মিল্টন সেন, হুগলি: এবার যুক্ত হল ধর্ষণের চেষ্টার অভিযোগ। আরও ১৪ দিনের জেল হেফাজতে চুঁচুড়ার প্রাক্তন বিধায়ক অসিত মজুমদার। শনিবার চুঁচুড়া আদালতে পেশ করা হয় চুঁচুড়ার প্রাক্তন তৃণমূল কংগ্রেস বিধায়ককে। 

 

সম্প্রতি তাঁর বিরুদ্ধে তোলাবাজির অভিযোগে মামলা যুক্ত হয়েছিল। সেই মামলায় জামিন পেলেও নতুন করে একটি মামালা যু্‌ক্ত হয়। সেটি হল ২০২৩ সালের একটি ধর্ষণের চেষ্টার মামলা। 

 

চুঁচুড়া পুরসভার ৮ নম্বর ওয়ার্ডের এক যুবতীর অভিযোগে অসিতের বিরুদ্ধে নতুন একটি মামলা হয়। মামলা রুজু হয় চুঁচুড়া মহিলা থানায়। শ্লীলতাহানি ও ধর্ষণের চেষ্টার মামলায় এদিন তাঁকে চুঁচুড়া আদালত ১৪ দিনের জেল হেফাজতের নির্দেশ দেয়। 

 

গত ৩০ মে অভিষেক ব্যানার্জিকে হেনস্থার প্রতিবাদে চুঁচুড়ায় রাস্তা অবরোধ করেন অসিত মজুমদার ও তৃণমূল কর্মীরা। তখন পুলিশের সঙ্গে বচসা হয়। অভিযোগ ওঠে পুলিশকে ধাক্কাধাক্কি করার। পুলিশ স্বতঃপ্রণোদিত মামলা রুজু করে। অসিত-সহ দশ জনকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। ধৃতদের বিরুদ্ধে বেআইনি জমায়েত, গন্ডগোল পাকানোর চেষ্টা, সরকারি কাজে বাধা দেওয়া, সরকারি কর্মচারীকে কর্তব্য পালনে বাধা দেওয়া, পশ্চিমবঙ্গ জনশৃঙ্খলা রক্ষা আইনে মামলা রুজু করা হয়। 

 

গত বৃহস্পতিবার সাতজনের জামিন হলেও অসিত মজুমদার এবং হুগলি চুঁচুড়া পুরসভার ভাইস চেয়ারম্যান পার্থ সাহা ও তৃণমূল নেতা মির্জা সানোয়ারের বিরুদ্ধে নতুন করে তোলাবাজির একটি মামলা যুক্ত হয়। ফলে ওই তিনজনের জামিন মঞ্জুর হয় না। ধৃতদের জেল হেফাজতে পাঠানো হয়। 

 

শনিবার চুঁচুড়া আদালত পার্থ সাহা ও মির্জা সানোয়ারের জামিন মঞ্জুর করে। কিন্তু জামিন হয় না প্রাক্তন বিধায়কের। ধৃত অসিত মজুমদারের বিরুদ্ধে ধর্ষণের চেষ্টার নতুন মামলা যুক্ত হওয়ায় তাঁকে আবার জেলে যেতে হয়। আগামী ১৯ জুন আবার এই মামলার শুনানি হবে। এদিন জেলে যাওয়ার পথে প্রাক্তন বিধায়ক বলেছেন, তাঁর কিছু বলার নেই। বিচার ব্যবস্থা আছে, সব দেখবে। 

 

এদিকে আরেকটি ছবি ভাইরাল হয়েছে সমাজমাধ্যমে। যেখানে দেখা গেছে, খালি গায়ে গামছা ঢাকা, খুঁড়িয়ে হাঁটতে হাঁটতে থানার দিকে চলেছেন অসিত মজুমদার ঘনিষ্ঠ তৃণমূল নেতা। তাঁর পিছনে জনতার আওয়াজ, 'চোর চোর চোর'। 

 

চুঁচুড়া-মগড়া ব্লকের তৃণমূল সভাপতি, পঞ্চায়েত সমিতির বন ও ভূৃমি কর্মাধ্যক্ষ তাপস চক্রবর্তী। তাঁর বিরুদ্ধে নানা অভিযোগ। তোলাবাজি থেকে গুন্ডামি। এসআইআর পর্বে বিজেপি কর্মীদের মারধরের মতো নানা অভিযোগ রয়েছে তাঁর বিরুদ্ধে।

 

আজ দেবানন্দপুর পঞ্চায়েতের কাজিডাঙা এলাকায় তাপস চক্রবর্তীর বাড়ি থেকে টেনে বের করে থানায় নিয়ে যায় উত্তেজিত জনতা। মগড়া থানার পুলিশের হাতে তুলে দেয়। পুলিশ সূত্রে খবর, আপাতত মগড়া থানায় রাখা হয়েছে তাঁকে। অভিযোগ দায়ের হলে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে তৃণমূল নেতার বিরুদ্ধে।