আজকাল ওয়েবডেস্ক: বেআইনিভাবে সরকারি জমি হস্তান্তর করে রাজ্যের রাজস্ব ক্ষতির অভিযোগে পূর্ব মেদিনীপুরের এগরা পুরসভার পুরপ্রধান স্বপন নায়ককে গ্রেপ্তার করল এগরা থানার পুলিশ। কলকাতা থেকে তাঁকে গ্রেপ্তার করা হয় বলে পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে।

 এবিষয়ে জেলা পুলিশ সুপার মিতুন কুমার দে জানিয়েছেন, এক নম্বর খতিয়ানের অন্তর্ভুক্ত সরকারি জমি বেআইনিভাবে হস্তান্তরের মাধ্যমে সরকারি রেভিনিউ বা রাজস্ব ক্ষতির অভিযোগ উঠেছিল স্বপন নায়কের বিরুদ্ধে। এই ঘটনায় গত ২০ ডিসেম্বর এগরা থানায় একটি দুর্নীতির মামলাও দায়ের করা হয়। অভিযোগ দায়ের করেছিলেন এগরা ১ এলাকার বিএলআরও। 


পুলিশ জানিয়েছে, ধৃত স্বপন নায়ককে আজ শনিবার আদালতে তোলা হবে এবং পুলিশ হেফাজতের আবেদন জানানো হবে। তদন্তের স্বার্থে তাঁকে জিজ্ঞাসাবাদ করা প্রয়োজন বলে দাবি করেছে পুলিশ।


উল্লেখ্য, স্বপন নায়েক তৃণমূল কংগ্রেস পরিচালিত এগরা পুরসভার চেয়ারম্যান ছিলেন। সম্প্রতি তাঁকে পদত্যাগের নির্দেশ দিয়েছিল দল। এই বিষয়ে দলীয় হুইপ জারি করা হলেও তিনি তা উপেক্ষা করেন বলে অভিযোগ। পরবর্তী সময়ে তাঁর বিরুদ্ধে তৃণমূল কাউন্সিলরদের পক্ষ থেকে অনাস্থা প্রস্তাব আনা হলেও রাজনৈতিক কৌশলে তা এড়িয়ে যান তিনি। 

অবশেষে পুরপ্রধানকে গ্রেপ্তার করা হয়। গ্রেপ্তারির পর এগরা শহর জুড়ে রাজনৈতিক মহলে তীব্র চাঞ্চল্য ও চাপানউতোর শুরু হয়েছে।

জানা গিয়েছে, এগরা পুরসভা এলাকার ১ নম্বর খতিয়ানের জায়গা বেআইনিভাবে হস্তান্তর করেন চেয়ারম্যান! ভূমি ও ভূমি সংস্কার দপ্তরের আধিকারিক সেই ভিত্তিতে ২০ ডিসেম্বর এগরা থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন। অভিযোগ, স্বপনবাবু পুরপ্রধান থাকাকালীন ক্ষমতার অপব্যবহার করে মূল্যবান সরকারি জমি নামমাত্র মূল্যে নির্দিষ্ট কিছু ব্যক্তির হাতে হস্তান্তর করেছেন। এর ফলে সরকারের বিপুল পরিমাণ আর্থিক ক্ষতি হয়েছে। 


স্বপনের বিরুদ্ধে অভিযোগ উঠেছিল নিজের চেয়ার বাঁচানোর জন্য বিজেপির সঙ্গে হাত মিলিয়েছেন তিনি। আস্থা ভোটের দিন স্বপন নায়ক রাতের অন্ধকারে অবৈধভাবে বহিরাগতদের নিয়ে পুর–অফিসে প্রবেশ করেন বলে অভিযোগ করেছিলেন তৃণমূলের বাকি কাউন্সিলররা। এর ফলে ভোটাভুটি স্থগিত হয়ে। এরপর থেকেই এগরা শহরে কখনও পুরপ্রধানের পক্ষে, আবার কখনও বিপক্ষে পোস্টার, ব্যানার পড়তে দেখা গিয়েছে। এই পরিস্থিতিতে গ্রেপ্তার হলেন তিনি।