মিল্টন সেন, হুগলি: লোকসভা নির্বাচনের রণদামামা। একটি বুথ বাড়ল হুগলিতে৷ আর ভোট ঘোষণা হতেই হুগলি জেলাজুড়ে তৎপরতা শুরু করল জেলা প্রশাসন। রবিবার সন্ধ্যায় এক সাংবাদিক সম্মেলনে জেলাশাসক খুরশিদ আলি কাদরী জানান, অবাধ ও শান্তিপূর্ণ নির্বাচন করতে কোমর বেঁধে নামছে কমিশন। জেলার প্রতিটি বুথেই থাকবে কেন্দ্রীয় বাহিনী এবং নিরাপত্তার খাতিরে সবকটি কেন্দ্রে ‘ওয়েব কাস্টিং’-এর ব্যবস্থা করা হবে।

এবারের নির্বাচনে হুগলি জেলায় বুথের সংখ্যা একটি বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৫,২৩৮। চন্দননগরের একটি আবাসনে নতুন এই বুথটি তৈরি করা হয়েছে। জেলাশাসক স্পষ্ট করে দিয়েছেন, আদর্শ আচরণবিধি লাগু হওয়ার পর থেকেই নজরদারি জোরদার করা হয়েছে। ফ্লাইং স্কোয়াড সক্রিয় থাকছে সর্বত্র। ভোটারদের প্রভাবিত করতে টাকা লেনদেনের প্রমাণ মিললে কড়া আইনি পদক্ষেপ করা হবে।

ভোটের প্রস্তুতি নিয়ে জেলাশাসক বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ পরিসংখ্যান তুলে ধরেছেন:

মোট ভোটার ৪৪ লক্ষ ৪০ হাজার ২৯৩ জন।

পুরুষ ভোটার ২২ লক্ষ ৩৬ হাজার ৪১৩ জন এবং মহিলা ভোটার ২২ লক্ষ ০৩ হাজার ৭৮৭ জন। এছাড়া ৯৩ জন তৃতীয় লিঙ্গের ভোটার রয়েছেন।

 জেলায় ১০৩ জন শতায়ু ভোটার এবং ৮৫ ঊর্ধ্ব ভোটার রয়েছেন ২৬ হাজার ৬৬৫ জন।

মহিলা পরিচালিত বুথের সংখ্যা ১,০৬১ এবং মডেল বুথ হচ্ছে ৩৪৫টি।

শান্তি বজায় রাখতে নাকা চেকিং থেকে শুরু করে বেআইনি অস্ত্র উদ্ধারে বিশেষ জোর দিচ্ছে প্রশাসন। যাঁদের কাছে লাইসেন্সপ্রাপ্ত আগ্নেয়াস্ত্র রয়েছে, নিয়ম অনুযায়ী তা জমা দেওয়া বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। জেলাশাসক জানিয়েছেন, যেসব বুথে অতীতে অশান্তির ইতিহাস রয়েছে, সেখানে বাড়তি বাহিনী মোতায়েন করা হবে। ইতিমধ্যেই কেন্দ্রীয় বাহিনীর ‘এরিয়া ডোমিনেশন’ ও রুট মার্চ শুরু হয়ে গিয়েছে।

অন্যদিকে, ভোটার তালিকা থেকে বাদ পড়া নাম (ফর্ম-৬) নিয়ে শুনানি শুরু করার আশ্বাস দিয়েছেন জেলাশাসক। তবে আইনি জটিলতায় ঝুলে থাকা ভোটারদের ভবিষ্যৎ নিয়ে প্রশ্ন করা হলে তিনি জানান, বিষয়টি আদালতের বিচারাধীন, আইন মেনেই তার নিষ্পত্তি হবে।

 

ছবি পার্থ রাহা।