দীক্ষা ভুঁইয়া: গঙ্গাসাগর মেলাকে ‘জাতীয় মেলা’র মর্যাদা না দেওয়ার জন্য বার বার কেন্দ্রীয় সরকারের বিরুদ্ধে সরব হতেন প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জি। কিন্তু এ বার ডবল ইঞ্জিন সরকার। অর্থাৎ কেন্দ্র এবং রাজ্য- দু জায়গাতেই ক্ষমতায় বিজেপি। এ বার ডবল ইঞ্জিন সরকারের লাভ পেতে চলেছে পশ্চিমবঙ্গ! এমনটাই মনে করছে প্রশাসনিক মহল। আর এর নেপথ্যে কাজ করছে কেন্দ্রের সংস্কৃতি মন্ত্রকের কাছে বিজেপি সরকারের আনুষ্ঠানিক প্রস্তাব পাঠানো।
পশ্চিমবঙ্গ সরকারের তরফ থেকে কেন্দ্রীয় সংস্কৃতি মন্ত্রকের কাছে চিঠি পাঠানো হয়েছে। চিঠিতে গঙ্গাসাগর মেলাকে “জাতীয় মেলা”-র স্বীকৃতি দেওয়া আর্জি জানাল রাজ্য সরকার।
একই সঙ্গে এই ঐতিহ্যবাহী মেলার সংরক্ষণ, প্রচার ও উন্নয়নের জন্য আর্থিক এবং প্রাতিষ্ঠানিক সহায়তারও আবেদনও জানানো হয়েছে।
তথ্য ও সংস্কৃতি দপ্তরের সচিব ড. সৌমিত্র মোহনের তরফ থেকে কেন্দ্রকে পাঠানো চিঠিতে জানানো হয়েছে, প্রতি বছর মকর সংক্রান্তি উপলক্ষে অনুষ্ঠিত গঙ্গাসাগর মেলা ভারতের প্রাচীনতম, বৃহত্তম এবং অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ধর্মীয় সমাবেশগুলির একটি। দেশ-বিদেশ থেকে লক্ষ লক্ষ পুণ্যার্থী, সাধু-সন্ন্যাসী ও পর্যটকের সমাগম এই মেলাকে ভারতের আধ্যাত্মিক ও সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যের এক অনন্য মিলনক্ষেত্রে পরিণত করেছে।
রাজ্য সরকারের মতে, গঙ্গাসাগর মেলার ঐতিহাসিক গুরুত্ব, সর্বভারতীয় অংশগ্রহণ এবং ভারতের অমূর্ত সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য সংরক্ষণে এর অবদান বিবেচনা করে এটিকে ‘জাতীয় মেলা’র স্বীকৃতি দেওয়া উচিত। এই স্বীকৃতি মিললে মেলার জাতীয় ও আন্তর্জাতিক পরিচিতি আরও বাড়বে এবং এর ঐতিহ্য সংরক্ষণ ও প্রচারে দীর্ঘমেয়াদি উদ্যোগ গ্রহণ সহজ হবে।
চিঠিতে আরও বলা হয়েছে, মেলার নথিভুক্তকরণ ও আর্কাইভ তৈরি, লোকশিল্প ও ঐতিহ্যবাহী সংস্কৃতির প্রসার, সাংস্কৃতিক ব্যাখ্যা কেন্দ্র গড়ে তোলা, সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান ও প্রদর্শনীর আয়োজন, ঐতিহ্যবিষয়ক প্রকাশনা এবং গঙ্গাসাগর-সংক্রান্ত সাংস্কৃতিক উত্তরাধিকার সংরক্ষণের বিভিন্ন উদ্যোগে কেন্দ্রের আর্থিক ও প্রাতিষ্ঠানিক সহযোগিতা কামনা করছে রাজ্য সরকার।
















