শিলিগুড়ি মহকুমা পরিষদের অন্তর্গত হাঁসখোয়া চা বাগানের ৯ নম্বর সেকশনে এক যুবকের নৃশংস গলাকাটা দেহ উদ্ধারের ঘটনায় ২৪ ঘণ্টার মধ্যেই বড়সড় সাফল্য পেল বাগডোগরা থানার পুলিশ। তদন্তে নেমে মৃত যুবক মোহম্মদ ইমাম-এর স্ত্রী এবং তাঁর প্রেমিকসহ মোট ৫ জনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। প্রাথমিক তদন্তের পর পুলিশের দাবি— বিবাহবহির্ভূত সম্পর্কের কাঁটা সরাতেই এই হাড়হিম করা খুনের ছক কষা হয়েছিল।
পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, ধৃত মহিলার নাম টুম্পা ঘোষ ওরফে মোমিনা বেগম। বিয়ের পর টুম্পা হয়ে যান মোমিনা। ওঁর সঙ্গে বাগডোগরার বাসিন্দা সুদীপ পালের দীর্ঘদিনের পরকীয়া সম্পর্ক ছিল। অভিযোগ, এই সম্পর্কে বাধা হয়ে দাঁড়াচ্ছিলেন স্বামী। আর সেই ‘কাঁটা’ চিরতরে উপড়ে ফেলতেই প্রেমিক সুদীপ পালের সঙ্গে হাত মেলায় টুম্পা।
স্বামীর ওপর থেকে সন্দেহ হটাতে এবং নিখুঁতভাবে খুনটি করতে জলপাইগুড়ি থেকে ভাড়াটে খুনি ও সহযোগীদের দলে টানে তারা। এই নৃশংস ষড়যন্ত্রে শামিল করা হয়েছিল:
১. বাপি রায় (জলপাইগুড়ি)
২. নিতাই পাল (জলপাইগুড়ি)
৩. কাশীনাথ পাল ওরফে পাতানু (জলপাইগুড়ি)
৪. এবং আরও এক স্থানীয় সহযোগী।
আজ সকালে হাঁসখোয়া চা বাগানের শ্রমিকরা যখন ৯ নম্বর সেকশনে কাজ করতে যান, তখন ওই যুবকের রক্তাক্ত গলাকাটা দেহ পড়ে থাকতে দেখে আঁতকে ওঠেন। খবর দেওয়া হয় বাগডোগরা থানায়। পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে দেহটি উদ্ধার করে উত্তরবঙ্গ মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালে ময়নাতদন্তের জন্য পাঠায়।
চায়ের লাইনে এই ধরণের নৃশংস হত্যাকাণ্ডে এলাকায় তীব্র চাঞ্চল্য ছড়ায়। তদন্তের কিনারা করতে এবং খুনিদের গতিপথ ট্র্যাক করতে ঘটনাস্থলে নামানো হয়েছিল পুলিশের বিশেষ ডগ স্কোয়াড। কুকুরের দেখানো সূত্র এবং মোবাইল লোকেশন ট্র্যাক করে পুলিশ প্রথমে জলপাইগুড়িতে হানা দিয়ে বাপি রায়, নিতাই পাল এবং কাশীনাথ পালকে গ্রেফতার করে। এরপর ওয়ান-বাই-ওয়ান লিঙ্ক ধরে বাগডোগরা থেকে মূল পাণ্ডা সুদীপ পাল ও মৃতের স্ত্রী টুম্পাকে জালে তোলে পুলিশ।
পুলিশ জানিয়েছে, ধৃত ৫ জনকে দফায় দফায় জিজ্ঞাসাবাদ করে ইতিমধ্যেই খুনের মোটিভ এবং কীভাবে যুবকের গলা কাটা হয়েছিল, সেই সংক্রান্ত বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ তথ্য ও প্রমাণ মিলেছে। তবে তদন্তের স্বার্থে এবং অস্ত্রের খোঁজে এখনই সবটা সংবাদমাধ্যমের কাছে খোলসা করতে চাইছে না বাগডোগরা থানা। এই খুনের পিছনে ইন্টার-ডিস্ট্রিক্ট কোনও গ্যাং বা আরও কারও যোগ রয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখছেন তদন্তকারীরা।
















