মিল্টন সেন, হুগলি: গৃহবধূর অস্বাভাবিক মৃত্যুকে কেন্দ্র করে ধুন্ধুমার হুগলির কাপাসডাঙায়। খুন করে ঝুলিয়ে দেওয়ার অভিযোগে চলল তাণ্ডব। ভেঙে গুঁড়িয়ে দেওয়া হল মৃত গৃহবধূর শ্বশুরবাড়ি। 

 

ঘটনাটি ঘটেছে শনিবার সকালে চুঁচুড়া থানার অন্তর্গত কাপাসডাঙ্গা এলাকায়। স্থানীয় দীপঙ্কর ব্যানার্জির সঙ্গে বছর তিনেক আগে বিয়ে হয়েছিল হাওড়ার সাঁকরাইলের মৌমিতা চক্রবর্তীর। বধূর পরিবারের অভিযোগ, বিয়ের পর থেকেই পণের দাবিতে অত্যাচার চলত শ্বশুরবাড়িতে। ব্যাপক মারধর করা হতো। আগে বেশ কয়েকবার এমনও হয়েছে, অত্যাচারে মৌমিতা তাঁর বাপের বাড়ি চলে গিয়েছিলেন। 

 

দীপঙ্কর তাঁকে বুঝিয়ে আবার নিয়ে আসে কাপাসডাঙ্গায়। কিন্তু, অত্যাচার কমেনি। শুক্রবার রাত বারোটায় মৌমিতা তাঁর বাবার সঙ্গে কথা বলেন ফোনে। এদিন সকাল ছ'টায় খবর যায়, গলায় ফাঁস লাগিয়ে মৃত্যু হয়েছে মৌমিতার। এরপরই সাঁকরাইল থেকে লোকজন কাপাসডাঙ্গায় চলে আসেন। ব্যাপক ভাঙচুর চালানো হয় শ্বশুরবাড়িতে।

 

মৌমিতার কাকিমার অভিযোগ, "বিয়ের পর থেকে বেধড়ক অত্যাচার করা হত। কয়েকবার মেটানোর চেষ্টাও হয়েছে। জিনিসপত্র দেনা পাওনা এসব নিয়ে চলত শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন। পরে আমরা জানতে পারি এটা চার নম্বর বিয়ে ছিল জামাইয়ের।" 

 

দীপঙ্কর পেশায় গাড়ি চালক। তাঁর প্রতিবেশীরাও জানান, অত্যাচার করা হতো বধূর ওপর। উত্তেজনায় ভাঙচুরের খবর পেয়ে ব্যান্ডেল পুলিশ ফাঁড়ি ও চুঁচুড়া থানার পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছয়। খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে যান চুঁচুড়া পুরসভার আট নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর নির্মল চক্রবর্তী। তিনিও জানান, এই পরিবারটির বিরুদ্ধে এর আগেও অভিযোগ উঠেছে। ছেলেটির একাধিক বিবাহ। পূর্বে একাধিকবার প্রতিবেশীদের সঙ্গেও গন্ডগোল হয়েছে। ওর আইনানুগ শাস্তি হওয়া উচিত। স্বামী সহ পরিবারের সদস্যদের আটক করেছে পুলিশ।

ছবি পার্থ রাহা।