আজকাল ওয়েবডেস্ক: রাজ্যের সব জেলার জেলাশাসকদের কড়া সতর্কবার্তা দিল জাতীয় নির্বাচন কমিশন। কমিশন সূত্রে জানা গিয়েছে, শুক্রবার সকাল ১১টা থেকে এক বিশেষ বৈঠক করেন মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমার।
সেই বৈঠকে মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমার স্পষ্ট জানিয়ে দেন, কোনও ভুল বা অপ্রাসঙ্গিক নথি আপলোড কোনওভাবেই বরদাস্ত করা হবে না।
কমিশনের তরফে বলা হয়েছে, ‘আপনারা ভাববেন না যে দায় এড়িয়ে পালিয়ে যেতে পারবেন। আজ না হলেও আগামী দু’বছর পরেও কমিশন প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিতে পারে।’
উল্লেখ্য, বিভিন্ন জেলা থেকে অভিযোগ এসেছে যে নথি যাচাইয়ের ক্ষেত্রে গুরুতর গাফিলতি হচ্ছে। কোথাও সংবাদপত্রকে ডকুমেন্ট হিসেবে আপলোড করা হয়েছে, আবার কোথাও পাসপোর্টের পরিবর্তে ফাঁকা কাগজ জমা পড়েছে।
বিশেষ করে পশ্চিমবঙ্গের উত্তর ২৪ পরগনা এবং দক্ষিণ ২৪ পরগনা জেলার জেলাশাসকদের উদ্দেশে ভুল নথির উদাহরণ তুলে ধরে সতর্ক করা হয় বলে সূত্রের খবর।
আদিবাসী অধ্যুষিত এলাকায় প্রয়োজনীয় নথি না থাকলে স্থানীয় প্রশাসনকে বিষয়টি খতিয়ে দেখে রিপোর্ট তৈরি করে রাজ্যের মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিকের কাছে পাঠানোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
প্রয়োজনে জেলাশাসকরা সুপারিশসহ নথি পাঠাতে পারবেন বলেও জানানো হয়েছে। জানা গিয়েছে, এদিনের বৈঠকে এসআইআর সংক্রান্ত কাজ নিয়েও বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়।
মুখ্য নির্বাচন কমিশনার বলেন, এই কাজ অত্যন্ত সতর্কভাবে ও নিখুঁতভাবে সম্পন্ন করতে হবে। অপ্রাসঙ্গিক তথ্য বা নথি আপলোড করা যাবে না এবং অভিযোগ নিষ্পত্তির ক্ষেত্রে নির্দিষ্ট নথির বাইরে অন্য কোনও কাগজ গ্রহণ করা যাবে না।
কমিশনের নির্দেশ অনুযায়ী, ইতিমধ্যেই নিষ্পত্তি হওয়া মামলাগুলিও পুনরায় যাচাই করতে হবে, যাতে ভোটার তালিকায় কোনও অনৈতিকভাবে নাম অন্তর্ভুক্ত না হয় বা বৈধ ভোটারের নাম যেন বাদ না পড়ে।
কমিশন স্পষ্ট জানিয়েছে, তাদের ‘উচ্চ স্তরের কাজ’ প্রয়োজন এবং প্রতিটি জেলা প্রশাসনকে নির্দেশ অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করতে হবে।
এসআইআর নিয়ে একাধিক গুরুত্বপূর্ণ নির্দেশিকা জারি করল রাজ্যের মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিকের দপ্তর। ভোটার তালিকা সংক্রান্ত স্বচ্ছতা বজায় রাখা এবং অভিযোগ নিষ্পত্তির প্রক্রিয়া আরও কড়া করতেই এই নির্দেশিকা বলে জানানো হয়েছে।
মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিকের দপ্তর জানিয়েছে, চূড়ান্ত ভোটার তালিকা প্রকাশের পর সর্বদলীয় বৈঠক ডাকা হবে। ওই বৈঠকে ভোটার তালিকা সংশোধন, অভিযোগ সংক্রান্ত বিষয়গুলি নিয়ে আলোচনা করা হবে।
নির্বাচন কমিশনের গাইডলাইন অনুযায়ী, শুনানির সময়ে নির্দিষ্ট নথি জমা না দিলে চূড়ান্ত ভোটার তালিকায় নাম অন্তর্ভুক্ত করা হবে না। পাশাপাশি, ৫ জন বৈধ ভোটারের স্বাক্ষর-সহ আবেদন জমা দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে বলে জানানো হয়েছে কমিশনের তরফে।
