আজকাল ওয়েবডেস্ক: বাদুড়িয়ায় পাট চাষের জমি থেকেই উদ্ধার বস্তাবন্দি কোটি কোটি টাকা। এই ঘটনায় তীব্র চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে গোটা এলাকায়। বাদুড়িয়া পৌরসভার চেয়ারম্যান দীপঙ্কর ভট্টাচার্যকে আগেই গ্রেপ্তার করেছিল পুলিশ। তাঁর দেখানো জায়গায় এদিন খননকাজ চালায় পুলিশ। তারপরেই চক্ষু ছানাবড়া হয়ে যায় তাঁদের। একাধিক বস্তাভর্তি টাকা উদ্ধার হয়। 

স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, বুধবার চেয়ারম্যানের বাড়ির পাশের একটি পাটক্ষেত থেকে তল্লাশি চালিয়ে উদ্ধার হয় কোটি কোটি টাকা ভর্তি একাধিক ব্যাগ, বস্তা ও প্লাস্টিকের ড্রাম। প্রত্যক্ষদর্শীদের দাবি, অন্তত চারটি ব্যাগ ও একটি বস্তা ভর্তি ছিল ৫০০ টাকার বান্ডিলে। পরে আরও একটি পাটক্ষেতের মধ্যে মাটি খুঁড়ে পাঁচটি বস্তা, একটি ট্রলি ব্যাগ এবং প্লাস্টিকের ড্রাম উদ্ধার করে পুলিশ। প্রাথমিকভাবে পুলিশের অনুমান, উদ্ধার হওয়া সব ক’টিতেই বিপুল পরিমাণ নগদ অর্থ ছিল।

ঘটনার খবর ছড়িয়ে পড়তেই এলাকায় ভিড় জমায় স্থানীয় মানুষ। যদিও এখনও পর্যন্ত সরকারি ভাবে মোট উদ্ধার হওয়া অর্থের পরিমাণ জানানো হয়নি। স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, গত দু’দিন ধরে একই এলাকা থেকে বিপুল পরিমাণ সরকারি ত্রিপল ও ত্রাণ সামগ্রী উদ্ধার হচ্ছিল। উদ্ধার হওয়া নগদ অর্থ ও ত্রাণ সামগ্রীর উৎস খতিয়ে দেখা হচ্ছে বলে জানিয়েছে পুলিশ। 

স্থানীয় বাসিন্দাদের একাংশের অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরেই পৌরসভায় বিভিন্ন প্রকল্পে দুর্নীতি, ত্রাণ বণ্টনে বেনিয়ম, রাস্তা ও পানীয় জল প্রকল্পে আর্থিক অসঙ্গতির অভিযোগ উঠছিল। যদিও এই সমস্ত অভিযোগের বিষয়ে এখনও পর্যন্ত শাসকদলের তরফে কোনও প্রতিক্রিয়া মেলেনি। এদিন তল্লাশি অভিযানের সময় ড্রোনের মাধ্যমে চালানো হয় নজরদারি। অন্যদিকে, বাদুড়িয়া কাণ্ডে গ্রেফতার করা হয়েছে দীপঙ্কর আপ্তসহায়ক শামিম গাজীকে। গতকাল রাতে বাটুলডাঙ্গায় তাঁর বাড়ি থেকে তাঁকে গ্রেপ্তার করে বাদুড়িয়া থানার পুলিশ। বুধবার তাঁকে বসিরহাট মহকুমা আদলাতে পেশ করা হয়।

মঙ্গলবারই বাদুড়িয়া পুরসভার চেয়ারম্যানকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। দীপঙ্করের কম্পিউটার সেন্টার থেকে ৮০ লক্ষ টাকা উদ্ধার হয়। তাঁকে নিয়ে পুনর্নির্মাণ করতে যায় পুলিশ বাদুড়িয়ার পুরএলাকায়। জেরায় জানা যায়, মাটির তলায় পাট ক্ষেতে টাকা পোঁতা রয়েছে। বাদুড়িয়া থানার পুলিশ গিয়ে মাটি খোঁড়ে। আর তাতেই উদ্ধার হয় বস্তা বস্তা টাকা।