আজকাল ওয়েবডেস্ক: বাঙালি শুটার দয়মন্তী সেনের খোঁজ মিলল অবশেষে। শনিবার ভোরে হাওড়ার রামকৃষ্ণ ঘাট থেকে তাকে উদ্ধার করে পুলিশ। তাকে নিয়ে আসা হয়েছে হাওড়া থানায়। সেখানেই চলছে জিজ্ঞাসাবাদ। শনিবারই আদালতে পেশ করা হতে পারে তাকে। মেয়েকে খুঁজে পাওয়ার পরেই দয়মন্তীর বাবা ধ্রুবজ্যোতি সেন ধন্যবাদ জানিয়েছেন পুলিশ এবং রাজ্য প্রশাসনকে। প্রাক্তন বাঙালি শুটার জয়দীপ কর্মকারও দয়মন্তীকে খুঁজে পাওয়ার খবরটি সমাজমাধ্যমে পোস্ট করে জানিয়েছেন।

পুলিশ জানিয়েছে, শনিবার ভোর ৪টে নাগাদ দময়ন্তীর বাবার কাছে একটি ফোন আসে। ফোনে বলা হয় যে, দময়ন্তীকে খুঁজে পাওয়া গিয়েছে। তারপরেই তাকে হাওড়ার রামকৃষ্ণপুর ঘাট থেকে উদ্ধার করা হয়। এরপরে তাকে নিয়ে আসা হয় হাওড়া থানায়। পুলিশ আরও জানিয়েছে, হাওড়া, শ্রীরামপুর-সহ একাধিক জায়গায়ে ঠায় নিয়েছিল বলে জিজ্ঞাসাবাদে জানিয়েছে দময়ন্তী। ওই বাঙালি শুটার পুলিশকে আরও জানিয়েছে যে সে একাধিকবার পোশাকও বদলেছে। পুলিশি জেরায় দময়ন্তী সত্যি কথা বলছে কি না তা খতিয়ে দেখছে পুলিশ। তদন্তের স্বার্থে যেখানে যেখানে সে ছিল সেই সব জায়গায় যাবে পুলিশ। জানা গিয়েছে, শনিবারই আদালতে পেশ করা হতে পারে তাকে।

হাওড়া সিটি পুলিশের ডিসিপি তৌশিফ আলি আজাহার বলেন, “দময়ন্তীকে ফিরে এসেছে। ওর বাড়িতে বাবা-মায়ের সঙ্গে একটু সমস্যা হচ্ছিল বলে বাড়ি থেকে বেরিয়ে গিয়েছিল। কোথায় কোথায় ছিল তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। আদালতে তোলা হবে তাকে।” 

মেয়েকে ফিরে পেয়ে আনন্দিত দময়ন্তীর বাবা ধ্রবজ্যোতি, “আজ ভোরে মেয়েকে ফিরে পেয়েছি। পুলিশ এবং রাজ্য প্রশাসনকে অনেক ধন্যবাদ। এর পাশাপাশি সকলকে ধন্যবাদ যাঁদের জন্য মেয়েকে ফিরে পেয়েছি।” 

তিনি আরও বলেন, “শনিবার ভোরে রামকৃষ্ণপুর ঘাটে একটি জেটি থেকে মেয়েকে খুঁজে পাই। উদ্ভ্রান্তের মতো বসেছিল। পোশাক অন্য পরেছিল। হয়তো কেউ সাহায্য করেছিলেন। পুলিশ সবটা খতিয়ে দেখছে। মেয়েকে সুস্থ অবস্থায় পেয়েছি।”

মেয়েকে খুঁজে পেয়ে কান্নায় ভেঙে পড়েন দময়ন্তীর মা। তিনি বলেন, “খুশি ভাষায় প্রকাশ করা যাবে না। আজ ভোরে একজন ফোন করে বলেন যে, আপনার মেয়েকে দেখা গিয়েছে। এদিক ওদিক ঘুরে বেরাচ্ছে। এরপরেই ওর বাবা গিয়ে মেয়েকে বাড়িতে নিয়ে আসে।”

প্রসঙ্গত, বৃহস্পতিবার সকালে মধ্য হাওড়ার উমাচরণ ভট্টাচার্য লেনের বাড়ি থেকে দুধ কিনতে বেরিয়ে আর ফেরেনি দময়ন্তী। তার কাছে কোনও মোবাইল, টাকা বা পরিচয়পত্র ছিল না। নিখোঁজ ডায়েরি করার পর বৃহস্পতিবার হাওড়া ও শ্রীরামপুর স্টেশনের সিসিটিভি ফুটেজে তাকে দেখা গেলেও, শুক্রবারের পর থেকে তার আর কোনও হদিস মেলেনি। শুক্রবার সকালে শ্রীরামপুরের মাহেশের রথের মেলায় তাকে দেখা গিয়েছে বলে খবর ছড়িয়ে পড়ে। কিন্তু পরিবারের সদস্যদের সেখান থেকে খালি হাতেই ফিরতে হয়। এরপরেই ভবানী ভবনের দ্বারস্থ হন দময়ন্তীর বাবা। সিট গঠন করা হয়। শুক্রবার দিনভর চলে তল্লাশিও। এরপরেই শনিবার ভোরে খোঁজ মিলল তার।