আজকাল ওয়েবডেস্ক: রেজিনগর থানায় আরও 'কড়া' জেরার মুখে পড়লেন আম জনতা উন্নয়ন পার্টির বিধায়ক হুমায়ুন কবীর। রেজিনগর থানায় পুলিশের দায়ের করা একটি স্বতঃপ্রণোদিত মামলায় গত ৪ জুলাই তদন্তকারীদের সামনে হাজিরা দিয়েছিলেন নওদার বিধায়ক। সেদিন বেলা ১১.৩০ থেকে প্রায় বিকেল ৪ টে পর্যন্ত তদন্তকারীদের জেরার মুখে পড়েছিলেন মুর্শিদাবাদের বিতর্কিত এই বিধায়ক।

তবে সেদিন তদন্তকারীরা হুমায়ুনের সমস্ত উত্তরে সন্তুষ্ট না হওয়ায় মঙ্গলবার ফের হুমায়ুনকে থানায় জিজ্ঞাসাবাদের জন্য উপস্থিত থাকতে নোটিশ দিয়েছিল পুলিশ। মঙ্গলবার নির্দিষ্ট সময়ে হুমায়ুন থানায় হাজির হয়ে যান। তবে রেজিনগর থানার পুলিশ এদিন আরও 'কড়া' প্রশ্নপত্র নিয়ে হুমায়ুনের সামনে হাজির হয়েছিল।  
 
পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, আজ হুমায়ুন কবীরের জন্য প্রায় ২৭ পাতার  প্রশ্নপত্র নিয়ে হাজির ছিলেন তদন্তকারীরা। গত ৪ জুলাই মাত্র ১২ পাতার   প্রশ্নপত্র ছিল হুমায়ুন কবীরের জন্য। আগের দিন জেরা চলাকালীন হুমায়ুন কবীর একবার জল খেয়ে শৌচাগারে গেলেও মঙ্গলবার পুলিশের জিজ্ঞাসাবাদ চলাকালীন তিনি ঘর থেকে একবারও বার হননি। পুলিশের দাবি , জিজ্ঞাসাবাদ যত এগিয়েছে ততই 'গুটিয়ে' গিয়েছেন হুমায়ুন কবীর। আজ হুমায়ুনকে প্রায় ৪.৫ ঘন্টা জিজ্ঞাসাবাদ করে পুলিশ। 


সম্প্রতি মুর্শিদাবাদের রেজিনগর থানার কাশীপুর এলাকায় একটি রাজনৈতিক জনসভায় বক্তব্য রাখতে  গিয়ে নওদার 'আম জনতা উন্নয়ন পার্টি'র বিধায়ক হুমায়ুন কবীর মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীকে 'কুরুচিকর' ভাষায় আক্রমণ করেছিলেন এবং একাধিক 'প্ররোচনামূলক' বক্তব্যও রেখেছিলেন। সেই মামলায় হুমায়ুন কবীরের বিরুদ্ধে রেজিনগর থানার পুলিশ একটি সুয়ো মোটো মামলা দায়ের করেছে।  যে সভা থেকে হুমায়ুন এই মন্তব্য করেছিলেন তার দুই উদ্যোক্তা গোলাম মোস্তফা, আমিনুল হককেও গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। 

এর পাশাপাশি গত ৮ মে হুমায়ুন কবীর শক্তিপুরের একটি জনসভা থেকে স্থানীয় থানার ভারপ্রাপ্ত  আধিকারিককে হুমকি দেওয়া ছাড়াও একাধিক উস্কানিমূলক বক্তব্য রেখেছিলেন। সেই অভিযোগে হুমায়ুন কবীরের বিরুদ্ধে একাধিক জামিন অযোগ্য ধারায় সুয়ো মোটো মামলা রুজু করেছে পুলিশ, গ্রেপ্তার হয়েছে ওই সভার উদ্যোক্তা আনিসুর রহমান।
 
