আজকাল ওয়েবডেস্ক: রাজ্যকে দুর্নীতিমুক্ত করতে প্রথম থেকেই কড়া পদক্ষেপ নিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। একের পর এক দুর্নীতিবাজ নেতা-মন্ত্রী গ্রেপ্তারের পাশাপাশি শুরু হয়েছে দুর্নীতিগ্রস্ত সরকারি আধিকারিকদের বিরুদ্ধে তদন্ত। তারই জেরে এবার মুর্শিদাবাদের কান্দিতে কলকাতা পুলিশের প্রাক্তন ডিসি শান্তনু সিনহা বিশ্বাসের পৈতৃক বাড়িতে হানা দিল ইডি।
শুক্রবার সকালেই কান্দি পুরসভার আট নম্বর ওয়ার্ডের জেমো বিশ্বাস পাড়ায় অবস্থিত বাড়িটিকে ঘিরে ফেলে কেন্দ্রীয় বাহিনী। ঘটনায় এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, ওই বাড়িতে থাকতেন শান্তনু সিনহা রায়ের বোন গৌরী সিনহা বিশ্বাস। তিনি তৃণমূল পরিচালিত কান্দি পুরসভার কাউন্সিলর। স্থানীয়দের দাবি, গত এক সপ্তাহ ধরেই বাড়িটিতে তালা ঝুলছিল। শুক্রবার সাতসকালে ইডির একটি দল এসে সেখানে পৌঁছায়। বাড়ি বন্ধ দেখে কিছুক্ষণ পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণের পর তদন্তকারী অফিসাররা তালা ভেঙে ভেতরে ঢোকেন। শুরু হয় ম্যারাথন তল্লাশি। গোটা এলাকা ঘিরে রাখে কেন্দ্রীয় বাহিনীর জওয়ানরা। যদিও দীর্ঘক্ষণ তল্লাশি চালানোর পর বাড়ি থেকে কী নথি উদ্ধার হয়েছে, সে সম্পর্কে এখনও কিছু জানানো হয়নি ইডি-র তরফ থেকে।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানিয়েছেন, ৮ থেকে ১০ জনের একটি তদন্তকারী দল বাড়ির বিভিন্ন অংশে তল্লাশি চালায়। সেইসময় এলাকাবাসীকে বাড়ির আশপাশে ভিড় করতে দেওয়া হয়নি।
এই বাড়িটি নিয়ে এলাকাবাসীর দীর্ঘদিনের অভিযোগ। এক সময় ভাঙাচোরা অবস্থায় পড়ে থাকা বাড়িটি গত পাঁচ বছরে আমূল বদলে গিয়েছে। ভাঙা বাড়ি এখন রীতিমতো রাজপ্রাসাদ। ভেতরে রয়েছে ইটালিয়ান মার্বেলের মেঝে, বেলজিয়াম কাচের বহুমূল্য ঝাড়বাতি ও দামি দামি আসবাবপত্র। স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, মাঝেমধ্যে শান্তনু সিনহা বিশ্বাস এখানে এসে থাকতেন।
তবে শুধুমাত্র শান্তনু সিনহা বিশ্বাসই নন, এলাকাবাসীর অভিযোগ রয়েছে তাঁর বোনের বিরুদ্ধেও। অভিযোগ, কাউন্সিলর হিসেবে শান্তনুর বোন গৌরী সিনহা বিশ্বাস, বিভিন্ন থানার অফিসারদের কাছ থেকে বিপুল টাকা নিয়ে দাদাকে ব্যবহার করে পছন্দসই জায়গায় তাঁদের পোস্টিং করাতেন। সেই সঙ্গে পুরসভার একাধিক অনৈতিক কাজে নাম জড়িয়েছিল তাঁর।
উল্লেখ্য, দুর্নীতি মামলায় কলকাতা পুলিশের স্পেশাল ব্রাঞ্চের প্রাক্তন ডিসি শান্তনু সিনহা বিশ্বাসকে আগেই গ্রেপ্তার করা হয়েছে। কলকাতা-সহ বিভিন্ন এলাকায় তাঁর নামে প্রচুর বেআইনি সম্পত্তির হদিস পেয়েছে ইডি-র তদন্তকারী অফিসাররা। দুর্নীতিতে জড়িত থাকার অভিযোগে কলকাতা পুলিশ তাঁকে পদ থেকে সরিয়ে দিয়েছে। এ মর্মে নির্দেশ জারি করেছেন কমিশনার অজয় নন্দ।














