রিয়া পাত্র

মধ্যরাত। জল-কাদার স্টেশন চত্বরে, সমস্ত প্রতিরোধ ভেঙে, চলল বুলডোজার অ্যাকশন। আক্রান্ত প্রতিবাদে নামা বাম-কংগ্রেস কর্মীরা। পুলিশ গ্রেপ্তার  করে সৃজন-সহ পাঁচজনকে। সোমেও পথে বামেরা। এই পরিস্থিতিতে কী বলছেন বাম নেত্রী দীপ্সিতা ধর? আরও বড় আন্দোলনের ডাক?


আজকাল ডট ইন-কে দীপ্সিতা জানান, 'মানুষ একটা অভূতপূর্ব অবস্থার মধ্যে দিয়ে যাচ্ছে। একটা সরকার, যা পরিবর্তনের কথা বলে সরকারে এসেছে, বিগত সরকারের অপশাসন বদলে দেবার কথা বলে সরকারে বসেছে, মসনদে বসেছে। আমরা দেখলাম গত সরকার যা যা গন্ডগোল করেছে, তাকেই তারা ক্যারিফরোয়ার্ড করছে। তার হিংস্রতা, তার তীব্রতা আরও কয়েকশ গুণ বাড়িয়েছে। যেভাবে গত রাত্রে সাধারণ মানুষের উপর বুলডোজার চালানো হল, লাঠির বাড়ি মারা হল, আহত করা হল, আক্রান্ত করা হল। আমরা মনে করি পশ্চিমবঙ্গের মানুষ, গণতান্ত্রিক মানুষ, তাদের গণতান্ত্রিক পদ্ধতিতে কাজ করার বাঁচার সমস্ত উপাদান কেড়ে নিতে চায় সরকার।'

তাঁর আরও সংযোজন, 'আমরা এটাও মনে করি এই মুহূর্তে আশিটা সিটে নির্বাচিত হয়েছেন যে রাজনৈতিক দল, যাদের এই মানুষের প্রতি কিছু দায়িত্ব কর্তব্য প্রধান বিরোধী দল হিসেবেও কিছু ছিল, তাদেরও কোথাও খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না। তাহলে আগামী দিনে আরএসএস বিজেপির সঙ্গে লাল ঝান্ডার সম্মিলিত বামপন্থীদের লড়াই হবে। সাধারণ মানুষকে পক্ষ বাছতে হবে। আমি বিশ্বাস করি গরীব খেটে খাওয়া মানুষ এবং যাঁরা খুব সৎভাবে বিজেপিকে হারাতে চান, তাঁদের প্রত্যেকের আসল দায়িত্ব হবে, বিজেপিকে রুখতে এই লাল ঝান্ডার বামপন্থী শক্তিতে আসুন।' 

 

বেআইনি হকারদের উচ্ছেদ, ক্ষমতায় আসার পর থেকে, বুলডোজারের গতিতে, বুলডোজার চালাচ্ছে সরকার। হাওড়া-শিয়ালদহ-দমদমের পর, যাদবপুর। প্রবল প্রতিরোধের লক্ষ্যে বাম-কংগ্রেস পথে নামলেও, শেষমেশ ভাঙে প্রতিরোধ। পুলিশের ব্যাপক লাঠিচার্জের পরেই, শুরু হয় বুলডোজার অ্যাকশন। একের পর এক দোকান ভেঙে গুঁড়িয়ে দেয় বুলডোজার। আটক করা হয় এসএফআই-এর সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক সৃজন ভট্টাচার্যকে। সোমবার তিনি জামিন পান। বাম নেত্রী মীনাক্ষী মুখার্জি জানিয়েছিলেন, ''আমরা জানি যে, যারা করছে এসব, তারা সরকারে। সরকারের কাজ শুধুমাত্র রুজি রুজি কেড়ে নেওয়া নয়। যদি সরকার বেআইনি হকার উচ্ছেদ করছে, তাহলে হকাররা সৎ পথে যে রোজগার করছে সেই রোজগারের ব্যবস্থাটাও করতে হবে। আমরা তো বাড়তি কিছু বলিনি। আমাদের দাবি কেবলমাত্র এটুকুই।'  একই সুর, দীপ্সিতার গলাতেও।