আজকাল ওয়েবডেস্ক: রবিবার বাংলায় ভোটের নির্ঘণ্ট ঘোষণা হয়েছে। তার ১২ ঘণ্টার আগেই, কমিশন বাংলার মুখ্যসচিব, স্বরাষ্ট্রসচিবকে সরিয়ে দেয়। ঠিক তার কয়েক ঘণ্টা পর, ফের বড় বদল প্রশাসনিক স্তরে। পরপর বদলে, রাজ্য রাজনীতিতে জোর চর্চা। কারণ ভোটের মুখে প্রশাসনিক স্তরে বদল স্বাভাবিক হলেও, সাম্প্রতিক সময়ে একেবারে ভোট ঘোষণার পরেই, রাজ্যের মুখ্যসচিবকে সরিয়ে দেওয়া হয়নি। 

তৃণমূলের পক্ষ থেকে গোটা ঘটনার কড়া সমালোচনা করা হয়। মধ্যরাতে বদলের প্রতিবাদে রাজ্যসভা থেকে ওয়াকআউট করেন তৃণমূল সাংসদ ডেরেক ও’ব্রায়েন, সাগরিকা ঘোষ, নাদিমুল হক-রা। পরে সংবাদ সংস্থা পিটিআইকে সাগরিকা বলেন, "নির্বাচন কমিশন যেভাবে গভীর রাতে—ভোর ৪টের সময়—বাংলার স্বরাষ্ট্রসচিব ও মুখ্যসচিবকে বদলি করেছে, তা কোনওভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। বাংলায় বর্তমানে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বে একটি নির্বাচিত সরকার ক্ষমতায় রয়েছে। এই মুহূর্তে নির্বাচন কমিশনের হাতে এই ক্ষমতা থাকলেও, তারা বাংলার নির্বাচিত সরকারকে ক্ষতিগ্রস্ত করার উদ্দেশ্যে সেই ক্ষমতার অপব্যবহার করছে। আমরা এই বিষয়টি সংসদে উত্থাপন করেছি। আমাদের নেতা ডেরেক ও’ব্রায়েনও এই প্রসঙ্গটি তুলে ধরেছেন, আর তারই প্রতিবাদে সর্বভারতীয় তৃণমূল কংগ্রেস আজ সারাদিনের জন্য সংসদ থেকে ওয়াকআউট করেছে।" 

অন্যদিকে কুণাল ঘোষ বলছেন, এইসব বদলি আসলে, গেরুয়া শিবিরের প্যানিক রিঅ্যাকশন। তিনি সোমবার সকালে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে বলেন,  'বিজেপির দেউলিয়া রাজনীতি ক্রমশ সামনে এসে পড়ছে।  বিনীদ্র রজনী যাপন করছে বিজেপি এবং তাদের শাখা সংগঠন জাতীয় নির্বাচন কমিশন। গতকাল রাত  থেকে যা যা আমরা দেখেছি, তাতে একটা জিনিস প্রমাণিত, বিজেপির পায়ের তলার জমি নেই। বিজেপি দেউলিয়া। বাংলার মানুষের সঙ্গে তাদের কোনও সম্পর্ক নেই। বাংলার মানুষের উপর তাদের কোনও আস্থা ভরসা নেই,  তারা জানে নিশ্চিত পরাজয় সামনে।' কুণাল বলেন, সেই কারণে ভোট ঘোষণার সঙ্গে সঙ্গে ক্ষমতার অপব্যবহার করে নির্বাচন কমিশনকে দিয়ে তড়িঘড়ি  করে প্রথম বাঙালি মহিলা মুখ্যসচিবকে সরিয়ে দেওয়া হল। 

এর পরেই তৃণমূল নেতা বলেন, 'মানুষের কাছে একদম পরিষ্কার করে বলে দিতে চাই, এগুলো হচ্ছে বিজেপির প্যানিক রিঅ্যাকশন। লিখে রেখে দিন, আপনারা যা ইচ্ছে বদলাতে পারেন, বাংলার মানুষের মন আর মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জিকে আপনারা বদলাতে পারবেন না।' 

 

অন্যদিকে, অদলবদল করা হয়েছে শীর্ষ পুলিশ পদে। রাজ্য পুলিশের ডিজি ও  কলকাতার পুলিশ কমিশনারকে বদল করেছে নির্বাচন কমিশন। রাজ্য পুলিশের নতুন ডিজি হচ্ছেন সিদ্ধনাথ গুপ্ত। ওই পদে ছিলেন পীযূষ পাণ্ডে। কলকাতার কমিশনার পদ থেকে সরানো হয়েছে রাজ্য সুপ্রতীম সরকারকে। ওই জায়গায় বসানো হল অজয় কুমার নন্দাকে।