আজকাল ওয়েবডেস্ক: ধূমপানের নীল ধোঁয়া যে ফুসফুসকে তিলে তিলে ছারখার করে দিচ্ছে, তা জেনেও এই মারণ আসক্তি থেকে সহজে মুক্তি পান না অনেক ধূমপায়ী। চিকিৎসকদের মতে, বাজারচলতি একটি সাধারণ তামাকের সিগারেট পুড়লে তা থেকে প্রায় ৬ হাজারেরও বেশি ক্ষতিকর রাসায়নিক নির্গত হয়, যার মধ্যে অন্তত ১০০টি উপাদান সরাসরি ক্যানসার সৃষ্টির জন্য দায়ী। মাত্র ১ গ্রাম তামাক পোড়ালে শরীর ও পরিবেশে মেশে প্রচুর পরিমাণে নিকোটিন, কার্বন ডাই-অক্সাইড, কার্বন মনোক্সাইড এবং বিষাক্ত আলকাতরা ও সীসার মতো ভারী ধাতু। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার পরিসংখ্যান অনুযায়ী, বিশ্বজুড়ে প্রায় ১৪৭ কোটি মানুষ তামাকসেবন করেন, যার মধ্যে শুধু ভারতেই ধূমপায়ীর সংখ্যা প্রায় ১৫ কোটি। এই বিপুল সংখ্যক মানুষের ধূমপানের কারণে প্রতিদিন পরিবেশে মিশছে টন টন কার্বন ডাই-অক্সাইড।
এই চরম স্বাস্থ্য ও পরিবেশ সংকটের মাঝেই এক অভিনব এবং সম্পূর্ণ ভিন্নধর্মী সমাধান সূত্র খুঁজে বের করেছেন পূর্ব মেদিনীপুরের হলদিয়ার এক ইঞ্জিনিয়ার, পবিত্র দাস। তামাকের আসক্তি কাটাতে বাজারে নানা রকম বিকল্প মিললেও সেগুলো কতটা কার্যকর তা নিয়ে সব সময়ই একটা প্রশ্নচিহ্ন থেকে যায়। কিন্তু এই বাঙালি ইঞ্জিনিয়ারের দাবি, তিনি লবঙ্গ, দারচিনি, তুলসী পাতার মতো সম্পূর্ণ প্রাকৃতিক ও ঘরোয়া উপাদান ব্যবহার করে তৈরি করে ফেলেছেন এক ‘অর্গানিক’ বা ভেষজ সিগারেট। যা দেখতে হুবহু সাধারণ সিগারেটের মতো হলেও শরীরের বিন্দুমাত্র ক্ষতি তো করেই না, উল্টে এর ধোঁয়া টানলে মন সতেজ হবে এবং স্বাস্থ্য ও পরিবেশ দুই-ই সুরক্ষিত থাকবে। আরও আশ্চর্যের বিষয় হলো, এই সিগারেটের ভেতরের ভেষজ উপাদানগুলো চাইলে গরম জলে ফুটিয়ে চা হিসেবেও খাওয়া সম্ভব।
উদ্ভাবক পবিত্র দাসের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, তাঁর তৈরি এই বিশেষ সিগারেটে ক্ষতিকর তামাকের কোনো অস্তিত্বই নেই। তার বদলে এতে ব্যবহার করা হয়েছে শুকনো আলুর খোসা, লেবুর খোসা, শুকনো চা পাতা, তুলসী, পুদিনা, তেজপাতা, দারচিনি, লবঙ্গ, এলাচ, ধনে, জিরে এবং গোলমরিচ। এই সমস্ত ভেষজের মিশ্রণে যে সুগন্ধি ধোঁয়া তৈরি হয়, তা সাধারণ সিগারেটের চেয়ে পরিমাণে অনেক কম এবং সম্পূর্ণ নিরাপদ। শুধু তাই নয়, এই সিগারেটে ফিল্টার হিসেবে ব্যবহার করা হয়েছে ‘অ্যাক্টিভেটেড চারকোল’, যা ক্ষতিকারক গ্যাস ও কার্বন ডাই-অক্সাইড শুষে নিতে সক্ষম, যার ফলে এটি অত্যন্ত পরিবেশবান্ধব। হলদিয়ার এই ইঞ্জিনিয়ারের আশা, তাঁর তৈরি এই অর্গানিক সিগারেট একদিকে যেমন মানুষকে তামাকের মারণ নেশা থেকে মুক্তি দেবে, তেমনই ক্যানসারের মতো রোগের ঝুঁকি কমাতেও সাহায্য করবে। ধূমপানের স্বাস্থ্যকর বিকল্প হিসেবে এই দেশীয় উদ্ভাবন আগামী দিনে বাজারে কতটা সাড়া ফেলতে পারে, এখন সেটাই দেখার বিষয়।















