আজকাল ওয়েবডেস্ক: এক গৃহবধুর গায়ে থাকা সোনার গয়না লুট করার জন্য তাঁকে খুন করার অভিযোগ উঠলো অজ্ঞাত পরিচয় কিছু দুষ্কৃতীর বিরুদ্ধে। ঘটনাটি ঘটেছে মুর্শিদাবাদের ভগবানগোলা থানার অন্তর্গত সুন্দরপুর পঞ্চায়েতের বাবুর মাঠপাড়া এলাকায়। পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে মৃত ওই গৃহবধূর নাম সারভিনা বিবি (২৪)। 

স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, সারভিনা বিবির স্বামী রফিকুল ইসলাম বর্তমানে চেন্নাইতে পরিযায়ী শ্রমিক হিসেবে কাজ করছেন। তাঁর শ্বশুর-শাশুড়ি কর্মসূত্রে কলকাতায় থাকেন। বর্তমানে ভগবানগোলার বাড়িতে সারভিনা নিজের দুই নাবালক সন্তানকে নিয়ে একাই থাকতেন। 

রবিবার সকালে দীর্ঘক্ষণ তাঁকে দেখতে না পেয়ে সারভিনার এক প্রতিবেশী তাঁরই এক নাবালক সন্তানকে নিয়ে বাড়িতে ঢোকেন। কিছুক্ষণ খোঁজাখুঁজির পর সারভিনার ঝুলন্ত দেহ উদ্ধার হয়। 

সারভিনার পরিবারের তরফ থেকে দাবি করা হয়েছে, দেহ উদ্ধারের সময় তাঁর গলায় সোনার চেন, হাতের বালা এবং আরও কয়েকটি সোনার গয়না পাওয়া যায়নি। মৃতের পরিবারের সদস্যদের অনুমান সমস্ত সোনার গয়নার লুঠ করে সারভিনাকে শ্বাসরোধ করে খুন করা হয়েছে। তাঁদের দাবি, এই মৃত্যুকে আত্মহত্যার ঘটনা বলে প্রমাণ করার জন্য পরে দেহটিকে একটি ঘরে ঝুলিয়ে দেওয়া হয়।

ভগবানগোলা থানার পুলিশ ইতিমধ্যে দেহটি উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য পাঠিয়েছে। কীভাবে ওই মহিলার মৃত্যু হয়েছে পুলিশ তা খতিয়ে দেখছে ।

মৃত সারভিনার ভাই মিনাাজউদ্দিন শেখ বলেন, " আমার জামাইবাবু এই মুহূর্তে কর্মসূত্রে চেন্নাইতে রয়েছেন। আমার দিদি তাঁর দুই নাবালক সন্তানকে নিয়ে বাড়িতে একাই থাকতেন। দিদির পরিবারে কোনও সমস্যা ছিল না।"

তিনি বলেন," গত কালকে রাত ন'টা নাগাদ আমার বাবা-মার সঙ্গে দিদির শেষবারের মতো কথা হয়েছিল। আজ সকালে মা যখন আবার দিদির সঙ্গে কথা বলার জন্য ফোন করে তখন দিদি ফোন ধরেনি, তাঁর ছোট বাচ্চাটি ফোন ধরেছিল। "

মিনাজউদ্দিন আরও বলেন," বাচ্চাটি ফোন ধরে আমার মাকে জানায় সারভিনাকে সে খুঁজে পাচ্ছে না। এরপরে আমার মা দিদির সন্তানকে বলে ফোনটি আশেপাশের বাড়ির বড় কোনও ব্যক্তিকে দেওয়ার জন্য। এরপর দিদির এক প্রতিবেশী ফোনটি ধরে এবং বাড়িতে এসে সারভিনাকে খুঁজতে থাকে। সেই সময় শোয়ার ঘরের পাশে একটি ঘরে দিদির ঝুলন্ত দেহ দেখতে পাওয়া যায়।"

মৃত সারভিনার দিদি মর্জিনা বিবি বলেন," আমার বোনের গলায়, গালে এবং শরীরের অন্যান্য অংশে আঘাতের চিহ্ন রয়েছে। মৃত্যুর আগে আমার বোনের সঙ্গে কারও ধস্তাধস্তি হয়েছিল বলে আমাদের অনুমান। এর পাশাপাশি সারভিনার গায়ে থাকা কোনও সোনার গয়না আমরা খুঁজে পাইনি। সেই কারণেই আমাদের অনুমান সারভিনার গায়ে থাকা গয়না লুঠ করে নেওয়ার জন্য কেউ তাঁকে খুন করে থাকতে পারে।"