এছাড়াও, সংশ্লিষ্ট দুই বিধানসভা কেন্দ্রে ভুয়ো ফর্ম বিলির অভিযোগ খতিয়ে দেখার নির্দেশ দিয়েছে নির্বাচন কমিশন। বিষয়টি নিয়ে সংশ্লিষ্ট প্রশাসনকে বিস্তারিত রিপোর্ট জমা দেওয়ার কথাও বলা হয়েছে।
রাজ্যের মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিক দপ্তর আরও জানিয়েছে, রাজ্য সরকারের গ্রুপ-বি আধিকারিকদের তালিকা থেকে এখনও পর্যন্ত ৬,৩০০ জন কর্মীকে এসআইআর শুনানির কাজে যুক্ত করা হয়েছে।
এর মধ্যে প্রায় ৪০০ জন AERO পদে রয়েছেন। তবে কমিশনের নির্দেশ অনুযায়ী, এই আধিকারিকদের মাইক্রো অবজারভার হিসেবে দায়িত্ব দেওয়া যাবে না।
সংশ্লিষ্ট আধিকারিকদের বিস্তারিত তথ্য জেলা নির্বাচনী আধিকারিকদের কাছে জানতে চেয়েছে CEO দপ্তর। কোন আধিকারিক বর্তমানে কোন পদে কর্মরত রয়েছেন, সে সম্পর্কেও নির্দিষ্ট তথ্য দ্রুত পাঠাতে বলা হয়েছে।
রাজ্যে বিধানসভা নির্বাচনের প্রস্তুতি চূড়ান্ত পর্যায়ে। ভোটার তালিকা সংশোধন ও যাচাই প্রক্রিয়ায় উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি হয়েছে বলে জানিয়েছে রাজ্যের মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিকের দপ্তর।
কমিশন সূত্রে খবর, নির্ধারিত সময়ের মধ্যেই নির্বাচন সম্পন্ন করতে বদ্ধপরিকর তারা। নির্বাচন কমিশনের তরফে জানানো হয়েছে, মোট ১ কোটি ৫২ লক্ষ কেসের মধ্যে এখনও পর্যন্ত প্রায় ১ কোটি ৩৯ লক্ষ ভোটারের শুনানি প্রক্রিয়া সম্পন্ন হয়েছে।
পাশাপাশি, প্রায় ১ কোটি ৬ লক্ষ ভোটারের নথি ইতিমধ্যেই অনলাইনে আপলোড করা হয়েছে। ভোটার তালিকা সংশোধনের ক্ষেত্রে এই অগ্রগতিকে বড় সাফল্য হিসেবে দেখছে নির্বাচন কমিশন।
শুনানি পর্বে জমা পড়া নথি গ্রহণযোগ্য কি না, তা খতিয়ে দেখার জন্য রাজ্যজুড়ে মোতায়েন করা হচ্ছে বিপুল সংখ্যক মাইক্রো অবজারভার। গ্রুপ ‘বি’ স্তরের ৮,৫০৫ জন আধিকারিককে যুক্ত করে মোট মাইক্রো অবজারভারের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১৭ হাজারেরও বেশি।
নতুনভাবে নিযুক্ত এই আধিকারিকদের শীঘ্রই প্রশিক্ষণ দেওয়া হবে, যাতে নথি যাচাইয়ের প্রক্রিয়া আরও স্বচ্ছ ও নির্ভুল করা যায়। অন্যদিকে, মঙ্গলবার দিল্লিতে জাতীয় নির্বাচন কমিশনের গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকে উপস্থিত থাকবেন রাজ্যের মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিক।
ওই বৈঠকে বিধানসভা নির্বাচনের সার্বিক প্রস্তুতি নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হওয়ার কথা রয়েছে। নির্বাচন কমিশন সূত্রে জানা গেছে, চূড়ান্ত ভোটার তালিকা প্রকাশের ক্ষেত্রে নির্ভুলতা বজায় রাখতে জাতীয় নির্বাচন কমিশনের কাছে অতিরিক্ত ১৪ দিনের সময় চেয়ে আবেদন করেছিল রাজ্য নির্বাচন কমিশন।
সেই আবেদন মঞ্জুর হওয়ায় ১৪ ফেব্রুয়ারির পরিবর্তে আগামী ২৮ ফেব্রুয়ারির মধ্যে চূড়ান্ত ভোটার তালিকা প্রকাশের লক্ষ্য নেওয়া হয়েছে। চূড়ান্ত তালিকার অনুমোদন যাতে নির্বিঘ্নে পাওয়া যায়, সে দিকেও বিশেষ নজর দিচ্ছে নির্বাচন কমিশন।
