আজকাল ওয়েবডেস্ক: বাংলায় ভরাডুবির পর তৃণমূল কংগ্রেস সুপ্রিমো মমতা ব্যানার্জি, বারবার অভিযোগ করেছেন, মহারাষ্ট্রে বিজেপি যেভাবে দল ভাঙিয়েছে, সেই চেষ্টা হবে বাংলাতেও। পরিস্থিতি যেদিকে এগোচ্ছে, তাতে বাংলার তৃণমূলের উপর মহারাষ্ট্রের এনসিপি-শিবসেনার ছায়া দেখছেন অনেকেই। তার একমাত্র কারণ তৃণমূলেরই বিধায়ক ঋতব্রত ব্যানার্জি। জল্পনা শুরু হয়েছে, অধিকাংশ তৃণমূল বিধায়ককে সঙ্গে নিয়ে এবার নতুন তৃণমূল খুলতে পারেন ঋতব্রত! আর তারপর থেকেই তীব্র হচ্ছে গুঞ্জন। এই পরিস্থিতিতে ফেসবুকে মন্ত্রী তথা বিজেপি বিধায়ক তাপস রায়ের একটি পোস্ট ঘিরে শুরু হয়েছে জল্পনা। আবার সেই সঙ্গে এগরার বিজেপি বিধায়ক তথা মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর ভাই দিব্যেন্দু অধিকারীর দাবি ঘিরে জোর জল্পনা শুরু হয়েছে। 

 

কী বলেছেন দিব্যেন্দু? সাংবাদিকদের সামনে তিনি বলেন, ''তৃণমূলের ১০-১৫ জন সাংসদের ফোন এসেছে আমার কাছে। কিন্তু আমি হাতজোড় করে তাদের বলেছি, দলের সভাপতি এবং দলের সিদ্ধান্তই শেষ কথা!" তৃণমূল কংগ্রেসের দু'জন বিধায়কের সাসপেন্ড প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ''তৃণমূলে সাসপেন্ড হওয়া আর দলে থাকার কোনও মানে নেই। এই দল তো সাময়িক। অল্প দিনের মধ্যে এই দল উঠে যাবে। আমাদের দলের রাজ্য সভাপতি বলেছেন, আমরা কাউকে নেব না। অনেকেই যোগাযোগ করছেন। আমাদের সভাপতিই শেষ কথা। সভাপতি যা নির্দেশ দিয়েছেন, এক ইঞ্চি এক পা-ও কেউ এগোবেন না।''

 

তাঁর কথায়, ''তৃণমূলে মমতা ব্যানার্জির পরে যিনি দলের দায়িত্বে এলেন, তিনি দলের অভিমুখটাই পুরো চেঞ্জ করে দিলেন। মমতা ব্যানার্জি একটা কর্পোরেট চ্যাপ্টারের মধ্যে ঢুকে গিয়েছেন। আমার কাছে অন্তত ১০ থেকে ১৫ জন তৃণমূল কংগ্রেসের সাংসদের ফোন এসেছে। আমি হাতজোড় করে তাদের বলেছি, দলের সভাপতিই শেষ কথা।'' দিব্যেন্দু বলেন, ''এখানে নরেন্দ্র মোদির নেতৃত্বে ৫০ বছর বাংলায় আমরা থাকব। আমরা চাই মানুষের উন্নয়ন। না খাউঙ্গা না খানে দুঙ্গা।''  

 

এদিকে, বিজেপি বিধায়ক তথা নতুন মন্ত্রী তাপস রায় তাঁর প্রোফাইলে লিখেছেন, ''তৃণমূল কংগ্রেস ভেঙে চুরমার। মহারাষ্ট্রের মতন অবস্থা হল তৃণমূলের বিধানসভার স্পিকারের কাছে প্রায় ৫০ জন টিএমসির বিধায়ক নিয়ে পৌঁছে গেছে ঋতব্রত খেলা হবে।'' (বানান অপরিবর্তীত)। তাপস রায়ের সেই পোস্টের পরই তীব্র হয় জল্পনা।