রেজিনগর থানায় দায়ের হওয়া মামলার পরিপ্রেক্ষিতে পুলিশের দেওয়া  নোটিশ পেয়ে ৪ জুলাই হুমায়ুন কবীর থানায় হাজিরা দিয়ে তদন্তকারীদের জিজ্ঞাসাবাদের মুখোমুখি হয়েছিলেন।  রেজিনগর থানায় সেদিন পুলিশ তাঁকে প্রায় চার ঘন্টার কাছাকাছি জিজ্ঞাসাবাদ করে। পুলিশ সূত্রের খবর জিজ্ঞাসাবাদের সময় হুমায়ুন একাধিক প্রশ্নের জবাব এড়িয়ে গিয়েছিলেন এবং অনেক প্রশ্নের 'সন্তোষজনক' জবাব দেননি। সেই সূত্রে আজ ফের একবার রেজিনগর থানায় ডেকে পাঠানো হয়েছিল হুমায়ুন কবীরকে। 

অন্যদিকে গত ৩ জুলাই শক্তিপুর থানার তদন্তকারী আধিকারিকের সামনে হাজির দেওয়ার কথা ছিল হুমায়ুন কবীরের। হুমায়ুন সেদিন শক্তিপুর থানায় যাননি বা তদন্তকারী আধিকারিকের মুখোমুখি হতে না পারার কারণ পুলিশকে লিখিতভাবেও জানাননি। 

যদিও সংবাদ মাধ্যমে হুমায়ুন কবীর বলেছিলেন, শুক্রবার তিনি জুম্মার নামাজ পড়েন তাই সেদিন ব্যস্ত থাকার কারণে তিনি  শক্তিপুর থানায় যেতে পারছেন না। সেই মামলায় ফের একবার মঙ্গলবার সকালে হুমায়ুনের বাড়িতে পৌঁছে যায় পুলিশ। আজ শক্তিপুর থানার পুলিশের একটি দল হুমায়ুনের শক্তিপুরের বাড়িতে গিয়ে নোটিশ ধরিয়ে আসে। 

যদিও শক্তিপুর থানার পুলিশ যখন হুমায়ুনের বাড়িতে পৌঁছায় ততক্ষণে তিনি রেজিনগর থানার উদ্দেশে রওনা হয়ে গিয়েছিলেন। হুমায়ুন কবীরের অনুপস্থিতিতে তাঁর স্ত্রী মিরা সুলতানা শক্তিপুর থানার নোটিশটি গ্রহণ করে। 

পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, আগামী ১৯ জুলাই সকাল ১১ টার সময় শক্তিপুর থানা তদন্তকারী আধিকারিক স্বপন চ্যাটার্জির কাছে হুমায়ুন কবীরকে হাজিরা দিতে বলা হয়েছে। তবে শক্তিপুর থানায় হুমায়ুন কবীর যাবেন কিনা তা এখনও নিশ্চিত নয়। পুলিশের এক আধিকারিক জানিয়েছেন , হুমায়ুন কবীর বার বার হাজিরা এড়ালে তাঁর বিরুদ্ধে 'কড়া' পদক্ষেপ করার সুযোগ পুলিশের রয়েছে। এমনকী তদন্তকারী আধিকারিক জিজ্ঞাসাবাদে সন্তুষ্ট না হলে হুমায়ুন কবীর গ্রেপ্তার পর্যন্ত হতে পারেন।  

রেজিনগর থানায় পুলিশের জিজ্ঞাসাবাদ শেষে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে হুমায়ুন কবীর বলেন, 'জিজ্ঞাসাবাদের নামে আমার উপর মানসিক চাপ তৈরি করা হচ্ছে। আগের সরকার অনেক পরে পুলিশকে 'দলদাসে' পরিণত করেছিল। কিন্তু এই সরকার এখনই তা করে ফেলেছে। রেজিনগর এবং শক্তিপুর থানার পুলিশের আধিকারিকরা নিজেদের চেয়ার বাঁচানোর জন্য এবং বিজেপিকে সন্তুষ্ট করতে সবকিছু করছে।'

হুমায়ুন কবীর অভিযোগ করেন, 'কিছু জিনিস অতিরঞ্জিত করে আজ তার ব্যাখ্যা আমার কাছে চাওয়া হয়েছে। তবে গোটা জিজ্ঞাসাবাদ প্রক্রিয়া ভিডিও রেকর্ড করা হয়েছে।'
 
অন্যদিকে  শক্তিপুর থানার নোটিশ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, 'আমি এখনও নোটিশ দেখিনি, আগে সেটা দেখি তারপরে যা বলার বলব।  ১৯ তারিখ সম্ভবত রবিবার পড়েছে। সময় পেলে আমি শক্তিপুর থানায় হাজির হব।'