দীক্ষা ভুঁইয়া: এ বার অভিনব উদ্যোগ ডবল ইঞ্জিন সরকারের! প্রথমবার ক্ষমতায় আসার পরেই পশ্চিমবঙ্গ থেকে গুজরাতে তীর্থ যাত্রী পাঠানোর সিদ্ধান্ত নিল রাজ্য সরকার।
এই বছর গুজরাতের ঐতিহাসিক সোমনাথ মন্দিরের প্রতিষ্ঠার ১০০০ বছর পূর্তি। আর সেই উপলক্ষ্যে আয়োজিত ‘Somnath Swabhiman Parv’ অনুষ্ঠানে পশ্চিমবঙ্গ থেকেও তীর্থযাত্রী পাঠানোর উদ্যোগ নিয়েছে রাজ্য সরকার।
রাজ্যের সমস্ত জেলাশাসককে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ পশ্চিমবঙ্গ তথ্য ও সংস্কৃতি দফতর।
প্রশাসনিক সূত্রের খবর, কেন্দ্রের উদ্যোগে আয়োজিত ‘Somnath Swabhiman Parv – 1000 Years of Unbroken and Indomitable Faith’ কর্মসূচিতে অংশ নিতে পশ্চিমবঙ্গ থেকে ১,১০০ জন তীর্থযাত্রী পাঠানোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। কলকাতা পুরসভা এবং সমস্ত জেলার জেলাশাসকদের (DM) যোগ্য আবেদনকারীদের চিহ্নিত করে সুপারিশ পাঠানোর নির্দেশ দিয়েছে তথ্য ও সংস্কৃতি দফতর।
শুক্রবার তথ্য ও সংস্কৃতি দফতরের জারি করা নির্দেশিকায় জানানো হয়েছে, আগামী ১২ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ সোমনাথ মন্দিরের অনুষ্ঠানে পশ্চিমবঙ্গের প্রতিনিধিত্ব নিশ্চিত করতে জেলা-ভিত্তিক নির্দিষ্ট কোটা অনুযায়ী তীর্থযাত্রী মনোনীত করতে হবে।
সরকারি নির্দেশে আরও বলা হয়েছে পশ্চিমবঙ্গ থেকে গুজরাত পর্যন্ত যাতায়াতের সমস্ত ব্যয় বহন করবে রাজ্য সরকার। অন্যদিকে, সোমনাথে পৌঁছনোর পর আবাসন, স্থানীয় পরিবহণ, আতিথেয়তা ও অন্যান্য লজিস্টিক সহায়তার দায়িত্ব নেবে গুজরাত সরকার।
নির্দেশিকায় তীর্থযাত্রী নির্বাচনের জন্য কয়েকটি মানদণ্ডও নির্ধারণ করা হয়েছে। সুস্বাস্থ্যের অধিকারী প্রবীণ নাগরিকদের অগ্রাধিকার দেওয়ার পাশাপাশি সম্ভব হলে স্বামী-স্ত্রীকে একসঙ্গে নির্বাচনের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। অবিবাহিত, বিধবা বা একাকী আবেদনকারীর ক্ষেত্রে একজন সঙ্গীকে অনুমতি দেওয়া যেতে পারে। একই সঙ্গে সমাজের বিভিন্ন শ্রেণি এবং জেলার বিভিন্ন ভৌগোলিক এলাকার সমান প্রতিনিধিত্ব নিশ্চিত করার ওপর জোর দেওয়া হয়েছে।
রাজ্যের পক্ষ থেকে ১৯ জুলাই স্থানীয় সংবাদপত্রে আবেদনপত্র আহ্বানের বিজ্ঞাপন প্রকাশ করা হবে। আগ্রহী নাগরিকরা ২০ জুলাই থেকে ৩০ জুলাই পর্যন্ত সাধারণ কাগজে আবেদন, ছবি, আধার ও EPIC-এর কপি সংশ্লিষ্ট জেলা তথ্য ও সংস্কৃতি আধিকারিকের (DICO) দপ্তরে, আর কলকাতার বাসিন্দারা কেএমসি-তে জমা দিতে পারবেন।
সমস্ত জেলার সুপারিশকৃত চূড়ান্ত তালিকা ৭ আগস্টের মধ্যে তথ্য ও সংস্কৃতি দফতরে পাঠাতে হবে, যাতে রাজ্য স্তরের চূড়ান্ত তালিকা প্রস্তুত, ভ্রমণ পরিকল্পনা এবং কেন্দ্র ও গুজরাত সরকারের সঙ্গে সমন্বয়ের প্রশাসনিক কাজ নির্ধারিত সময়ে সম্পন্ন করা যায়।
















