়। পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে বাড়ি তল্লাশি চালিয়ে সরকারি টিউবওয়েল ও একাধিক সরঞ্জাম উদ্ধার করে। 

এরপরই উঠতে শুরু করেছে একাধিক অস্বস্তিকর প্রশ্ন। সাধারণ মানুষের জন্য বরাদ্দ সরকারি সম্পদ কীভাবে একজন রাজনৈতিক নেতার বাড়িতে পৌঁছল? কার নির্দেশে তা সেখানে রাখা হয়েছিল? এগুলি কি আত্মসাতের চেষ্টা, নাকি এর পিছনে রয়েছে আরও বড় কোনও দুর্নীতির চক্র? 

ঘটনার জেরে বিরোধীরা তৃণমূলের বিরুদ্ধে তীব্র আক্রমণ শানিয়েছে। বিরোধের অভিযোগ, “সরকারি সম্পত্তি লুট এখন প্রতিষ্ঠানে পরিণত হয়েছে। সাধারণ মানুষের অধিকার কেড়ে নিয়ে দলীয় নেতাদের বাড়িতে সরকারি সামগ্রী মজুত করা হচ্ছে।” 

যদিও সমস্ত অভিযোগকে রাজনৈতিক ষড়যন্ত্র বলে উড়িয়ে দিয়েছেন চিন্ময়। তাঁর দাবি, “আমি কোনও বেআইনি কাজ করিনি। সমস্ত কাজ সরকারি নিয়ম ও টেন্ডার প্রক্রিয়া মেনেই হয়েছে। আমাকে হেয় করার জন্য মিথ্যা অভিযোগ তোলা হচ্ছে।” 

কিন্তু প্রশ্ন উঠছে, যদি সবই নিয়মমাফিক হয়, তাহলে সরকারি টিউবওয়েল উদ্ধার হল কেন? আর কেনই বা তা কোনও সরকারি প্রকল্প এলাকার বদলে নেতার বাড়িতে পাওয়া গেল? দাঁতন থানার পুলিশ ইতিমধ্যেই তদন্ত শুরু করেছে। উদ্ধার হওয়া সামগ্রীর উৎস, সরকারি নথি এবং সংশ্লিষ্ট প্রকল্পের খুঁটিনাটি যাচাই করা হচ্ছে। তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত প্রশাসন মুখে কুলুপ আঁটলেও, ঘটনাটি যে ঘাসফুল শিবিরে অস্বস্তি বাড়িয়েছে, তা নিয়ে রাজনৈতিক মহলে কোনও দ্বিমত নেই। পুন্দড়ার এই ঘটনায় এখন একটাই প্রশ্ন সরকারি সম্পত্তি রক্ষার দায়িত্ব যাঁদের, তাঁদের বাড়িতেই যদি সেই সম্পত্তি উদ্ধার হয়, তাহলে সাধারণ মানুষ ভরসা রাখবে কার উপর?